গ্রীনরেইন প্রতিবন্ধী শিক্ষা/বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শাখা
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @mostafezur001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার , আগস্ট ১৯/২০২২
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও ভাল আছি। গত কয়েকদিন যাবত এত বেশি গরম পড়ছিল আর সেই সাথে লোডশেডিং এর সমস্যা সব মিলিয়ে মানুষের সাধারণ জীবন যাপন করা অনেক কষ্ট হয়ে উঠছিল। কালকে রাতের পর থেকে হালকা পরিমাণে বৃষ্টি শুরু হয়েছে আর একই সাথে শুরু হয়েছে সুন্দর বাতাস। সব মিলিয়ে পরিবেশ এখন অনেকটাই ঠান্ডা। আর এই ঠান্ডা পরিবেশের মাঝে আমরা আরো একটা জিনিস ভালো দেখতে পাচ্ছি সেটি হচ্ছে লোডশেডিং এর পরিমাণটা আজকে একটু কমে গিয়েছে। এতে করে আমি দেখতে পেলাম যেদিন সব থেকে বেশি গরমের প্রভাব থাকছে সেদিন লোডশেডিং এর পরিমাণটাও বেশি থাকলে আর যেদিন গরমের পরিমাণটা কম থাকছে সেদিন লোডশেডিং এর পরিমাণটাও কম থাকছে।
এবার সে আজকের পোষ্টের প্রসঙ্গে। আপনারা অনেকেই জানেন আমি পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমাদের স্কুলের বিভিন্ন বিষয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে। আমাদের স্কুলে একই সাথে তিনটা শাখা পরিচালিত হয়।
১. গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুল
২.গ্রীনরেইন কর্মমুখী শিক্ষা
৩.গ্রীনরেইন প্রতিবন্ধী শিক্ষা/বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শাখা
আজকে আমি আপনাদের মাঝে যে পোস্ট শেয়ার করতে চলেছি সেটি হচ্ছে গ্রীনরেইন প্রতিবন্ধী শাখার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে। প্রথম বছর হবার ফলে আমরা খুব একটা বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী পাইনি। প্রথম বছরে আমাদের স্কুলের প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২। আজকে আমি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে দেখাতে চলেছি আমাদের এই স্কুলের প্রতিবন্ধী শাখা অর্থাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ জ্ঞানের পারদর্শিতা।
প্রথমে আপনারা যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রীর ছবি দেখতে পাচ্ছেন সে তার নাম হচ্ছে মোসাম্মদ মুন্নি খাতুন। তার পরিবারের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি তার পরিবারের অনেক ইচ্ছা তাদের মেয়েকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার। অনেক স্কুল ঘুরে কোথাও তাকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারেনি অবশেষে তিনি আমাদের স্কুলে তার মেয়েকে ভর্তি করেছে। অভিভাবকের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের শিক্ষা দানে তিনি অত্যন্ত খুশি।
মুন্নী সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে কতটুকু পারদর্শী হয়ে উঠেছে তার একটা ভিডিও আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। আপনারা চাইলে আমার শেয়ার করা এই ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শাখার দ্বিতীয় ছাত্রীর নাম হচ্ছে মোসাম্মদ আশা খাতুন। মুন্নির পরিবারের মতো তার পরিবারেরও একই অবস্থা। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক জায়গায় ভর্তি করেছে কিন্তু প্রত্যেকটি জায়গা থেকেই তাকে চলে আসতে হয়েছে। তার সব থেকে বড় কারণ ছিল সে প্রতিবন্ধী। অবশেষে তার পরিবারের সদস্যরা যখন আমাদের স্কুলে তাকে ভর্তি করলো আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাকেও সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য।
আশা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকে সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে কতটুকু পারদর্শিতা অর্জন করেছে তার একটা ভিডিও আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। অনুগ্রহপূর্বক আপনারা সবাই আমার শেয়ার করা দুইটি ভিডিও দেখে নিবেন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সম্পর্কে আমার কিছু মতামত |
|---|
আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এই সকল শিশুদেরকে একটু সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা। কেননা তারা সবসময়ই আমাদের সমাজে বিভিন্ন জায়গা থেকে অবহেলিত হয়ে থাকে। তাদেরকে আমরা এতটাই অবহেলা করি আমরা ভুলে যাই তারাও আমাদের সন্তান। তারা যে প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছে এটা তাদের কোন দোষ নয়। মহান সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন তাই তারা এভাবে জন্মগ্রহণ করেছে। আমরা যদি সবাই তাদের পাশে এগিয়ে আসি তাহলে তারাও আমাদের মতো করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে। আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাদের সম্পর্কে আপনাদের কি মতামত রয়েছে তা অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।
আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় বসবাস করি।আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে খুবই ভালোবসি।বর্তমানে আমি গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরী স্কুলের একজন শিক্ষক।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।আমি বিশ্বাস করি, আমার এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে থেকে কেউ যদি উপকৃত হয় বা নতুন কিছু শিখতে পারে তবেই আমার সৃজনশীল কাজটি সার্থক হবে। তাই আমি চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃজনশীল জিনিস নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমার কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক টুইটার
সত্যি ভালো লাগলো ভাই আপনার পোস্টটি পড়ে। এরকম অনেক দেখেছি সব বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করানো হয় না। তবে আপনাদের স্কুল এরকম একটা শাখা আছে জেনে ভালো লাগলো। আপনি বড় ভাগ্যবান যে এদের শিক্ষা দিতে পারতেছেন। শুভকামনা রইলো ভাইজান আপনার জন্য।
চেষ্টা করে যাচ্ছি এদেরকে সঠিক শিক্ষা প্রদান করার জন্য
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অনেক যত্ন করে আপনারা লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পারদর্শিতা দেখে আমি তো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই আপনাদের শিক্ষকদের যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এরকম বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পাঠদান করাচ্ছেন।
এদের পারদর্শিতা দেখে সত্যি মুগ্ধ হবার মত অবস্থা
বৃষ্টি হওয়ার কারণে লোড শুটিংয়ের পরিমাণটা একটু কমে গেছে ।তবে আপনার স্কুলে যে দুইজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল তাদের নিয়ে আপনি যে ব্লগটি তৈরি করেছেন সত্যি এই ব্লকটি অসাধারণ হয়েছে ।ধন্যবাদ আপনাকে।
আবার যখন গরমের সময় শুরু হবে তখন লোডশেডিং এর পরিমাণও বেড়ে যাবে