এবার আর হবে না।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ্ আমি ভালো আছি। শীতকাল প্রায় আগত। এখন একটু বেশিরাতে বাইরে বের হলে কুয়াশা দেখা যায়। শরীর টা শিরশির করে উঠে। বেশ দারুণ লাগে নিজের কাছে। এছাড়া সকালে উঠলে এটা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। যাইহোক এটা বললাম আমাদের এলাকার কথা। কিছুদিন যাবৎ অনেকের পোস্ট দেখছি শীতের আগমন নিয়ে। শহরের তুলনায় গ্রামে শীত একটু দ্রুতই আসে আবার থাকেও বেশিদিন। শীতকাল আসলে অনেক নতুন কিছুর আগমন ঘটে। এরমধ্যে রয়েছে খাবারের বিষয়টি। খাদ্যপ্রেমী মানুষদের জন্য শীতকাল টা বেশ ভালো সময়। এটা পিঠা পায়েস খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যাইহোক আজ আমি অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আপনাদের সঙ্গে। যেটার জন্য আমার নিজের মনটাও বেশ কিছুটা খারাপ। টাইটেল টা ঐরকম টাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনারা পোস্ট টা পড়লেই বুঝতে পারবেন।
ব্যাডমিন্টন কোনো ঋতুভিওিক খেলা না এবং এটা একটা ইনডোর গেমস। তবে আমাদের দেশে এই খেলাটা শীতকালে খেলা হয়। মূলত শীতকালে শহরে গ্রামে গঞ্জে ব্যাডমিন্টন খেলার ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে খেলাটা বেশি উপভোগ করা যায়। আমি ২০১৬ থেকে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু করি। তখন আমি আমার বড় ভাইদের সঙ্গে খেলতাম। ক্রমেই সময় এগিয়েছে আমিও বড় হয়েছি এরমধ্যে অনেকেই এলাকার বাইরে চলে গেছে। কিন্তু খেলাটা চলছেই। গত সিজেনেও আমরা খেলেছি। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সত্যি আর খেলা হবে না। এর কারণ রয়েছে। প্রতিবছর নভেম্বরের শুরুতেই আমরা ব্যাডমিন্টন এর কোর্ট কেটে নেয়। এবং একটু শীত পড়তে শুরু করলেই লাইন টানিয়ে শুরু করে দেয় রাতে খেলা। রাতে খেলতে আমরা সাধারণত সরাসরি বিতরণ লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে থাকি। যেটাকে বিদ্যুৎ চুরিও বলতে পারেন। তবে এই চুরির কথা সরকার প্রশাসন সবাই জানে। কিন্তু তারপরও তারা খেলার জন্য সুযোগ দেয়। কিন্তু এবারে যেন সেই সুযোগ টাও বন্ধ হয়ে গেল।
আপনারা জানেন বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ খুবই কম। যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন পন্যের উপর। যাইহোক বিভিন্ন কারণে বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের অনেক পাওয়ার প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যার ফলে যা জনগণের চাহিদা সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। সেজন্য যেটুকু বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে সেটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য চলছে লোডশেডিং। লোডশেডিং সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের ভুল ধারণা রয়েছে। মূলত বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকার কারণে কোনো নিদিষ্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় এটাকে লোডশেডিং বলে। সেজন্যই সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে এখন চলছে লোডশেডিং। তো এখন বলেন যেখানে মানুষের প্রয়োজনীয় সরবারহ দিতে পারছে না সেখানে এই রাতে খেলার জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথা থেকে দেবে।। অন্তত অন্য কেউ না বুঝলে আমি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন ছাএ হিসেবে এটা ঠিকই বুঝেছি।
তো সেজন্যই এবার আমাদের উপজেলায় প্রশাসন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবার আর রাতে বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা যাবে না। যদি কেউ সেটা করে তবে তাদের অর্থদণ্ড সহ কয়েকদিনের কারাদণ্ড পযর্ন্ত হতে পারে। তবে বিশেষ ক্ষেএে কিছু নামকরা ক্লাবকে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তাদের প্রশাসন বরাবর আবেদন করতে হবে। যেটার জন্য মোটামুটি ক্ষমতাবান লোক লাগবে। যদিও আমাদের কাছেও আছে ক্ষমতাবান লোক সেজন্য আমরা এখনো আশা হারায়নি। তবে এবার মনে হচ্ছে খেলা টা আর হবে না। শীতের কনকনে ঠান্ডা রাতে ব্যাডমিন্টন খেলার মজাই ছিল আলাদা। যেমন গরম হয়ে যেত শরীর টা ঠিক একইভাবে শরীরচর্চা টাও হয়ে যেত। কিন্তু এবার যেন সেটা আর হওয়ার না। এজন্য বেশ খারাপ লাগছে। সবকিছুই তো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেয়। সেজন্যই ভাবলাম এটাও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেয়। আশাকরি আপানারা পুরোটা পড়বেন এবং বুঝবেন।।
| ------- | ------ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @emon42 |
| ডিভাইস | VIVO Y91C |
| সময় | নভেম্বর,২০২০ |
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
শীতের দিন এলেই সন্ধ্যা বেলায় ব্যাডমিন্টন খেলা দেখতে পাওয়া যায়। ফাঁকা মাঠগুলোতে ছেলেরা ব্যাডমিন্টন খেলে। আসলে হয়তো বিদ্যুৎ চুরি করেই তাদের লাইটিং এর ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন তাদেরকে পারমিশন দেয় না। হয়তো সেটা অপরাধ। তাই তো সেটা করা সব সময় সম্ভব নয়। অনেকে আবার ক্ষমতার দাপটে সব কিছুই করতে পারে।
এখন আপু আপনি যেটাকে চুরি বললেন ওটা ঠিক চুরি না। আমরা বা সারা বাংলাদেশে যারা এইরকম লাইন নিয়ে খেলে থাকে তারা যে পরিমাণ এনার্জী ব্যয় করে তার অর্থ ওরা ঠিক অন্য পদ্ধতিতে তুলে নেয়।।
এই কথা বলার পর তো আর ভয়তে কেউ খেলবে বলে মনে হয় না। হা হা হা...
তবে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা হচ্ছে এটা আমি অনেক আগে থেকেই জানতে পেরেছি। এক্ষেত্রে বলতে গেলে সরকারের এই উদ্যোগ খারাপ না। আপনাদের অবশ্যই এটা মান্য করা উচিত। আর রাতের বেলা ব্যাডমিন্টন খেলতে হবে কোথায় লেখা আছে, দিনের বেলা খেলুন তাহলে তো সমস্যা নেই।
জী দাদা সেজন্যেই বলছি এবার হয়তো আর খেলা হবে না। ধন্যবাদ
আপনাকে।।
আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া শীতের কনকনে ঠান্ডা রাতে ব্যাডমিন্টন খেলার মজাই ছিল আলাদা। আপনার মতো এবার আমাদের এখানে ও হয়েছে। আমরা এবার খেলতে পারবোনা। বিদ্যু্ৎ এর সমস্যা ভাই। যাক মন খারাপ করেন না আবার সব কিছু ঠিক হলে অবশ্যই খেলতে পারবেন।
বাংলাদেশের রিজার্ভ সব দিক থেকেই ফুরিয়ে যাচ্ছে,তবে যাই হোক আমার কাছে ভালোই লাগে শীতের রাতে বাহিরে বের হলে জায়গায় লাইট লাগিয়ে ব্যান্ডমিন্টন খেলা দেখা।আমাদের বাসার পাশেই খেলা হতো।বারান্দায় দিয়ে দেখা যেত।আস্তে আস্তে দেশটা আমাদের কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে।কবে যে ঠিক হবে, তাই ভাবছি।
চিন্তার বিষয় আপু।
শীতের সময় ব্যাডমিন্টো খেলা মানে এর উত্তেজনার মুহূর্ত। সত্যি বলতে ভাই আপনি যখন ২০১৬ সালে ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু করেন। তখন আমি কিভাবে ব্যাডমিন্টন খেলাতে হয় তাও জানতাম না। কিন্তু এখন প্রত্যেকদিন সন্ধ্যাবেলায় ব্যাড নিয়ে চলে যায় ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য। আসলে খেলা খেলতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।
যাহ্ শীতকালে পাড়ায় পাড়ায় এটাই তো আমাদের জাতীয় খেলা। আমআর পাড়ার ছেলে পিলেও শুরু করে দিয়েছে বটতলায় কালী মন্দিরের সামনে।কিন্তু এই যে সরকার থেকে নিষিদ্ধ করে দিলো। এখন আপনারা কি ভাবে খেলভেন? দ্বিতীয় কোন উপায় আছে? নাকি বিকেলবেলা করেই খেলবেন।
বিকেলে খেলে মজা পাওয়া যাবে না। দেখি বুদ্ধি একটা বের করব।।
যদিও বিষয়টিতে আপনাদের খারাপ লাগছে তারপরও আমি মনে করি দেশের স্বার্থে প্রশাসন দারুণ একটা উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান সময়ের বিদ্যুতের যে পরিমাণে অভাব দেখা দিয়েছে এই ধরনের ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য অনেকেই বিদ্যুৎ চুরি করে থাকে। ফলে প্রতিবছর অনেক বিদ্যুৎ নষ্ট হয় শুধুমাত্র এই ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য।
না ভাই বিদ্যুৎ নষ্ট ঠিক হয় না। খেলার জন্য যে পরিমাণ এনার্জী ব্যয় হয় তার অর্থ ওরা এক পদ্ধতিতে তুলে নেয়।।