শারদীয়া কনটেস্ট ১৪৩২
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। প্রথমত বলি ধর্ম যার যার উৎসব কিন্তু সবার। আর এই কথাটাতে আমি নিজেও বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে সবার উৎসব এই আমি মনে করি সবার আনন্দ করা উচিত। এক্ষেত্রে ভেদাভেদ করা ঠিক নয়। আজকে চলে এসেছি আমাদের প্রিয় @rme দাদার দেওয়া শারদীয়া কনটেস্ট জয়েন করতে। সত্যি বলতে আমাদের এলাকাতে বেশি পুজো প্যান্ডেল নেই। হাতেগোনা কয়েকটা রয়েছে তার মধ্যে, কিছু প্যান্ডেল অনেক দূরে করা হয়েছে। আমাদের কাছাকাছি বলতে একটা মাত্র প্যান্ডেল রয়েছে। চেষ্টা করেছি আমি আর আমার হাজব্যান্ড একসাথে গিয়ে পুজো প্যান্ডেল গুলো দেখার এবং ফটোগ্রাফি করার। আমরা দুজনে অনেকটা দূরে গিয়ে এই ফটোগ্রাফি গুলো করেছিলাম। কেন জানিনা আমার কাছে মনে হয়েছিল দাদা প্রতিবারের মতো এবারেও কনটেস্ট দিবে। তাই ভাবলাম এবারে পুজোর প্যান্ডেল গুলো একটু ঘুরে ঘুরে দেখবো আর কিছু ফটোগ্রাফি করবো। ঠিক সেই মতোই কয়েকটা পূজো প্যান্ডেল ঘুরেছিলাম। আর চেষ্টা করেছি কিছু ফটোগ্রাফি কালেকশন করার। সেগুলোই আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো। সত্যি বলতে আমি চেষ্টা করেছি কয়েকদিন গিয়ে ফটোগ্রাফি গুলো করার। তবে কোন দিন কি পুজো এই ব্যাপারটা একটু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। জানিনা কতটুকু সঠিক হবে। কারন আমার তো ঠিক জানা নেই আসলে পুরো বিষয়গুলো। কিন্তু সবগুলো পূজা প্যান্ডেল দেখলাম খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। অনেক আলোকসজ্জা এবং অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করে সাজানো হয়েছে। আর আমার কাছে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে অনেক বেশি ভালো লাগে। তাই আমি আমার মত করে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করলাম। আশা করি আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের ভাল লাগবে।
সপ্তমীর দিন পুজো দেখা,
প্রথম,
এই পূজাটা আমাদের দাগনভূঞা কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছর এই দুর্গা মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় অনেক সুন্দর ভাবে। মন্দিরের সামনে পুরো রাস্তা জুড়ে লাইটিং ডেকরেশন করা হয়। এবারেও করা হয়েছে। আর মেইন রোডের সামনে অনেক বড় একটা গেইট তৈরি করা হয়। আবার মন্দিরের সামনেও দেখতে পাচ্ছেন অনেক সুন্দর একটা ডেকোরেশন করা হয়েছে। মণ্ডপের ভিতরেও অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। উপরের দিকে অনেকগুলো ঝাড়বাতি দিয়ে সুন্দর সাজানো হয়েছে। আর এখানে দেখলাম অনেক ধরনের আলোকসজ্জা দিয়ে ডেকোরেশন করা হয়েছে। তাই তো দেখতে একবার এক কালার মনে হয়। দাগন ভূঁইয়ার আশেপাশে সবাই এখানেই আসে দুর্গাপূজা উৎসব দেখতে। রাতের দিকে আবার অনেক নাচ গানের আয়োজন করা হয়। এই পুজো মণ্ডপ আমাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়।
থিম: তেমন কোন থিম ছিল না।
স্থান: দাগনভূঞা, ফেনী।
ফটো তোলার সময়: 7 pm ।
তারিখ: 29/9/25
ক্যামেরা মডেল : realme 7i
ফটোগ্রাফার:@tasonya
দ্বিতীয়,
আমাদের এখানে খুব বড় করে পূজো না হলেও কিছুটা আয়োজন করা হয়। এটা হচ্ছে রামানন্দপুর শ্রী শ্রী কালীপুজো বাড়ির দুর্গাপুজা। আমি যতটুকু দেখেছি আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তাদের বাড়ি কেন্দ্রিক একটা পুজা মন্ডপ। এখানে মূলত একটা কালীমন্দির রয়েছে। কালী মন্দিরের পাশেই পূজা মন্ডপ সাজিয়েছে। এখানে পূজা উপলক্ষে অনেক সুন্দর একটা গেইট সাজানো হয়েছে। আবার কালী মন্দির এবং চারপাশের জায়গাগুলো অনেক সুন্দর আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে। আর দেখতে পেলাম মন্দিরের পাশেই খুব সুন্দর করে একটা মন্ডপ সাজানো হয়েছে। সামনে এসে বসার জন্য বেশ কিছুটা জায়গাও ছিল। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ফটোগ্রাফি থেকে সামনাসামনি দেখতে অনেক ভালো লেগেছে। ছোট হলেও খুব সুন্দর ভাবে তারা সাজিয়েছে।।
থিম: তেমন কোন থিম ছিল না।
স্থান: ফাজিলের ঘাট, দাগনভূঞা, ফেনী।
ফটো তোলার সময়: 8 pm ।
তারিখ: 29/9/25
ক্যামেরা মডেল : realme 7i
ফটোগ্রাফার:@tasonya
অষ্টমীর দিন পুজো দেখা,
এই পূজাটা আমাদের দাগনভূঞা কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু এটা আমাদের বাড়ি থেকে খুব বেশি দূরে নয়, তার জন্য এখানে দুইদিন গিয়েছিলাম দেখতে। দ্বিতীয় দিন একটু রাত করে গিয়েছিলাম, শুনেছি এখানে নাচ গানের অনুষ্ঠান হয়। সেদিন বিয়ে ঠিক সেটাই দেখতে পেলাম, অনেক সুন্দর আয়োজন করা হয়েছিল। তখন কিন্তু অনেক মানুষের ভিড় ছিল। এখানে প্রতিবছর এই দুর্গা মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা । মন্দিরের ভেতরে খুব সুন্দর ভাবে ডেকোরেশন করে সাজানো হয়। আবার বাইরের দিকটাও খুব সুন্দর ভাবে ডেকোরেশন করে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে এর ভেতরে প্রতিমা গুলো ও খুব সুন্দর সাজানো হয়েছিল। আর রাতের বেলায় অনেক আলো দিয়ে সাজানো বলে বেশি ভালো লেগেছে। তাছাড়া অনেক মানুষের ভিড়ে অনেক সুন্দর লেগেছে আমার কাছে।
থিম: তেমন কোন থিম ছিল না।
স্থান: দাগনভূঞা, ফেনী
ফটো তোলার সময়: 9 pm ।
তারিখ: 30/9/25
ক্যামেরা মডেল : realme 7i
ফটোগ্রাফার:@tasonya
নবমীর দিন পুজো দেখা,
এটা ছিল সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির দুধ মুখা কতৃক আয়োজিত দুর্গাপুজো। আমি যতটুকু শুনেছি এটা দুধ মুখা কালীবাড়ির পূজা মন্ডপ। তবে এখানে দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন এসেছে। আমার কাছে এই পূজা মন্ডপ অনেক বেশি সুন্দর লেগেছে। বিশেষ করে প্যান্ডেলের উপরে দেখলাম খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এই সাজানোর ডেকোরেশন টা অনেক সুন্দর হয়েছে। আবার মন্ডপের উপরেও অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে। মণ্ডপের উপরে এবং চারপাশে সুন্দর একটা ডেকোরেশন করা হয়েছে। চোখের সামনে এত সুন্দর সুন্দর ডেকোরেশন দেখলে বেশ ভালোই লাগে। আবার অনেক বড় একটা গেইট ডেকোরেশন করা হয়েছে। এই পূজা মন্ডপ একদম মেইন রোডের পাশে। এই ক্ষেত্রে এখানে যেতে এবং দেখতে সুবিধা হয়েছে।
থিম: তেমন কোন থিম ছিল না।
স্থান: সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির, দুধ মুখা, দাগনভূঞা, ফেনী।
ফটো তোলার সময়: 5.30pm।
তারিখ: 1/10/25
ক্যামেরা মডেল : realme 7i
ফটোগ্রাফার:@tasonya
দশমীর দিন পুজো দেখা,
এই পূজা মণ্ডপ শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, কলেজপাড়া কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে। এখানে প্যান্ডেলের উপরে ডেকোরেশন দেখলাম খুব সুন্দরভাবে কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছে। এই ডেকোরেশনটা আমার কাছে অনেক বেশি সুন্দর লেগেছে। তাছাড়া দেখলাম মেইন রোড থেকে একদম ভেতরে পূজা মন্ডপ পর্যন্ত লাইটিং ডেকোরেশন করা হয়েছে। আর ভেতরের ডেকোরেশনটাও আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এই পুজোর প্রতিমাগুলো খুব সুন্দর ডেকোরেশন করে সাজানো হয়েছে। সবমিলিয়ে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এই পূজা মন্ডপ আমাদের এলাকা থেকে অনেকটা দূরে। তাই সেখানে যেতে একটু বেশি কষ্ট করতে হয়েছিল। তবে এত সুন্দর আয়োজন দেখতে পেয়ে বেশ ভালো লাগলো।
থিম: তেমন কোন থিম ছিল না।
স্থান: শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, কলেজপাড়া, বসুরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী
ফটো তোলার সময়: 6.00 pm।
তারিখ: 2/10/25
ক্যামেরা মডেল : realme 7i
ফটোগ্রাফার:@tasonya
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

বাহ আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে খুবই সুন্দর ভাবে সপ্তমী দিন থেকে দশমী দিন পর্যন্ত প্রত্যেকটি দিনের পূজোর ছবি শেয়ার করেছেন দেখে সত্যিই বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাবে পোস্ট লিখে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য।
আমার এই প্রতিযোগিতার পোস্ট আপনার ভালো লেগেছে শুনে খুশি হলাম।
https://x.com/TASonya5/status/1975255801649635389?t=FzLukxbxAuSVtRGAXLgwPw&s=19
https://x.com/TASonya5/status/1975256473149292824?t=Q2lYQaHB0hfgMK9FIZJEBA&s=19
https://x.com/TASonya5/status/1975278745700475018?t=VSZhJOJYMZ9R6NMxa2aZOA&s=19