রক্ত দান
আমি রাহুল হোসেন। আমার ইউজার নেমঃ@mrahul40।বাংলাদেশ থেকে।আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
- রক্ত দান
- ০২,আগস্ট ,২০২৫
- শনিবার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসি কেমন আছেন আপনারা? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন। আজকে আপনাদের মাঝে আবারো হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব রক্তদান নিয়ে কিছু কথা। রক্তদান এমন একটি মহৎ কাজ যা নিজের রক্ত দিয়ে অন্য কারো জীবন বাঁচান এর থেকে ভালো কাজ আর কি হতে পারে বলুন? যে রোগীর যখন রক্ত লাগে সে রোগের লোকজনে বুঝে রক্ত ম্যানেজ করা কত কষ্ট। যদি ঠিকঠাক মত এবং সময়মতো রক্ত খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে রোগীর অবস্থা অনেক বেশি খারাপ হয়ে যায়। তখন তারা অনেক বেশি টেনশন এর মধ্যে পড়ে যায়। আর আমরা যারা রক্তদান করি তারা সময় পেলেই কোন রোগের লোকজনের ফোন পেলেই ছুটে চলে যায় শরীরের রক্তদান করার জন্য।
এটা একটি ভালো লাগার কাজও বটে আমার রক্ত দ্বারা অন্য কারো জীবন বাঁচানো এর থেকে আর ভালো কাজ কি হতে পারে। আর এই রক্তদান গুলো সব থেকে বেশি করে ছাত্রসমাজ। তারা কোন কিছু না ভেবেই চলে যায় রক্ত দেওয়ার জন্য। তারা নিঃস্বার্থভাবে কাজগুলো করে থাকেন। রক্তদানের জন্য অনেক গ্রুপ আছে যদি কারো রক্ত প্রয়োজন হয় তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ডোনার ম্যানেজ করে দেন। সময় মত রক্ত পাওয়া যে কত ভাগ্যের ব্যাপার যার রক্তের প্রয়োজন সেই বুঝে।
Device : Pixel-7
What's 3 Word Location :
প্রায় ছয় সাত মাস হয়ে গেছে কাউকে ব্লাড ডোনেট করিনি।তবে এখন রক্ত দেওয়ার সময় অনেক ভেবেচিন্তে দেই। কারণ এমনও হয়েছে আমার পরিচিত লোকের যখন রক্ত লাগবে তখন আমি দিতে পারিনি এমন পরিস্থিতিতে বেশি কষ্ট লাগে।এইতো ২৭ তারিখে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতাল এ গিয়েছিলাম মূলত একটি রুগির সাথে এনজিওগ্রাম করার জন্য। এই টেস্ট করার আগে অনেকগুলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। ব্লাড টেস্ট করার পরেই বুঝতে পারে রোগের শরীরে ব্লাড নেই বললেই চলে। ডাক্তার বলেছে রক্ত দিতে হবে রক্তের গ্রুপ আমার গ্রুপের সাথে মিলে গিয়েছে আমি তখনই বললাম আমি আছি আপনার সবকিছু রেডি করেন।তবে ব্লাড দিতে একটু সময় লেগে গিয়েছে কারণ প্রথমে তো বেড পেতে হবে। রোগীর এত চাপ বেড পেতেই অনেক সময় লেগে গিয়েছে।
আমরা গিয়ে শেষের সকালে দুপুরে কেটেছে হাসপাতালে অবশেষে দুইটার দিকে বেড পাওয়া গেল তবে ডাক্তারদের মিটিং থাকার কারণে আমাদের সকল কার্যক্রম ধীরগতিতে হচ্ছিল। রোগীর ব্লাড গ্রুপ বি পজেটিভ এটা আমরা জানি কিন্তু কোন ডকুমেন্টে তা উল্লেখ করা নেই ওই জন্য আবার রোগীর ব্লাড গ্রুপ চেক করতে হয়েছে। মূলত এজন্যই অনেক বেশি সময় লেগে গিয়েছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে তবুও ব্লাড দেওয়ার জন্য ডাক দিচ্ছে না। অবশেষে রাত হয়ে গেল ব্লাড নিতে নিতে তখন ঘড়ির কাটায় সময় রাত দশটা বেজে গিয়েছে।
Device : pixel 7
What's 3 Word Location :
অবশেষে সময় হয়েছে ব্লাড দেওয়ার। তার আগে একজন ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছে অনেক ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল এবং সর্বশেষ ওজন পরিমাপ করল।তারপর প্রস্তুতি নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে চলে যাই। এর আগেও যেহেতু অনেকবার প্লাট দিয়েছি ওই জন্য আর ভয় কাজ করেনি। ব্লাড ব্যাগ পরিপূর্ণ হতে সময় লেগেছে পাঁচ মিনিট। কিছু সময় বিশ্রাম গ্রহণ করি এবং চলে আসার সময় ওইখান থেকে একটা পচা আমের জুস ধরিয়ে দেয়।
Device : pixel 7
What's 3 Word Location :
সবকিছু নিয়ে আমরা এখন বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। তখন ঘড়ির কাঁটায় প্রায় সময় রাত ১১ টা বেজে গিয়েছে । ব্লাড দেয়ার পর বেশ ক্লান্ত লাগছিল সেজন্য আর বাইক রাইড করিনি আমি বন্ধু অংকনকে বললাম তুই ড্রাইভ আমি পিছনে বসছি। বাইরে বের হয়ে দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে বরাবরই আমার বৃষ্টি অনেক বেশি ভালো লাগে তাই এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে করতে বাসায় চলে আসি।
আমি কখনো রক্তদানের সুযোগ হাতছাড়া করি না ।এটা একটি মহৎ কাজ মনে হয় আমার কাছে কারণ আমার রক্তের বিনিময়ে যদি কারোর জীবন বেঁচে যায় তাহলে এর থেকে আর ভালো কি হতে পারে। রক্তদান আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। তাই আমরা সবাই যদি সুযোগ পাই এবং শরীর সুস্থ থাকে তাহলে রক্ত দান করব ইনশাল্লাহ।
আজ এই পর্যন্তই দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্টে অন্য কোন গল্প নিয়ে ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি মোঃ রাহুল হোসেন, আমার ইউজার নেম @mrahul40। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন।

আপনি ঠিক বলেছেন ভাইয়া রক্তদান একটা মহৎ কাজ। আপনি বেশ ভালো করেছেন।আসলে নিজের রক্ত দিয়ে অন্যকে বাঁচান এটা কয়জনে পারে। আপনার এই মহৎ কাজ দেখে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
রক্তদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার এক মহান দৃষ্টান্ত। আপনার এই লেখাটি সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল। কত সুন্দরভাবে আপনি রক্তদানের গুরুত্ব আর মানবিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ছাত্রসমাজের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য, তারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এমন সচেতনতা মূলক লেখা আরো বেশি বেশি দরকার যেন সাধারণ মানুষও এগিয়ে আসে এই মহৎ কাজে।
Screenshot:
Link:
https://x.com/mrahul40/status/1951871581270978656?t=1La4jIFEMBVYGUjnghRcSw&s=19
https://x.com/mrahul40/status/1951872136890532343?t=_EZ6_Pvdcfi9S1pWcaZb1A&s=19