"নীলক্ষেত থেকে ক্যালকুলেটর কেনার অভিজ্ঞতা"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১১ ই ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আমি আজকে আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছে। আমি কিছুদিন আগে ঢাকার নীলক্ষেত থেকে একটি নতুন ক্যালকুলেটর কিনেছি তাই ভাবলাম ক্যালকুলেটর কেনার অভিজ্ঞতাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক।
কয়েকদিন আগে আমার একটা পুরাতন ক্যালকুলের ছিল সেটিং হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে যায়। তাই আর কি কিছু কিছু গনিত সমাধান করার জন্য ক্যালকুলেটর টা খুবই অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। বর্তমানে একটু দামি ক্যালকুলেটরগুলোতে মুহূর্তের মধ্যেই অনেক জটিল ম্যাথ সমাধান করে ফেলা যায়। কিন্তু সেটা হাতে কোন করতে গেলে অনেক সময় ব্যয় হয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটা জিনিসই দিনে দিনে আধুনিকায়ন হচ্ছে। মানবজাতি যেটা তাদের প্রয়োজন মনে করছে সেটা কোন না কোনভাবেই আবিষ্কার করে ফেলছে। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের প্রত্যেকটা জিনিসই আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যদি আমরা সেটা সঠিক ব্যবহার করি।
আসলে কিছু কিছু ম্যাথ আছে সেগুলো সমাধান করার জন্য ক্যালকুলেটর খুবই জরুরী। তাই ওই ক্যালকুলেটার টা নষ্ট হওয়ার কয়েকদিন পরেই বের হলাম ক্যালকুলেটর কেনার জন্য। আমরা যেহেতু মোহাম্মদপুরে থাকি তাই মোহাম্মদপুরের কয়েকটি দোকানে Fx-EX 991 Plus ক্যালকুলেটরের দাম জিজ্ঞাসা করলাম। মোহাম্মদপুরের প্রত্যেকটা দোকানে ক্যালকুলেটরের দাম যেটা তার থেকে দ্বিগুণ বেশি বলতেছিল তাই আর কি আমি এদের সামনে দাম হলেও সাহস পাচ্ছিলাম না।
তারপরেও আমি কয়েকজন দোকানদারের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে সর্বনিম্ন টা কত দামে বিক্রি করতে পারবেন আপনারা তখন তারা বলল ৮০০ টাকার কমে বিক্রি করে না। তাই আর কি আমি প্রত্যেকটা দোকান হতে দাম না বলে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। কয়েকটি দোকানে দামটা শুনে আমি আর আমার বন্ধু রাহুল চলে গেলাম নিউমার্কেটে এলাকার নীলক্ষেতে। তারপরে নীল খেতে গিয়ে প্রথমে একটি দোকানে গিয়ে একই মডেলের ক্যালকুলেটরের দাম জিজ্ঞাসা করলাম তারা যে নাম বলল সেটা শুনে তো আমি আরো বেশি অবাক হয়ে গেলাম। একই ক্যালকুলেটর কিন্তু তারা দাম বলছে ৯৫০ টাকা তখন মনে মনে ভাবতেছিলাম যে মোটরসাইকেলের তেল খরচ করে নীলক্ষেত সেটাই হয়তো ভুল হয়েছে।
কারণ মোহাম্মদপুর এর থেকে কম দামে দিতে চাচ্ছিল কিন্তু সেটা নেইনি। কিন্তু আমার জানামতে এই ক্যালকুলেটরের দাম হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হবে। কিন্তু এত বেশি দাম বলতে আমিও দাম বলতে আর সাহস পাচ্ছিলাম না। কিন্তু দোকানদারের এক্সপ্রেশন দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে ওরা এই ক্যালকুলেটরটা যেভাবেই হোক আমার কাছে বিক্রি করতে চাই। কিন্তু আমার ওদের কাছ থেকে এই ক্যালকুলেটর কেনার প্রতি কোন ইচ্ছাই ছিল না কারন কোন জিনিসের অতিরিক্ত দাম বললে আমার এমনিতেই একটু রাগ হয়ে যায়। কিন্তু বারবার রিকোয়েস্ট করার জন্য আমি একবারে ৫০০ টাকা দাম বলি এবং এটাও বলে দেই যে এর থেকে এক টাকাও বেশি দিয়ে আমি এই ক্যালকুলেটর টা নিতে পারব না। কিন্তু আমার ৫০০ টাকা দাম বলে তাই তারা একটু তামাশা করে বলতেছিল যে ৫০০ টাকা দিয়ে আর ক্যালকুলেটর হবে না এবং আমাকে এমন এমন কথা বলতেছিল যে আমি যাতে রেগে গিয়ে ৫০০ টাকা থেকে আরও বেশি দাম বলি আসলে এটা ওদের বিজনেস পলিসি।
অনেকক্ষণ ধরে আমাকে আরো আরেকটি নাম বলানোর জন্য রিকোয়েস্ট করতেছিল ওরা কিন্তু আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে ওরা এই দামে আমাকে ক্যালকুলেটর টা দিয়ে দেবে তাই আমিও আর এর বেশি একটিও দাম বলিনি। তারপর যখন ক্যালকুলেটর টা দিয়ে দিল তখন বলল যে তাদের নাকি ৫০ টাকা লস হয়েছে সেটা শুনে আমার আরো বেশি হাসি পাচ্ছিল। আর মনে মনে ভাবতেছিলাম হয়তো ব্যবসা করতে হলে তাজা মিথ্যা কথাই বলতে হয়। কারণ ক্যালকুলেটর তো আর কাঁচামাল নয় যে মাঝে মাঝে লসেও বিক্রি করা লাগবে না হলে পচে যাবে। যাইহোক ৫০০ টাকা দিয়ে ক্যালকুলেটর টা কিনতে পারে আমিও বেশ খুশি হয়েছিলাম। তারপর বাসায় এসে ক্যালকুলেটারটা খুলে কয়েকটি ছবি তুললাম ছবি তোলা শেষ করে ক্যালকুলেটর দিয়ে ম্যাথ সমাধান করতে বসে গেলাম। এই ক্যালকুলেটর টা আমার কাছে বেশ ভালই লেগেছে।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ১৭ জানুয়ারি |
| লোকেশন | মোহাম্মদপুর,ঢাকা |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

আসলে ব্যবসায়ীদের বিজনেস টাই এমন যে তারা যেকোনো জিনিসের মূল্য দুই থেকে তিন গুণ বেশি বলে থাকে। যারা কেনাকাটায় একেবারে পারফেক্ট তারা কিন্তু ঠিক দামে নিয়ে আসে। দোকানদাররা তাদের সাথে তর্ক করেও পারেনা। ক্যালকুলেটর গুলো কিন্তু এমনিতে অনেক ভালো। আপনি অবশেষে ৫০০ টাকা দিয়ে ক্যালকুলেটরটি নিয়ে আসতে পেরেছেন এটা জেনে ভালো লাগলো।
অবশ্যই ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন। সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
যাইহোক একটা জায়গায় ৮০০ টাকা দাম বলেছিল কিন্তু সেখান থেকে নীলক্ষেত গিয়েছিলেন আবারো কেনার জন্য ভালোই হয়েছে। তবে প্রথমে তো আপনার 950 টাকার কথা শুনে একেবারে অবাক হলাম। আরো অবাক হলাম শেষ পর্যন্ত আপনি ৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে পেরেছেন। আসলে বেশিরভাগ দোকানদারেরা এই ধরনের টেকনিক ইউজ করে। তবে শেষ পর্যন্ত আপনি কিনতে পেরেছেন এটাই ভালো লেগেছে।
অবাক তো আমিও হয়েছি অপু। সুন্দর গঠনমূলক মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ক্যালকুলেটর ছাড়া স্টুডেন্টরা এক মুহুর্ত চিন্তা করতে পারেনা। তাছাড়া অফিস, ব্যবসার কাজে খুব ব্যবহৃত হয়। আপনার ক্যালকুলেটর এর সেটিং চেঞ্জ হয়ে যাওয়াতে ভালই বিরম্বনাতে হয়ে পড়েছেন। যেখানে যেটা বেশি পাওয়া যায় সেই জায়গা ছাড়া অন্য জায়গা থেকে কিনলে একটু বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। মোহাম্মদপুর দাম বেশি দেখে আপনি নীলক্ষেত গিয়ে ভালই করেছেন ৮০০ টাকার ক্যালকুলেটর ৫০০ টাকায় কিনে নিয়ে এসেছেন। শেষ পর্যন্ত অল্প দামে কিনতে পেরেছেন জেনে ভাল লাগল। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনি সত্যি বলেছেন ভাই আসলেই কল্পনা করা যায় না। অল্প দামে কিনতে পারাতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগছিল। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ব্যবসায়ের এই পলিসিটা আমার কাছেও খুব বেশি হাস্যকর মনে হয়, যখন এরকম জিনিস গুলোর ক্ষেত্রে তারা বলে লসে বিক্রি করছে। আসলে এভাবে তারা যার কাছ থেকে যত নিতে পারে তা দিয়েই তো চলছে। তবে আপনি যে ৫০০ টাকা দিয়ে এটা নিতে পেরেছেন সেটা দেখে ভালো লাগছে। এমনিতেই এই ক্যালকুলেটরের দাম একটু বেশিই পরে। কারণ সবাই এখন এগুলাই ব্যবহার করতে চায় সে জন্যই ব্যবসায়ীরা এর দাম কমাতে চায় না। যাইহোক নিজের সাধ্যমত ক্যালকুলেটর কিনতে পেরেছেন এটাই তো সবচেয়ে বড় বিষয়। এটা আরো ভালো লাগলো যে এই অনুভূতিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পেরে আমিও খুশি হয়েছি সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আমার মন্তব্যের গোছালো একটি ফিডব্যাক দেয়ার জন্য।
দৈনন্দিন দ্রব্যমূল্যের দাম যে হারে বাড়ছে জীবনযাপন করাটা অনেকটা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে আপনার ক্যালকুলেটর কেনার অভিজ্ঞতাটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে এগোচ্ছে উপস্থাপন করেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর গঠনমূলক মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই। ভাই আপনি একই কমেন্ট দুইবার করেছেন বিষয়টি একটু দেখবেন দয়া করে প্লিজ।