শিশুদের আচরণঃ পর্ব ১ - পরিবেশের প্রভাব।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আমি শিশুদের নিয়ে একটি সিরিজ শুরু করছি। যার প্রথম পর্ব থাকছে আজ। যেখানে আমি আলোচনা করব, শিশুদের উপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে।
শিশুরা যখন বড় হয় তখন তারা আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে তাদের স্বভাব পেয়ে থাকে। সাধারণত জন্মের পর থেকে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই শিশুরা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের স্বভাবের প্রায় ৯০ শতাংশ আয়ত্ত করে। আপনি হয়তো বিষয়টি মানতে চাইবেন না কিন্তু মনোবিজ্ঞান এই কথাটি বলেছে।
তাই আপনি মানুন আর না মানুন এটি সত্য কথা। শিশুদের উপর পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। যার কারনে আমরা যদি কাউকে খারাপ আচরণ করতে দেখি, কথাবার্তা গালাগালি দেখি, অভদ্র মনে হয়, তখন আমরা তাকে সম্বোধন করি বস্তির ছেলে হিসেবে। এমন না যে বস্তির সবাই খারাপ। কিছু আছে ভালো যাদেরকে গোবরে পদ্মফুল হিসেবে চিহ্নিত করা উচিৎ।
আসলে সেখানকার পরিবেশই এমন যেখান থেকে আসলে শিশুরা ভালো কিছু শিখতে পারে না। সেখানে সব সময় ঝগড়া লেগে থাকে, একজন আরেকজনকে গালাগালি করে, হাতাহাতি হয়। পুরুষরা নারীদেরকে নির্যাতন করে এবং শিশুরা সেটি দেখেই বড় হয় এবং এই বিষয়গুলোকে তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়। সেখানে অনেক চুরি হয় এবং বস্তির লোকেরা নেশা করে, ছিনতাই করে এবং অন্যান্য অপরাধের সাথেও জড়িত থাকে। যার কারণে যেই শিশুটি সেখানে বড় হয় সে এটিকে খুবই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়।
অন্যদিকে ভালো পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু সে তুলনামূলক যথেষ্ট ভালো হয়। তার কথাবার্তা এক ধরনের মাধুর্যতা থাকে, আচরণে সংযম থাকে। অবশ্য এমন নয় যে ভালো পরিবেশে থাকলেই সে ভালো হবে। এখানেও কিছু কিছু শিশুরা বড় হয়ে খারাপ হয়ে যায় এবং এর জন্য তাদের পরিবারও দায়ী থাকে। আমি দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করব।