তোকে খুব মিস করি "সার্থক" ভাই
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ২৩ ই নভেম্বর, বুধবার, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমি প্রায় চার মাস হল বাড়ি থেকে ঢাকাতে এসেছি লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যে। পূজার ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলাম, বাড়ি থেকে ঢাকায় আসা প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল। আমাদের বাড়িতে একটি রাজপুত্র আছে যে কিনা বাড়ি সব সময় মাতিয়ে রাখে কি হলো আমার কাকাতো ভাই "সার্থক"।
আমাদের পরিবার অনেক বড় একটি পরিবার। আমার বাবা, কাকা এবং পিসিমণিরা দিয়ে মোট নয় ভাই বোন। কাকা এবং পিসিমণিদের ছেলেমেয়ে নিয়ে আমরা মোট বিশ ভাই-বোন। আর আমাদের পরিবারের সবাইকে মাতিয়ে রাখে ছোট্ট একটি লোক আর সেটা হল "সার্থক"। আমার কাকার পরপর দুটি সন্তান মারা যাওয়ার পর ওর জন্ম আর ওর জন্মের কিছুদিন আগেই আমার দাদু মারা গিয়েছিল তাই সবার থেকেও একটু বেশি আদর পায়।
আমাদের বাড়িতে ২০-২৫ জন মানুষ সব সময় থাকেই। আর এতগুলো মানুষের সবার মধ্যমণি হয়ে থাকে সার্থক। আমার কাকার পরপর দুটি সন্তান মারা যাওয়ার পর স্বার্থক জন্ম গ্রহণ করেছে, আর আমার দাদু মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই ওর জন্ম তাই সবাই তাকে একটু বেশি ভালোবাসে। সার্থক সবসময় নিজে হাসি খুশি থাক এবং সবাইকে হাসি খুশি রাখে এটা ওর একটা বড় গুন।
এর আগে আমাদের বাড়ির কোন বাচ্চা শিশুকে এতটা ভালোবাসা পাওয়া আমি দেখিনি। আর আমার কাছে তো সবথেকে প্রিয় এবং আমাকেও খুব ভালোবাসে। অনেকদিন হলো ঢাকাতে আসছি খুবই মিস করি ওকে। মাঝে মাঝে অবশ্য ভিডিও কলে কথা বলি তারপরেও কাছে নিয়ে আদর করতে ইচ্ছা করে। বাড়ি থেকে পড়াশোনার জন্য ঢাকা আসার পর মাত্র একবার বাড়ি গিয়েছি তিন মাসে। আসলে ঢাকা থেকে বাড়িতে যাওয়া আসা করতে অনেক কষ্ট হয় আর অনেক ব্যয়বহুলও বটে।
বাড়ি থেকে যেদিন পড়াশোনা করার জন্য ঢাকায় আসছিলাম আসার আগে স্বার্থকের সাথে সেলফি উঠে ছিলাম মোবাইলে, কারণ আমি জানতাম ঢাকাতে আসার পর আমি ওকে খুব মিস করবো। আর তখন ও হালকা হালকা কথা বলা শিখেছিল আর সেই আধো আধো কথাগুলো এখনো মনের মাঝে ভাসে। আমি যখন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম তখন ওর মা বলতেছিল যে দাদা কোথায় যাচ্ছে রে বলোতো সার্থক ? তখন উত্তর দিয়েছিল দাদা, ব্যাগ, বই ঢাকা। উত্তরটা অবশ্য আমাদেরকে বুঝে নিতে হয়েছিল।
অনেকদিন পরে পূজার ভিতর ঢাকা থেকে বাড়িতে পা রাখতেই ওর সাথে দেখা হয়ে গেল, আর সাথে সাথেই কোলে নিয়ে নিলাম। তখন মোটামুটি বেশ ভালই কথা বলতে শিখে গিয়েছিল। আমাকে দেখে খুবই খুশি হয়েছিল। আর বলছিল যে দাদা আসছে, দাদা আসছে। এই কথাগুলো শুনে আমার খুবই ভালো লাগছিল তখন। এতটা শান্তশিষ্ট নম্র ভদ্র শিশু আমি এর আগে কখনো দেখিনি। ওকে যেখানেই বেড়ানোর জন্য নিয়ে যায় না কেন সবাই ওকে আদর করে এবং সবাই ওকে কোলে নেয় আর সার্থক ও নির্দ্বিধায় সবার কোলেই মানিয়ে নেয়।
ওকে যেখানে বেড়ানোর জন্য নিয়ে যেতাম যাওয়ার পরে মায়ের কথা একদম ভুলে যেত। অন্য শিশুদের তুলনায় বেশ ভালই পার্থক্য লক্ষ্য করতাম ওর ভিতর। আর ও মোটরসাইকেল উঠতে খুবই বেশি পছন্দ করত বাড়িতে যখন ছিলাম আমি তখন বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল বের করলেই জামা প্যান্ট পরে একদম রেডি হয়ে মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসতো তখন আর কি করার ওকে না নিয়ে আর পারতাম না। সবাই ওর জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করবেন ও যেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকে এবং বড় হয়ে যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| লোকেশন | খোকসা,কুষ্টিয়া |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

সার্থকের ফটোগ্রাফি গুলো এবং মায়া ভরা দৃষ্টি গুলো দেখে সত্যিই মনটা ভরে গেল। আর অত বড় একটা পরিবারের কে মাতিয়ে রাখার জন্য এই একটা মানুষই যথেষ্ট। আসলে ভালোবাসার মানুষগুলো এমনই হয়। স্বার্থকের প্রতি আপনার ভালবাসা দেখে খুবই ভালো লাগছে। ছোট বাচ্চাদের আমারও খুব ভালো লাগে। আপনার পরিবার সম্পর্কে অনুভূতিগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।
আমার কাছে একসাথে থাকা এত বড় পরিবার ভীষণ ভালো লাগে। আসলে এখন তো সচরাচর এত বড় পরিবার দেখাই যায় না। সবাই একসাথে থাকার আনন্দ কিন্তু সবাই বুঝে না। আপনাদের সব থেকে ছোট সদস্য সার্থককে দেখে ভীষণ মিষ্টি লাগলো। বিশেষ করে ওর চেহারায় একটা আলাদা মায়া রয়েছে। যেটা কিনা সবাইকে আকৃষ্ট করবে। তবে আপনি পড়ালেখা করার জন্য ঢাকায় চলে এসেছে এইজন্য, ওকে মিস করছেন এটা কিন্তু স্বাভাবিক। আপনার কথাগুলো পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
হ্যাঁ আপু বড় পরিবারের সব সদস্য একসাথে থাকার একটি মজা আছে। আর ছোটদের প্রতি ভালোবাসা সবারই একটু বেশিই থাকে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।