ভিন্ন স্বাদের ভাপা পিঠা রেসিপি।
আজ- ২৭ ই পৌষ | ১৪২৮ , বঙ্গাব্দ | | হেমন্ত-কাল | মঙ্গলবার |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে ভাপা পিঠার রেসিপি শেয়ার করব ।
কেমন আছেন সবাই আশা করি ভালই আছেন। আমি আজ চলে এসেছি শীতকালে অন্যতম মজাদার একটি পিঠা অর্থাৎ ভাপা পিঠার রেসিপি নিয়ে। যদিও এই শীতে সবারই কমবেশি ভাপা পিঠা খাওয়া হয়ে গিয়েছে তবে আমাদের এখনো খাওয়া হয়নি। এইটিই এই সিজনের প্রথম ভাপা পিঠা তৈরি হয়েছে যেটার রেসিপি আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আসলে কমিউনিটির সকালে ভাপা পিঠা রেসিপি দেখে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না তাই বানিয়ে নিলাম।












আজকের এই ভাপা পিঠার রেসিপি অন্য ভাপাপিঠা রেসিপি গুলোর থেকে কিছুটা আলাদা। আলাদা বলছি এ কারণে যে, আমরা সাধারণত গুড় ও নারকেল গুলোকে পিঠার মাঝখানে বসিয়ে দিই। কিন্তু আমরা এখানে খেজুরের গুড়টিকে গলিয়ে মিশিয়ে নিয়েছি। যাইহোক আপনারা রেসিপি টা দেখলেই বুঝতে পারবেন যে এখানে পিঠে গুলোকে কিভাবে বানানো হয়েছে।
তো চলুন রেসিপি শুরু করি -
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
- চালের গুড়া।
- খেজুরের গুড়।
- নারকেল।
- মাটির ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা।
প্রস্তুত প্রণালীঃ
ধাপ-১ঃ
- প্রথমে খেজুরের গুড়টিকে কেটে অল্প পানি দিয়ে চুলাতে গুড়টিকে গলিয়ে নিব।
ধাপ-২ঃ
- এরপর বড় একটি বাটিতে পরিমাণ মতো চালের গুঁড়ো নিয়ে নেব।
ধাপ-৩ঃ
- এরপর গলানো গুড় চালের গুড়ার সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিব।
ধাপ-৪ঃ
- এরপর গুড়ের সাথে চালের গুঁড়া মেশানো হয়ে গেলে একটি বাটিতে চেপে চেপে রেখে দেবো বেশ কয়েক ঘন্টার জন্য।
ধাপ-৫ঃ
- কয়েক ঘণ্টার পর দেখা যাবে গুড় দিয়ে মেখে রাখা চালের গুঁড়াটি শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর হয়ে আছে। এরপর এই চালের গুড়া কে ছোট্ট একটি চালনি সাহায্যের চেলে নেব।
ধাপ-৬ঃ
- চালুনিতে চেলে নাওয়ার পর নারকেল মিশিয়ে নিব। এরপর একটি সাদা রংয়ের কাপড়ের সাথে জড়িয়ে নেব।
ধাপ-৭ঃ
- এবার পিঠাগুলোকে ভাবানোর জন্য এরকম একটি পাতিল তৈরি করে নিব।
ধাপ-৮ঃ
- পাতিলের ঠিক মাঝ বরাবর কাপড়ে জড়ানো পিঠাটি কে বসিয়ে দেবো।
ধাপ-৯ঃ
- কিছুক্ষণ ধরে ভাবানোর পর পিঠেরটিকে নামিয়ে নিব।
ধাপ-১০ঃ
- ব্যাস এভাবেই তৈরি হয়ে গেল ভিন্ন ধরনের ভাপা পিঠা। আপনারা চাইলে এই পিঠাটি কে নারকেল অথবা গুড় দিয়ে খেতে পারেন। তবে আমার কাছে করে নারকেল দিয়ে খেতে ভালো লাগে।
সকলকে ধন্যবাদ।
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাই আপনার ভাপা পিঠা রেসিপিটি চমৎকার লাগলো আমার কাছে। এটা দেখতে অন্যান্য ভাপা পিঠার চেয়ে একদমই আলাদা৷ দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক মজার হবে। ভেঙে প্লেটে রাখার যে ছবিটা এটা দেখে সবাই আফসোস করছে সিউর। অনেক লোভনীয় লাগছে। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই আমাদের মাঝে এই অসাধারণ ইউনিক রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য৷ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ভাই।
অসাধারণ একটা রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আমি ভাপা পিঠা খাইছি তবে আপনার ভাপা পিঠার রেসিপিটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ওয়াও অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার ভিন্ন স্বাদের ভাপা পিঠের রেসিপিটি। আমার দেখে মন ছুয়ে গেল। শীতকালে ভাবা পিঠা খাইতে বেশ ভালো লাগে আমার। ভাইয়া অনেক সুন্দর করে তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আপনার জন্য শুভকামনা রইল ।
ভাইয়া আমি এভাবে কখনো ভাপা পিঠা খাইনি।আমার কাছে একদম অন্য রকম লাগছে।আমাদের এইখানে নারিকেল দিয়ে ভাপা পিঠা বানায় তবে আপনার মতো হয় না।অনেক সুন্দর একটা ও ইউনিক পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।এই রকম আরো ইউনিক পোস্ট আপনার থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন ভাপা পিঠা হচ্ছে শীতকালের একটি আকর্ষণ। আর ভাপা পিটার মাধ্যমেই শীতের আমেজ টা ফুটে উঠে। আপনি যেভাবে আপনার ভাপা পিঠার রেসিপি টি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। ঠিক একইভাবে ছোটবেলায় দেখেছি মা এই ভাপা পিঠা তৈরি করত। গুড় গলিয়ে মিশিয়ে এবং নারিকেল কুচি করে এভাবে ব্যবহার করতে। এবং সেই একই প্রক্রিয়ায় ভাপা পিঠা তৈরি করত, তবে আলাদাভাবে গুড় নারিকেল দিয়ে পিঠা খেতে যেই মজা তার চেয়ে বহু গুণ মজা নারিকেল গুড় মিশিয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করলেন। আমাদের সাথে এত সুন্দর একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
আসলেই ভাইয়া,এইটা কিন্তু সাধারণ ভাপা পিঠা থেকে আলাদা।আমার কাছে ভাপা পিঠা অনেক বেশি ভালো লাগে, আর গুড় নারকেল ভিতরে দিলে পিঠা যখন নামানো হয় তখন পিঠা ভাঙলেই মাঝখানে গলানো গুড়সহ পিঠা খেতে জাস্ট অসাধারণ লাগে।আপনার এই পিঠা তৈরির প্রক্রিয়াটি কাজে লাগাতে তো হবেই ভাওয়া,টেস্ট চেক করার জন্য😁😁
সুন্দর একটি রেসিপি,,আমাদের গ্রামে শুধু নারিকেল ও চালের গুড়া দিয়ে বানানো হয়। এটাকে লবনের পিঠা বলে।তারপর পরের দিন, পিঠাকে কেটে কেটে তাওয়াতে টেলে পরে।আপনার গলানো গুড় দিয়ে খাই। আপনার কাছে একটি ইউনিক রেসিপি দেখলাম।ধন্যবাদ।
দাদা ভাপাপিঠা ছাড়া শীতকাল যেন জমে না। আমারও ভীষণ পছন্দের এই পিঠা। তবে আজকে আপনার বানানোর প্রক্রিয়া টা পুরোটাই একদম নতুন। বেশ ভালোই আইডিয়া ছিলো। টেস্ট টা একটু অন্যরকম হবে আশা করি। তবে ভালো লাগবে খেতে।
ভাপা পিঠা খাওয়া ছাড়া শীতকাল অসম্পূর্ণ মনে হয়। ভাপা পিঠা আমার খুবই পছন্দ। আমরাও ভাপা পিঠা এভাবে সবকিছু একসাথে মেখে তারপর বানানো হয়। কারন মাঝখানে বসিয়ে দিলে এগুলো স্বাদ মনে হয় যেন মাঝখানেই থাকে। যার কারণে আমার ঐভাবে খেতে ভালো লাগে না। আমাদের বাসায় এভাবেই তৈরি করা হয়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।