আলু দিয়ে খাসির কলিজা ভুনা রেসিপি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকল কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্টঃ
খাসির কলিজা ভুনা রেসিপি
বরাবরের মতো আজ ও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। পোস্টটি হলো খাসির কলিজা ভুনা রেসিপি।খাসির কলিজা আমার হাজবেন্ড অনেক পছন্দ করে তাই মাঝে মাঝে নিয়ে আসে। তবে বর্তমান যে দাম খাসির মাংস বা কলিজা খাওয়া মুশকিল। তারপরে ও আগে যেমন মাঝে মাঝে খাওয়া হতো কিন্তু দামের কারণে এখন অনেক দিন পর পর খাওয়া হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এককেজি খাসির কলিজা এনেছিল, আমি অর্ধেক রান্না করেছিলাম আর অর্ধেক রেখে দিয়েছিলাম। যদিও কলিজা গুলো একটু সাইজে ছোট করা হয়েছে কারণ আলুর সাথে এমন সাইজের হলো অনেক ভাল হয়। আগে এভাবে ভুনা করেছিলাম অনেক ভালো লেগেছে তাই গতকাল ও এভাবে রান্না করেছি।সত্যি এভাবে রান্না করলে অনেক ভালো লাগে। আপনারা চাইলে এভাবে রান্না করে খেতে পারেন অনেক ভালো লাগে। তো চলুন শুরু করি আমার আজকের পোস্ট।
| কলাম | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | খাসির কলিজা | আধা কেজি |
| ২ | পিঁয়াজ কুঁচি | পরিমাণ মত |
| ৩ | আদাবাটা | ২ চামচ |
| ৪ | রসুন বাটা | ২ চামচ |
| ৫ | হলুদের গুঁড়ো | ২ চামচ |
| ৬ | মরিচের গুঁড়ো | ১ চামচ |
| ৭ | ধনের গুঁড়ো | দেড় চামচ |
| ৮ | জিরার গুঁড়ো | ১ চামচ |
| ৯ | তেজ পাতা,এলাচ,দারচিনি | পরিমাণ মত |
| ১০ | লবন | স্বাদমত |
| ১১ | তেল | পরিমাণ মত |
| ১২ | আলু | ১ টি |
ধাপ-১
প্রথমে আমি খাসির কলিজা গুলো ভাল করে কেটে ধুয়ে নিয়েছি। তারপর চুলাই একটি কড়াই বসিয়ে পানি দিয়ে দিয়েছি। পানি হালকা গরম হলে কলিজা গুলো দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ-২
এখন ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেব। তারপর পানি ফুটে আসলে,একটা ছাকনিতে কলিজা গুলো ঢেলে দেব।
ধাপ-৩
এখন চুলাই একটি কড়ায় বসিয়ে তেল দিয়ে দিলাম।তারপর এলাচ, দারচিনি ও তেজপাতা দিয়ে দেব। এখন কেটে রাখা পিঁয়াজ কুঁচি দিয়ে দেব।
ধাপ-৪
পিঁয়াজ বাদামি রঙের হয়ে আসলে আদাবাটা ও রসুন বাটা দিয়ে দেব। তারপর হলুদ গুঁড়ো, মরিচের গুঁড়ো ও ধনের গুঁড়ো দিয়ে কিছু ক্ষণ কষিয়ে নেব।
ধাপ-৫
মসলা কষাণো হয়ে আসলে সিদ্ধ করে রাখা কলিজা গুলো দিয়ে দেব। তারপর কলিজা গুলো একটু কষিয়ে কেটে ধুয়ে আলু গুলো দিয়ে আর একটু কষিয়ে নেব। তারপর ঝোলের জন্য পানি দিয়ে দেব।
ধাপ-৬
এখন ঝোল শুকিয়ে আসলে জিরার গুঁড়ো দিয়ে দেব। তারপর কয়েকটি কাঁচা মরিচ দিয়ে দেব। এভাবে হয়ে আসলে নামিয়ে নেব।
ধাপ-৭
এখন গরম গরম পরিবেশন করব। অনেক মজা হয়েছিল। আশাকরি আপনাদের কাছে ও ভাল লাগবে।
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্মনিয়ে নিজেকে ধন্যমনে করি।ধন্যবাদ বাংলা ব্লগে এই বাংলা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
আপনার রেসিপিটি দেখতে অনেক লোভনীয় হয়েছে আপু। এমনিতেও খাসির কলিজা ভুনা করে খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। রেসিপিটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয় লাগছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
আপনার কাছে ভালো লাগে জেনে অনেক ভালো লাগল, ধন্যবাদ আপু
ঠিকই বলেছেন আগে মাঝে মধ্যে খাওয়া হলেও এখন আমাদেরও অনেক দিন পর পর এগুলো খাওয়া হয়।খাসির মাংস বা খাসির কলিজা এগুলো এখন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাহিরে চলে গেছে। খুবই মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন আপনি। আপনার রেসিপির কালার দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। সুস্বাদু ও মজাদার একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সত্যি আপু এখন এগুলো খাওয়া নাগালের বাইরে, তারপরে ও খাওয়া তো তার বন্ধ করা যায় না। ধন্যবাদ আপনাকে।
বাহ! অনেক মজার করে কলিজা ভুনা করেছেন এভাবে আলু দিয়ে কখনো ভুনা করে খাওয়া হয়নি। এমনি আলু ছাড়া ভুনা করে খেয়েছি। প্রায় মানুষের কাছে কলিজা ভুনা অনেক প্রিয়। আপনি অনেক মজার করে খাসির কলিজা ভুনা করেছেন দেখে লোভ লেগে গেছে। প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দরভাবে শেয়ার করেছেন অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আলু দিয়ে ভুনা করে খাবেন অনেক মজা লাগে, ধন্যবাদ আপু।
আসলে এখন দ্রব্যমূলের এতটাই দাম যে খাসির মাংস বা কলিজা গুলো খুব বেশি খাওয়া হয় না। যাই হোক আপনি অনেক সুন্দর ভাবে খাসির কলিজা ভুনা করে দেখিয়েছেন আমাদের মাঝে ।দেখে আসলে অনেক ভালো লাগছে খেতে পারলে আরো ভালো লাগতো।
চলে আসুন আপু সেহরিতে খেতে পারবেন হা হা হা, ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করার জন্য।
খাসির কলিজা ভুনা আমার খুব পছন্দের একটি রেসিপি। গরম গরম পরোটা দিয়ে খাসির কলিজা ভুনা খেতে খুব ইয়াম্মি লাগে। আলু দিয়ে খাসির কলিজা ভুনা রেসিপির কালার দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুব সুস্বাদু হয়েছে। রেসিপির উপস্থাপনা এবং পরিবেশনাও এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে। এত লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাইয়া গরম গরম পরোটা দিয়ে খেলে অনেক মজা লাগে, ধন্যবাদ আপনাকে।
খাসির কলিজা তেমন একটা খাওয়া হয় না। পছন্দ কম করি। শুধু খাসির মাংসের রেজালা খুব পছন্দ করি।আপনিতো দেখছি খুব মজা করে আলু দিয়ে রান্না করলেন। বেশ লোভনীয় হয়েছে। ধন্যবাদ রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।
আমি ও কলিজার তুলনায় মাংস বেশি পছন্দ করি,তবে আপনার ভাই কলিজা অনেক পছন্দ করেন। ধন্যবাদ আপু।
খাসির কলিজা ভুনা পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুব কমই আছে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খাসির কলিজা ভুনা অনেক বেশি সুস্বাদু লাগে। আলু দিয়ে আপনি এই খাসির কলিজা ভুনা করেছেন দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক বেশি সুস্বাদু ছিল। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার পোস্ট পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আলু দিয়ে খাসির কলিজা ভুনা রেসিপি দেখে সুস্বাদু মনে হচ্ছে। তাই খেতে ইচ্ছা করছে, আপনার রেসিপি পরিবেশন দেখে খুবি ভালো লাগছে। শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগল, ধন্যবাদ আপনাকে।
এত সুন্দর রেসিপি করেন আর দাওয়াত করেন না তাই কি হয়। খাসির কলজি কিন্তু আমার প্রিয় খাবার । এত সুন্দর করে ধাপে ধাপে খাসির ঝাল ঝাল তরকারি রান্না করলেন আর আমার জন্য অনলাইন করতে ভুলে গেলেন । কি করে হবে বলেন তো?
আরে আপু অনলাইনে দিলে কেমন হয়? আপনি আসবেন বোনের বাড়ি কিছু জিলাপি নিয়ে হা হা হা। ধন্যবাদ আপু।
খাসির কলিজা বা অন্যান্য বডি পার্টস খুব বেশি একটা খাওয়া হয় না। তাছাড়া এই গরমে তো একদমই না। আসলে এইভাবে কখনো খাসির কলিজা ভুনা করে খাওয়া হয়নি। তবে দেখি আপনার মত করে একদিন চেষ্টা করে দেখব, তবে সেটা অবশ্যই ঠান্ডা পড়লে। কারণ এই গরমে এসব খেলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবো। তবে আপনার রেসিপি টা দেখতে কিন্তু অসম্ভব সুন্দর লাগছে আপু।
আসলে ভাইয়া গরমে এগুলো খাওয়া সত্যি ঠিক নয়, তবে বৃষ্টি তো দেশে নেই কি আর করা। এভাবে একদিন তৈরি করবেন অনেক ভালো লাগবে।ধন্যবাদ আপনাকে।