আমার বাইক কেনার গল্প......... পর্ব-১
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
কি অবস্থা সবার। আশা করি আপনারা সবাই জোশ মুড এ আছেন। আমিও আছি চমৎকার। একটু বেশি চমৎকার আছি বলা যায়। এই বেশি চমৎকার এর একটা কারণ আছে বটে। তার আগে বলে নেই সবাই একটু সাবধানে চলাফেরা করবেন। দেশের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আজো মিরপুর এ ৩ টা বাস পুড়িয়েছে। জানিনা বাস পুড়িয়ে এরা কি মজা পায়। যাক সবাই সাবধানে চলাফেরা করবেন এটাই চাওয়া। তো আজ আপনাদের একটি সুখবর দিতে যাচ্ছি। সেটা হচ্ছে আমি একটি মোটরবাইক নিয়েছি। হ্যা ঠিকই শুনেছেন। আজ সে অনুভুতি শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।
বাইক কেনার সখ আমার অনেকদিন আগের থেকেই। তবে সামর্থের অভাবে হয়ে উঠেনি কখনো। টাকা জমাতাম কিন্তু বাসায় যদি লাগতো কখনো তখনই দিয়ে দিতাম। তাই আর জমানো হতোনা। বাইক কেনার আশাও আশাই রয়ে যেতো। তবে যাই হোক আগে আমার পরিবার। এভাবেই যাচ্ছিলো। তবে এক্ষেত্রে একটা সুবিধা হয় আমার চাকরী হওয়াতে। আপনারা অনেকেই জানেন আমি এই বছরই জানুয়ারি মাসে ইয়ামাহা সার্ভিস সেন্টার এ স্পেয়ার পার্টস ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ পাই। ফ্রেশার হিসেবে স্যালারি অনেক কম হলেও আমি আমার বাংলা ব্লগ এ কাজ চালাই তে পারতাম। যদিও অনেক স্ট্রাগল করতে হতো। দেখা গেলো পোস্ট করার সময় পেলে একটিভিটি বৃদ্ধি করার সময় পাইনা। আবার একটিভিটি বৃদ্ধি করতে গেলে আমার পোস্ট করার সময় হয়না। সব মিলিয়েই যাচ্ছিলো দিন গুলো। আমি স্টিম ক্যাশ করা বন্ধ করে দেই। সব স্টিম আমার বাইনেন্স একাউন্ট এ নিয়ে জমিয়েছি। প্রায় ১০০০ স্টিম এর মতন জমিয়েছিলাম। যার থেকেই আমার বাইক কেনার বড় একটি অংশ চলে আসে। বাকিটা বেতন থেকে একটু একটু করে জমিয়েছি। দেখা গেলো বাসে উঠার ক্ষেত্রে আমি ২ কিমি হেটে যেতাম ৫ টাকা ভাড়া বাঁচাতে। এসব করে করেই টাকা জমানো। তবে বাসায় কখনো প্রেশার দেইনি। আমার এই বাইক কেনার সখ ও আমি নিজেই পুরন করেছি। দেড়িতে হলেও বাসায় চাপ দেইনি। নিজেই কিনেছি। এ জন্য আলাদা শান্তি কাজ করে। আল্লাহর কাছে অসংখ্য শুক্রিয়া। @rme দাদাকেও জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমেই আমার বাংলা ব্লগ থেকে সাপোর্ট পেয়ে বাইকের টাকা অনেক বড় একটি এমাউন্ট হয়েছে।
আমার স্বপ্নের বাইক ছিলো ইয়ামাহা এফ জেড এস ভার্শন ২। যেটাকে অনেকে FZS V2 DD হিসেবেও চিনে থাকেন। তবে ইচ্ছে থাকলেও এই মুহুর্তে সে বাইক নেওয়ার সামর্থ নাই আমার। স্টিম এর দাম যেদিন ১ ডলারে পৌছাবে তখন হয়তো কিনতে পারবো। সেটাই প্ল্যান করে রেখেছি। তবে ইদানিং আমার জন্য বাইক অনেক দরকারি হয়ে পরেছিলো। কারণ হচ্ছে জ্যাম৷ এই জ্যাম আর গণপরিবহনে যায়গায় যায়গায় যাত্রী উঠানো নামানোর কারণে প্রতিদিন প্রচুর সময় ব্যয় হয়। আমার যাওয়া আসাতে লেগে যায় ৩ ঘন্টার মতন। আর এখান থেকে ১ ঘন্টা বাচাতে পারলেও তা আমার জন্য অনেক সুবিধার হবে। পড়াশোনা বলেন আর আমার বাংলা ব্লগ এ সময় দেওয়া বলেন। দুটোতেই অনেক হেল্প করবে এটি আমারে। তাই এর জন্য হলেও বাইক নেওয়ার প্ল্যান বহু দিন ধরেই৷ তবে ইদানীং অবরোধ এর জন্য এই সমস্যা যেনো আরো মারাত্মক আকার ধারন করেছে। রাস্তা ঘাটে গণপরিবহন নাই বললেই চলে৷ এছাড়াও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা তো রয়েছেই। জীবন হাতে নিয়ে চলাফেরা করতে হয় সব সময়।
এই কারনেই বাইক নিয়ে ফেলবো ভাবি। আপাদত অফিস টু বাসা এর জন্য ১০০ সিসির বাইক দেখা শুরু করি। এতে করে আমি মাইলেজ পাবো ভালো সাথে মেইন্টেনেন্স খরচ ও অনেক কমে যাবে। বাইক কেনার ইচ্ছে আতো তীব্র হয় আমাদের এলাকার এক গ্যারেজ এ একটি বাইক দেখে। সেটা সেদিন চালিয়ে খুবই মজা পাই। বলে রাখা ভালো আমার কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। গাড়ির আগে লাইসেন্স এর ঝামেলা শেষ করে রেখেছি। কারণ দেখা গেলো হঠাৎ গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে কিন্তু লাইসেন্স নাই। তো গ্যারেজ এর সেই গাড়িটা দেখে এতোই পাগল হই যে আমার বন্ধুরে তো বলেই বসি আমারে যেভাবেই হোক ওই বাইক কিনে দিবি। লোকটা দাম চেয়েছিলো ৬০ হাজার টাকা। আমরা ৩৫ হাজার থেকে দাম বলা শুরু করি।৷ কিন্তু ব্যাটা রাজি হয়না।।সে গাড়িটা অনেক ভালো লেগেছিলো। তাইতো ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছিলাম কিন্তু দেয়নি। বাকি কথা হবে ২য় পর্বে।
░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░
আমি রাজু আহমেদ। আমি একজন ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি থেকে। আমি বাঙ্গালী তাই বাংলা ভাষায় লিখতে ও পড়তে পছন্দ করি। ফোন দিয়ে ছোটখাট ছবি তোলাই আমার সখ। এছাড়াও ঘুরতে অনেক ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভাই সবশেষে একটা কথাই বলি টাকার কাছে আমাদের স্বপ্নগুলো যেন হার মেনে যায়। যাই হোক আপনার পছন্দের বাইকটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে। আর সবশেষে যে লোকটার কথা বললেন তিনি তো আজীব লোক, ৬০০০০ টাকা বাইকের দাম চেয়েছে আর আপনারা ৫০০০০ পর্যন্ত বলেছেন তাও বাইক দেয়নি। যাইহোক পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত জানতে পারবো।
হ্যা ভাই। আশা করি একদিন কিনতে পারবো ।
বাইক একটা ছেলের স্বপ্ন। একটি ছেলের জীবনে বাইক থাকাটা অনেক জরুরী। আপনি অল্প অল্প করে টাকা গুছিয়ে আপনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন শুনে খুব ভালো লাগলো ।কারণ একটি স্বপ্ন পূরণ হলে নিজের কাছেও বেশ ভালো লাগে। ইনশাল্লাহ একদিন আপনিও ইয়ামাহা এফ জেড এস ভার্সন টু কিনতে পারবেন। পরবর্তী গল্প শোনার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
একদম ভাই। অনেক স্বপ্ন ছিলো। দোয়া করবেন।
গাড়ি না কিনে গাড়ির লাইসেন্স করে বসে আছেন ভাইজান। বেশ ভালো লাগলো ইন্টারেস্টিং বিষয় মনে হলো। দোয়া করি আপনার আশা পূরণ হোক এবং সাবধানে নিরাপত্তার সাথে যেন বাইক চালাতে পারেন পূর্ব থেকে সেই দোয়া করি।
জ্বি ভাই। আসলে ভাবতাম গাড়ির কাগজ করতে তো লাইসেন্স লাগবেই।