চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।১০%লাজুক শেয়ালের জন্য।
হ্যালো বন্ধুরা,
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন,চমকে গেলেন।ঠিক ছোট বেলা থেকেই আমরা এই শব্দগুলোর সাথে অনেক পরিচিত।প্রায় প্রতিটি সিরাপ কিংবা মেডিসিনের বোতলের গায়ে এরূপ লেখা দেখে থাকি।কিন্তু এই বাক্যটি যে কতো গুরুত্বপূর্ণ বহন করে চলছে সেটি কি আমাদের সম্পূর্ণ জানা আছে? তো চলুন জেনে নেওয়া যাক,গুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয় সম্বন্ধে।
আমি মাঝে মধ্যেই ড্রাগ ও মেডিসিন নিয়ে লেখা শুরু করেছি। আমার চিন্তা চেতনাও ভাবনায় খুব গভীরভাবে উপলব্ধি হয়,মানুষ হিসাবে অন্তত হিউমান বডি এবং ড্রাগ-মেডিসিন সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত।কেননা আপনার-আমার খাম-খেয়ালি কিংবা একটু অসাবধানতায় হয়ে যেতে পারে মানবদেহের বিশাল ক্ষতি।
ঔষধের ধরন অর্থাৎ ফিজিক্যাল বডি।মেডিকেলের ভাষায় একে ডোজেস ফ্রম বলা হয়।সাধারণত ট্যাবলেট,সাসপেনশন, সিরাপ, ইনফিউশন, ইনজেকশন, ক্যাপসুল এটি একটি ঔষধের বাহ্যিক বডি। তবে এরূপ ভিন্নতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘসময় গুনাগুন ধরে রাখা,খাওয়ার সুবিধা, মুখে খাওয়া, ইন্ট্রাভেনাস কিংবা ইন্ট্রামাসকুলার,পরিমাণ,কার্যকারিতা,ইত্যাদি বিবেচনায় ঔষধের গঠন এরূপ হয়ে থাকে। যাই হোক, চলে আসি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন কথাটির গুরুত্ব নিয়ে। ঔষধের খোলসের মধ্যে কিংবা প্যাকেটের মাঝে ঔষধ খাওয়ার প্রক্রিয়া,গুনাগুন,পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,পরিমাণ উপাদান,বিবিধ এগুলো সংযুক্ত করা হয়ে থাকে। এর অন্যতম কারণ হলো এটি দেখে অনেক সচেতন মানুষই এই ঔষধ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নিতে পারবে।
আমরা অনেক সময়ই ঔষধ খেয়ে থাকি সেই ঔষধগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর খেতে হয়।এর প্রধান কারণ হচ্ছে ঔষধ খাওয়ার পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এটি রক্তের ঘনত্বের সাথে মিশে কার্য সম্পাদন করে।নির্দিষ্ট সময় পর এটির কার্যকরীতা ব্লাড সারকুলেশনে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।কিন্তু আপনি যদি সময় অনুযায়ী পরবর্তী ঔষধ না খান তাহলে এর কার্যকারিতা আবার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে কেননা চিকিৎসক এজন্যই একটা মেডিসিন একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর দিয়ে থাকেন যাতে ঔষধ খাওয়ার পর শরীরের মধ্যে কার্য সম্পাদন করার পূর্ব মুহূর্ত আরেকটা ঔষধ খাওয়া হয়। পরবর্তী ডোজ খাওয়া হলে আগের ডোজের কার্যক্ষমতায় নতুন ট্যাবলেট এর কার্যক্রম শুরু হয় অর্থাৎ পূর্ববর্তী ওষুধের কার্যকারিতা শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সময়মত ঔষধ খেতে হবে। নতুবা নিয়মিত কিংবা সময় অনুযায়ী না খেলে আগের ডোজটি আপনার অকার্যকর হয়ে যাবে,অর্থাৎ সময় গ্যাপ দিয়ে খেলে অথবা ডোজের সময় মেইনটেইন না করে খেলে দীর্ঘ সময় পর নতুন ওষুধ খাওয়ায় শরীরের কার্যকরীতা নতুন করে শুরু করবে অর্থাৎ পূর্বের ওষুধের কার্যকারিতার কোন মূল্যায়ন থাকবেনা। মুলকথায় আগের ট্যাবলেটটি খাওয়া বৃথা গেলো শুধু তাই নয় যদি এন্টিবায়োটিক হয়ে থাকে তাহলে আপনার বেশ ক্ষতি হয়ে গেলো।
উদাহরন হিসেবে আমরা মনে করতে পারি,একটি ট্যাবলেট আপনাকে দিনে তিনবেলা খেতে বলা হয়েছে। সকালবেলা ট্যাবলেট খাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার রক্তের ঘনত্ব এটির কার্যক্রম শুরু হয়, ট্যাবলেট এর কার্যক্ষমতা শেষ হওয়ার পূর্বেই অর্থাৎ দুপুরে ডোজটি কেয়ে ফেললে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।কেননা পূর্বের ডোজের কার্যক্রম শূন্যের কোঠায় নামার আগেই আপনি নতুন ডোজ শুরু করেছেন সে ক্ষেত্রে ঔষধের কার্যকারিতা সঠিক থাকবে। এখন ব্যাপার হলো আমরা নিজেই নিজেদের ঘরে ডাক্তার সেজে যাই। এটাও যদি না করতে পারি নিজের খামখেয়ালি কিংবা অলসতার কারণে সময় মেইনটেইন করে থাকি না। অর্থাৎ বলা যায় যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে সময়মত ঔষধ সেবন করি না। আবার মাঝে মাঝে এটাও করে থাকি যত্রতত্র খোলামেলাভাবে ইচ্ছে অনুযায়ী ঔষধ কিনে থাকি। কিন্তু আমাদের সকলের ধারণা হওয়া উচিত যে একই রকমের কার্যকারিতার জন্য বিভিন্ন গ্রুপের ভিন্ন কোম্পানির ঔষধ বাজারে পাওয়া যায়।
সোর্স
কিন্তু বাজারের প্রতিটি ঔষধের গুনাগুন সমপরিমাণে নেই। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,বয়স, ক্ষতিকর উপাদান ইত্যাদির উপর নির্ভর করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ঔষধ সেবন করতে পারলেই আমাদের রোগ নিরাময় সম্ভব। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন না করলে অল্পের জন্য কিংবা সামান্য কারণেই মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।এমনকি মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। সুতরাং আমি ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে অনুরোধ করবো,প্রতিটা রোগের ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঠিক পরামর্শ নিন। ডাক্তারের দেওয়া প্রতিটি ঔষধ সময় অনুযায়ী সেবন করুন। ঔষধ গ্রহণে কখনোই যেন অবহেলা কিংবা অলসতার কারণে সময়ের গ্যাপ না হয়। ঔষধ এবং মানবদেহ সম্পর্কে আপনি সচেতন হোন,অন্যদের সচেতন করুন।এমনটাই প্রত্যাশা করে, সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় আজ এখানেই শেষ করছি।
- লেখাটি উৎসর্গ করছি,হাজার তরুনের প্রাণের স্পন্দন,
আমাদের শ্রদ্ধেয় স্বপ্ন-সারথি@amarbanglablog এর মাননীয় ফাউন্ডার জনাব,@rme দাদাকে।
| বিষয় | সচেতনতা |
|---|---|
| বর্ণনায় | @kamrul8217 |
| ডিভাইস | Samsung A32 |
| লোকেশন | w3w |
| তারিখ | ২৮ এপ্রিল ২০২২ |
এতক্ষন সাথে ছিলাম আমি@kamrul8217
পেশায় একজন সাংবাদিক,উপস্থাপক ও ক্ষুদ্রলেখক।জ্ঞান আহরণের সর্বাত্মক ছুটে চলা।একজন সাদাসিধা জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মানুষ।দু-চোখে যা দেখি শব্দাকারে তা লিখতে থাকি।ভালো কাজে পাশে থাকি।একজন প্রকৃত মানুষ হওয়ার চেস্টায় চিরকৃতজ্ঞতায় পাশে আছে দুই বাংলার এক অবিচ্ছেদ্য প্রাণ@amarbanglablog
সম্ভবত কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাওয়া উচিত নয়। আমরা অনেক সময় অলসতার কারণে ওষুধ খেয়ে থাকি নিজের মতন, কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত। এর ফলে দেখা যায় অনেক সময় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। যাহোক খুব সুন্দর একটি বিষয় আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আসলে সচেতন মূলক একটি পোস্ট।
আপনি ঠিকই বলেছেন যে কোন ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিৎ। নিজের মতো করে না খাওয়া।কেননা প্রতিটা ঔষধ নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কাজ করে।ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
আমাদের জন্য খুবই সচেতনতামূলক একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। আপনার পোষ্ট কিন্তু অনেক তথ্যবহুল ছিল এবং এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমাদেরকে ওষুধ খাওয়া উচিত।
আপনি দারুণ মন্তব্য করেছেন।বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করেছেন।তথ্যমুলক সচেতনতায় আপনার একান্ত সহমতে আমি ধন্য।ভালবাসা অবিরাম।