কেন আমি বাণিজ্য মেলার চেয়ে বই মেলায় বেশি যেতাম!
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনারা? আশা করি ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করব কেন আমি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় না গিয়ে একুশে বইমেলায় বেশি যেতাম সেই গল্প।
আমি যখন অনার্সে ভর্তি হই, তখন আমার ক্যাম্পাস ছিল ফার্মগেট। কিন্তু আমি থাকতাম মোহাম্মদপুর। ফেসবুকে তখন বেশ কয়েকটি বইয়ের গ্রুপে আমি যথেষ্ট একটিভ ছিলাম। সেই সুবাদে কিছু বই পড়ুয়ার সাথে আমার বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে। অপরদিকে আমাদের কলেজের ফ্রেন্ড সার্কেল বেশিরভাগই মোহাম্মদপুর, তেজকুনি পাড়া, তেজতুরি পাড়া, বনানী, শেওড়াপাড়া এবং কাজীপাড়ায় থাকতো। আমাদের সকলের আড্ডার স্থান ছিল জিয়া উদ্যান তথা চন্দ্রিমা উদ্যান। জিয়া উদ্যানের ঠিক পাশেই অবস্থান ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র তথা চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র।
এই চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মাঠেই তখন প্রতিবছরের জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হত। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় বাংলা একাডেমির ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজিত হতো একুশে বইমেলা। পরপর দুটি মাসে দুটি ভিন্ন রকম মননশীল মানুষদের জন্য দুই রকমের মেলা বসতো।
এদুটি মেলার মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি গিয়েছি বইমেলায়। এমন না যে বইমেলা আমার খুব কাছে ছিল। আসলে দুটি মেলাই কাছে ছিল। আমরা যখন ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিতাম, তখন মনেহতো চলে যাই বাণিজ্য মেলায়। যারা বাণিজ্য মেলায় গিয়েছে, তারা জানে বাণিজ্য মেলায় ঢুকার জন্য টিকিটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের সে খরচটুকুও ছিল না। কারণ বাণিজ্য মেলায় টিকিটের টেন্ডার যিনি নিতেন তিনি ছিলেন আমাদের কলেজেরই এক বড় ভাই। যারা টিকিট চেক করতো তাদের বেশিরভাগই আমাদের কলেজে হয় আমাদের সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব; না হয় বড় ভাই অথবা ছোট ভাই। তাই বিনা টিকিটে আমরা ভিতরে যাওয়ার সুযোগ পেতাম। অবশ্য বইমেলার পুরোটাই দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি। টিকিটের প্রয়োজন নেই।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছিল একটি কোলাহলপূর্ণ জায়গা। চিৎকার-চেঁচামেচি, হাউ-কাউ, ধুলোবালি। সবকিছুতেই একাটা গোলমাল অবস্থা। গেলে মনেহয় কোন স্থবিরতা নেই। বাণিজ্য মেলায় মারামারি একটি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গায় ঝগড়া, মারামারি লেগেই থাকে। অপরদিকে, বইমেলার পরিবেশ ছিল বেশ মনোরম, শান্ত, স্নিগ্ধ। গেলেই মন ভালো হয়ে যায়।ল এমন একটা পরিবেশ। বই মেলায় যেসব দর্শনার্থী আসে, তারা জেনে বুঝেই আসে। ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে আসে। মেয়েরা শাড়ি পড়ে আসে। তাদের মাথায় থাকে ফুলের মুকুট। দেখতে বেশ ভালো লাগে।
বাণিজ্য মেলায় কেউ কিছু কিনুক বা না কিনুক। খুব দামাদামি করে। আমার এক বন্ধু ছিল যাকে আমাদেরই খরচ চালাতে হতো; সেও একবার একটি ইন্ডিয়ান শপে গিয়ে ১২ লক্ষ টাকার একটি খাট আড়াই লক্ষ টাকায় মুলোমুলি করে এসেছে। কিন্তু বইমেলায় দামাদামির সুযোগ নেই। বই পড়ুয়ারাও বই নিয়ে দামাদামি করে না। কারণ যারা বই পড়ে তারা জানে এবিষয়ে। খুব চুপচাপ কথা হয়। বইগুলো দেখে, ভূমিকা দেখে, লেখকের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। ভালো লাগলে নিয়ে যায়, না লাগলে রেখে যায়। এখানে যেমন উচ্চ হারে দাম হাঁকানো হয় না, তেমনি দামাদামিরও কোন সুযোগ নেই। একটি নির্দিষ্ট হারে মেলা উপলক্ষে প্রকাশনীগুলো পাঠকদেরকে ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে। এজন্য দামাদামিরও প্রয়োজন হয় না। এই সুযোগটা বাণিজ্য মেলায় নেই। যে যাকে পারে, যেভাবে পারে, দামাদামি করছে, গালাগালি করছে, হাতাহাতি করছে। যার কারণে বাণিজ্য মেলা আমাকে কখনোই খুব একটা টানেনি। কিন্তু ঢাকা শহরে থাকতে বই মেলায় গিয়েছি বহুবার।
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে ভাইয়া বই পুড়ুয়া লোকজন বই দেখলে না কিনে থাকতে পারে না। যাইহোক আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো।আপনি নিশ্চয় অনেক মজার মজার বই পড়েন। ধন্যবাদ আপনাকে
ঠিক বলেছেন। বই পড়য়ারা বই দেখলে না কিনে থাকতে পারেনা। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আপনার অভিজ্ঞতা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইমেলার স্নিগ্ধ পরিবেশ ও পাঠকদের মননশীলতা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়, যা বাণিজ্য মেলার কোলাহল থেকে ভিন্ন। আপনার মতো অনেকেই বইমেলার শৃঙ্খলা ও জ্ঞানের আবহে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্মৃতিচারণ অসাধারণ লাগলো।শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
খুব মূল্যবান মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
বইমেলা জায়গাটা হলো বিদ্যানদের জায়গা। সাধারণত ওটাকে জ্ঞানের মেলা বলাও চলে। আর বানিজ্য মেলার কোন কাজ আমি দেখিনা। হুদায় টিকিট কেটে টাকা দিয়ে যায় মানুষ। বইমেলা যেভাবে আমাকে টানে বানিজ্য মেলা একেবারেই টানতে পারে না।
একদম ঠিক বলেছেন ভাই। এ কারণে আমি নিজেও বাণিজ্য মেলা খুব পছন্দ করি না। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।