নীলফামারীর দাবদাহ: থার্মোমিটারে ৩৯°, শরীরে লাগছিল ৪৯°
আজ নীলফামারীতে সূর্যটা যেন একটু বেশিই রেগে ছিল। থার্মোমিটারে দেখাচ্ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু সত্যি কথা বলতে শরীরে লাগছিল প্রায় ৪৯ ডিগ্রির মতো। বাতাস? না ভাই, বাতাসের নামগন্ধও ছিল না। চারপাশটা এমন এক নিস্তব্ধ গরমে ভরা ছিল, মনে হচ্ছিল বাতাসও ক্লান্ত হয়ে গেছে। সকাল থেকেই গরমটা টের পাওয়া যাচ্ছিল। সূর্য ওঠার পরপরই যেন আগুন ঝরাতে শুরু করলো। ঘরের ভেতরে থাকলেও স্বস্তি নেই, বাইরে বের হলে তো কথাই নেই। রাস্তাঘাটে যারা কাজ করে, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, ভ্যানচালক, দোকানের কর্মচারী তাদের কষ্টটা আজ চোখে পড়ার মতো ছিল। কারো মুখে ক্লান্তির ছাপ, কারো চোখে বিরক্তি, আবার কারো চোখে অসহায়ত্ব।
আজ সারাদিন মনে হচ্ছিল শরীর আর মন দুটোই একসাথে গলে যাচ্ছে। বারবার পানি খেলেও তৃষ্ণা মিটছিল না। মাথা ভার হয়ে থাকছিল, মনটা অস্থির লাগছিল। এমন গরমে কাজ করা তো দূরের কথা, ঠিকভাবে চিন্তা করাটাও কঠিন হয়ে যায়। দুপুরের দিকে রাস্তায় বের হলে মনে হচ্ছিল পা রাখার জায়গাটুকুও আগুন হয়ে আছে। সবচেয়ে কষ্ট লাগে সেই মানুষগুলোর কথা ভেবে, যাদের এই গরমেও কাজ না করলে পেট চলবে না। যাদের জন্য আজ খুব গরম, বিশ্রাম নিই। এই কথাটা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। গরম তাদের কাছে শুধু আবহাওয়া নয়, এটা একটা যুদ্ধ। প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই।
আজ বিদ্যুৎ থাকলেও শান্তি ছিল না। ফ্যান শুধু গরম বাতাস ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। কোথাও যেন স্বস্তির জায়গা নেই। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষদের অবস্থা আরও করুণ। অনেকের শরীর খারাপ হচ্ছে, মাথা ঘুরছে, কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছে এই গরম নীরবে ক্ষতি করে যাচ্ছে।এই মুহূর্তগুলোতে মনে হয়, প্রকৃতি আমাদের কিছু বোঝাতে চাইছে। হয়তো আমরা প্রকৃতিকে যতটা অবহেলা করেছি, তারই ফল আজ ফিরে পাচ্ছি। গাছ কাটা, পরিবেশ নষ্ট করা, সব কিছুর হিসাব প্রকৃতি একদিন না একদিন ঠিকই নেয়।আজকের এই গরম শুধু শরীর পুড়িয়েছে তা নয়, মনকেও ক্লান্ত করে দিয়েছে। তবুও আশা রাখি, এই দাবদাহ একদিন কমবে। মানুষ একটু হলেও সচেতন হবে। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াবো, অন্তত এই কষ্টের দিনে সহানুভূতিটুকু ভাগ করে নেবো।
এই গরমে যারা বাইরে কাজ করছেন, আল্লাহ তাদের হেফাজত করুন। আর আমরা যারা তুলনামূলক নিরাপদে আছি। আসুন, একটু মানবিক হই, একটু সহানুভূতি দেখাই। কারণ আজ নয় তো কাল, এই গরমের বাস্তবতা আমাদের সবার দরজায় কড়া নাড়বেই।
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: নীলফামারীর দাবদাহ: থার্মোমিটারে ৩৯°, শরীরে লাগছিল ৪৯°!
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...
High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!
Congratulations!
Your post has been selected and upvoted by the SteemPro Team 🚀
Explore more on SteemPro:
🌐 https://www.steempro.com
🎮 Play SteemHeights: https://www.steempro.com/games/steem-heights
💬 Join our Discord: https://discord.gg/Bsf98vMg6U
💪 Supporting the growth of the Steem ecosystem together.
🟩 Vote for witness faisalamin:
https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin
This is an automated message.