বাংলা নাটক - রিভেঞ্জ (প্রতিশোধ) || পর্যালোচনা
আজ আমি আপনাদের মাঝে একটু ভিন্ন ধরনের পোস্ট উপহার দিতে যাচ্ছি. আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। বর্তমানে আমাদের যুবকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হল বাংলা নাটক। আর যদি নাটকটি আফরান নিশোর হয় তাহলে তো কথাই নেই । আর হ্যা, আজ আমি আফরান নিশোর রিভেঞ্জ (প্রতিশোধ) নাটকটির সাদামাটা একটা রিভিউ করতে যাচ্ছি । তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক আজকের নাটকের বিষয়বস্তু।
নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু
| নাটকের নাম | রিভেঞ্জ (প্রতিশোধ). |
|---|---|
| পরিচালক | জিয়াউল হক পলাশ. |
| অভিনয়ে | আফরান নিশো, তাসনিয়া ফারিন ও শাওন. |
| মুক্তির তারিখ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১. |
| নাটকের ধরন | প্রেম এবং প্রতিশোধ. |
| নাটকের ভাষা | বাংলা. |
| পরিচালনা | ধ্রুব টিভি. |
| নাটকের গান | কে তোমাকে বাসবে ভালো |
নাটকের সারসংক্ষেপ
নাটকটি প্রথমেই শুরু হয় একটি দুর্ঘটনা দিয়ে। আগেই বলে রাখি যার সাথে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং যিনি দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারই দুজনই নায়িকার পরিচিত। একজন হল নায়িকার এক্স বয়ফ্রেন্ড( আফরান নিশো) যার সাথে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অন্যজন হল নায়িকার স্বামী (শাওন) যিনি দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তারপর তাসনিয়া ফারিন হাসপাতালে ছুটে যায়। তিনি জানতেন না যে তার এক্স বয়ফ্রেন্ড এর সাথে এমনটা ঘটেছে। তিনি যেয়ে দেখেন আফরান নিশো হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে।
তারপর নাটকটি আবার অতীতে ফিরে যায়। আফরান নিশো একজন রগচটা অর্থাৎ অনেক রাগী মানুষ। অতীতে ফিরে যাওয়ার প্রথমেই আফরান নিশো তাসনিয়া ফারিনকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী একটি গ্লাস ফেলে ভেঙ্গে ফেলে এতে আফরান নিশো রেগে গিয়ে আরেকটি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। এতে তাসনিয়া ফারিনের অনেক বিরক্ত বোধ হয়, এছাড়াও আরো অনেক ছোট ছোট বিষয়ে আফরান নিশো খুব সহজেই রেগে যেতেন। এজন্য তাসনিয়া ফারিন অনেক রাগ করতেন আফরান নিশোর উপর।
তারপর অনেকদিন তাদের প্রেম চলতে থাকে। একদিন হঠাৎ করে তাসনিয়া ফারিন বলে তার বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। এই কথায় আফরান নিশো তেমন গুরুত্ব দেন না। কারণ এর আগেও অনেকবার বিয়ের কথা বলেছে বাসা থেকে। এজন্য আফরান নিশো কিছু মনে করেন না।
তারপর তাসনিয়া ফারিন আফরান নিশোকে ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকে আফরান নিশো তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারে না। তাসনিয়া ফারিন তার ফোন বন্ধ করে রাখে। এদিকে আফরান নিশো তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। তারপর একদিন তাঁকে বাসার নিচে ডেকে অনেক কথা বলে।
কিন্তু তাসনিয়া ফারিন কোন কথাই শোনে না। তারপর তারা তাদের বাসা পরিবর্তন করে অন্য বাসায় চলে যায়। আফরান নিশো কিন্তু তাকে অনেক ভালোবাসতেন। আফরান নিশো তাসনিয়া ফারিনকে অনেক বোঝানোর পরেও তাসনিয়া ফারিন আর তার সাথে রিলেশন রাখতে চায় না। এজন্য আফরান নিশো মনে কষ্ট নিয়ে তার কাছ থেকে চলে আসে।
তারপর নাটকটি আবারও বর্তমানে ফিরে আসে।
তারপর তাদের মধ্যে কিছু কথা হয়। কিছু কথা হওয়ার পর নাটকটি আবারও অতীতে ফিরে যায়। অতীতে ফিরে যাওয়ার পর আফরান নিশোর কয়েক বছর কেটে যায়। তারপর আফরান নিশো তাসনিয়ার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যায়। তারপর আফরান নিশো তাসনিয়ার সম্পর্কে অনেক কথা জানতে পারে। তাসনিয়ার বান্ধবী আফরান নিশোকে সব কথা বলে দেয়। তাসনিয়া একসাথে দুইজনের সাথে রিলেশন করতো। শাওনের এবং তার সাথে এবং সে নিজ ইচ্ছাতেই বিয়ে করেন। তারপর আফরান নিশো তাসনিয়ার কাছে ফোন করে এবং সব কথা বলে। সবশেষে আফরান নিশো তাসনিয়াকে একটা কথা বলে তাকে কখনো সুখে থাকতে দিবে না।
তারপর নাটকটি আবারও বর্তমানে চলে আসে এবং তাসনিয়া ফারিন আফরান নিশোকে সবশেষ কথাটি মনে করিয়ে দেয়। তারপর তার স্বামীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। এইদিকে আফরান নিশো হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর দিন গুনতে থাকে আর ওইদিকে তাসনিয়া তার স্বামীকে নিয়ে সুখে দিন কাটাতে থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন তাসনিয়ার বাসায় পুলিশ আসে। পুলিশ এসে বলে আফরান নিশো মারা গেছে এবং এর জন্য তাসনিয়া ও তার স্বামীকে দায়ী করে রেখে গেছে। একদিকে আফরান নিশো মরে গেল অন্যদিকে তাসনিয়া ও তার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। আর এভাবেই নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।
নাটকটির সাথে বাস্তবতার মিল
বাস্তবতার সাথে নাটকটির সম্পূর্ণ মিল না থাকলেও কিছু কিছু মিল পাওয়া যায়। এখনকার মেয়েরা একের অধিক রিলেশনে জড়ায় যা এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া আরো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে মেয়েদের বিষয়ে, মেয়েরা একের অধিক রিলেশন করার পর যেই ছেলে আগে প্রতিষ্ঠিত হয় তার সাথে বিয়ে করে ফেলে। এই ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে প্রতিনিয়তই ঘটছে। এতে অনেক ছেলের জীবন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা ছেলেটি অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
নাটক থেকে আমাদের যা শিক্ষা নেওয়া উচিত
খারাপ কাজ কখনো মানুষকে সুখ বয়ে এনে দিতে পারে না। আমাদের সমাজের অনেক খারাপ কাজ প্রচলিত আছে যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত। এই নাটক থেকে এটাই শিক্ষা নেওয়া যায় কাউকে ঠকিয়ে কখনো বড় হওয়া যায় না। সত্য একদিন না ঠিকই বেরিয়ে আসে। আর যখন বেরিয়ে আসে তখন তা আর চেপে রাখা যায় না।
রেটিং
নাটকটি আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছে। যদি আপনারা না দেখে থাকেন তাহলে আপনারা দেখতে পারেন। আশা করি নাটকটি আপনাদেরও অনেক ভালো লাগবে। আমি এই নির্মাণ কে ১০ এর মধ্যে ৮ দিব । কারণ নাটকটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
Screenshots Source: here
👇নাটকের ইউটিউব লিংক 👇
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
অনেক সুন্দর কিছু মতামত এবং তথ্য আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। এখান থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারলাম। আপনার জন্য দোয়া এবং শুভ কামনা রইলো।
ভাইয়া আমি নাটকটি দেখেছি.. আসলে মানুষকে ঠকিয়ে কেঊ কোনোদিন সুখী হতে পারে না। সত্যি একদিন বেরিয়ে আসবেই। সত্যর মৃতু নাই।
বিশেষ করে আফরা নিশো ভাইয়াকে আমার অনেক ভালো লাগে, তার অভিনয় সেই লাগে।
আমি তার বিরাট ভক্ত একজন💖
আপনার জন্য শুভকামনা ভাইয়া, অনেক সুন্দর রিভিউ দিছেন।
আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সবকিছু সন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। অবশ্যই নাটকটা দেখার চেষ্ঠা করবো।
নাটক টা সবার মুখে বেশ আলোচনা হচ্ছে।আর নেট দুনিয়াই তো প্রচুর লেখা লিখিও হচ্ছে।ভাইয়া আপনি বেশ গুছিয়ে এবং সুন্দর করে মেইন পয়েন্ট বুঝিয়েছেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
খুব সুন্দর ও সহজ-সাবলীল ভাষায় আপনি নাটকটি রিভিউ করেছেন দাদা।আমি বাংলাদেশী নাটক দেখতে খুব ভালোবাসি।বিশেষ করে-মোশাররফ করিম, আখম হাসান, আফরান নিশো,চঞ্চল চৌধুরী এবং অপূর্ব ।এছাড়া আমি বাংলাদেশি নাটক দেখে অনেক শিক্ষা ও আনন্দ নিতে পারি।এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।ধন্যবাদ দাদা।আশা করি এই নাটকটি ও দেখতে পাবো।
ভাই আপনি খুব সুন্দর ভাবে পুরো বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছেন। যখন আপনার লেখাগুলো পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে নাটকের দৃশ্য গুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। মনে হয় যেন এক কল্পনার জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। নাটকের শেষ দৃশ্যে আফরান নিশো মরে গিয়েও সারা জীবনের জন্য কষ্ট দিয়ে গেল ফারিনকে। ভেঙে দিল তার সুখের সংসার। এ যেন এক চরম প্রতিশোধ।
"কাবিলা" খ্যাত জিয়াউল হক পলাশ খুবই গুনী একজন অভিনেতা এবং পরিচালক। রিভেন্স নাটকটি আমি এগনো দেখি নাই। তবে এই নাটকের কিছু ক্লিপ দেখেছি ফেসবুকে। এবং আপনার রিভিউটা পড়ে নাটকটা দেখার ইচ্ছা আমার আর নেই😌😌। ভালো রিভিউ করেছেন ভাই।।
ভাই নাটকটি আমি দেখেছি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে । চমৎকার উপস্থাপন করেছেন আপনি। সবার সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।
ভাই আপনার রিভিউটা খুবই সুন্দর হয়েছে। যদিও আমার কাছে নাটক গল্পটা খুব একটা ভালো লাগেনি। বিশেষ করে নাটকের শেষ অংশটুকু। আর আপনার রিভিউ পরলে কারো আর নাটকটি দেখার প্রয়োজন হবে না। ধন্যবাদ ভাই।
নাটক ফাটক আমি তেমন একটা দেখিনা। ভালো লাগেনা। তবে রিভিউ পারপাস একটু একটু তো দেখতেই হয়।
বাংলাদেশি নাটকের অনেক বড় ফ্যান আমি। সুযোগ পেলেই একটা করে নাটক দেখে ফেলি। 😊 নিশোর অভিনয় আমার বেশ ভালই লাগে। রিয়ালিস্টিক একটা ব্যাপার কাজ করে। পুরো রিভিউটা দেখার পরে মনে হচ্ছে নাটকটা অবশ্যই দেখতে হবে। খুব ভালো ভাবে উপস্থাপন করেছেন। একটু ফ্রি সময় পেলেই দেখে নেব। 🥰