বরইয়ের সঙ্গে কিছু পুরোনো স্মৃতি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা প্রকৃতিতে শীতের হাওয়া বয়ে বেড়াচ্ছে । সেই সাথে শীতের গাছগুলিতেও ফুল ফুটতে শুরু করেছে ।এই তো কিছুদিন আগে একটু গ্রামের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম । সেখানে রাস্তার ধারে একটি বরই গাছ দেখতে পেলাম । গাছটি ছোট নয় কিন্তু গাছটির একটি ডাল নীচের দিকে ঝুঁকে ছিল । একদম হাতের নাগালে । গাছটির কাছে যেতেই দেখতে পেলাম বরই গাছ এবং গাছটিতে ফুলে ফুলে ভরে আছে। এই গাছটিতে যখন বরই ধরবে তখন পাকা পাকা বরই হাত দিয়ে ছিঁড়তে কতই না ভালো লাগবে । এই বরই গাছ দেখে আমার পুরনো কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল । সেগুলোই আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব । আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে ।
বরইয়ের সঙ্গে কিছু পুরোনো স্মৃতি
আসলে মেয়েদের জীবন বিয়ের আগে থাকে একরকম এবং বিয়ের পরে হয় অন্যরকম । বিয়ের আগে যেমন মা বাবা ভাই বোন সবার সাথে এক অন্যরকম আনন্দের সময় পার করে । আর পরবর্তীতে এক অন্যরকম সময়। সেরকমই একটি সময় যখন আমরা আমাদের পরিবারের সবাই একসঙ্গে ছিলাম ।এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সবাই একেক জন একেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । ইচ্ছে হলেও সেই পুরনো দিনগুলি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় ।পুরনো দিনগুলি শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে ।
আমাদের বাসা শহরে হলেও সেখানে আমার বাবা একটি বড়ই গাছ লাগিয়েছিলেন । দেখতে দেখতে সেই বড়ই গাছটি বেশ বড় হয়েছিল । আমরা ছাদে থেকে হাত দিয়ে বরই গুলোকে পাড়তে পারতাম । তখন ছিল শীতকাল । শীতের সময়ে বড়ই গুলি বড় হয়ে যখন পেকে উঠতো তখন আমরা সব বোনেরা ছাদে যেয়ে রোদে বসতাম । আর একজন নীচের থেকে শুকনো মরিচ গুঁড়ো আর লবণ মিশিয়ে ছাদে নিয়ে আসতাম । আর আরেকজন ব্যস্ত থাকত বড়ই পাড়া নিয়ে ।আরেকজন পানি নিয়ে ধোবার জন্য । তারপর বড়ই পেরে পানিতে ধুয়ে ,শুকনো মরিচ, লবণ দিয়ে মেখে খুব সুন্দর করে রোদে বসে বসে মজা করে আমরা সেই বড়ই খেতাম । কি যে আনন্দের দিন ছিল সেই সময়গুলি সত্যিই খুব মনে পড়ে এই বরইয়ের সময়টায়।
এই বড়ইয়ের সময়ে আমাদের এই আনন্দের মুহূর্তটুকু আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য আমার খালাতো বোনরাও বাসায় আসতো । সবাই মিলে একসঙ্গে বড়ই খাবার জন্য । কারণ তারা জানে এ সময় আমরা ছাদে এরকম করে বড়ই খেতাম । এভাবে সবাই মিলে বেশ মজা করে বড়ই খেতাম আর গল্প গুজব করতাম । কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আজ বাড়িটা একদম ফাঁকা হয়ে আছে, কেউ নেই ।বাড়িতে মা -বাবা, ভাই ছাড়া বোনেরা এক একজন এক এক জায়গায় চলে গিয়েছে ।
আমাদের সেই স্মৃতি বিজড়িত বড়ই গাছটিও আজ আর নেই । পরবর্তীতে বাড়ির কাজ করার জন্য বড়ই গাছটি কেউ কাটতে হয়েছিল । তাই এখন যখনই বড়ই খাই না কেন সেই পুরনো স্মৃতিগুলো মনে পড়ে ভীষণ কষ্ট পাই। এখন একা একা বড়ই খেতে হয় । সেই আগের মত খাওয়ার মজাও পাই না । সবাই মিলে একসঙ্গে কোনো কিছু খাবার আনন্দ একরকম আর একা একা খাবার আনন্দ একেবারেই অন্যরকম । তারপরেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় । পুরনো স্মৃতিগুলো মনের গভীরে রয়ে যায় ।
সব গুলো ছবির লোকেশন-লিংক
আসলে আমাদের জীবনে আজকের আনন্দঘন মুহূর্ত আগামী দিনে শুধুই অতীত । তারপরেও মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতিগুলোকে মনে পড়ে বেশ ভালো লাগে। তাই আজ মনে হল আমার এই পুরনো স্মৃতিগুলো আমার পরিবারের সঙ্গে একটু শেয়ার করি ।আশা করছি আপনাদের ভাল লেগেছে ।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আপনার স্মৃতিগুলা পড়ে আমিও যেন অজানায় হারিয়ে গেছিলাম আপু।আমরা তো গ্রামে ছিলাম এরকম বড়ই গাছ নিয়ে কত শত স্মৃতি মনে আছে বলার মতো না।আপনার বড়ই গাছ নিয়ে মজার স্মৃতিগুলো পড়তে অনেক ভালো লাগছিল।
আসলে আপু আমাদের সবারই জীবনে এরকম মজার কিছু স্মৃতি থাকে যেগুলো মনে করতেও ভীষণ ভালো লাগে। যাই হোক আপনার মন্তব্যটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার পোস্ট দেখে আমার সেই ছোট বেলার কথা মনে পরে গেলো। এমন একটি বরই গাছ ছিলো আমার নানু বাড়িতে। আর সেই গাছে এত্তো এত্তো বরই ধরতো যে অবাক হয়ে যেতাম। বাতাস আসলেই দৌড়ে চলে যেতাম বরই খাইতে। আবার মাঝে মধ্যে গাছ ঝাকি দেওয়ার চেস্টা করতাম কিন্তু কাজ হতোনা। ছোট ছিলাম যে। আপনারা যেমন সব বোন রা মিলে খাইতেন। তেমনি আমি আমার খালাতো বোন ও নানু মিলে খেতাম সেগুলো।
ভাই আপনার বড়ই খাওয়ার কথা গুলো পড়ে বেশ ভালো লাগলো ।আসলে সবার জীবনে এরকম মধুর কিছু স্মৃতি থাকে ।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।
কিছু বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন আপু, একটি কথা একদম ঠিক বলেছেন মেয়েদের বিয়ের পরে জীবনটা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। আমার বাবার বাসায় একটি পেয়ারা গাছ ছিল সেই গাছের সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে ছিল যেমনটা আপনার এই বড়ই গাছের সাথে রয়েছে। অনেক কথাই বলার থেকেই কিন্তু দিনশেষে পাবলিক প্লেসে এগুলো বলতে চাই না, ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু ছোটবেলার মধুর স্মৃতি গুলো মনে করতে যেমন ভালো লাগে তেমনি সবার সঙ্গে শেয়ার করতেও ভালো লাগে ।আর এটা তো নিজের পরিবার, এখানে শেয়ার করতে কোন সমস্যা নেই ।যাই হোক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন আপু মেয়েদের বিয়ের আগে একরকম থাকে আর বিয়ের পর আরেক রকম হয়ে যায়। সত্যি ইচ্ছে করলেও আমরা সেই পুরোনো স্মৃতি ফিরে পাব না। আপু আপনাদের মতো আমাদেরও একটি বরই গাছ ছিল।তার সাথে অনেক স্মৃতি রয়েছে কিন্তু আমাদের সেই গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। আপু আপনার ছোটবেলার গল্প পড়ে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ধন্যবাদ পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।
আপু আমার পোষ্টটি পড়ে আপনার ছোটবেলার কথা মনে পড়েছে জেনে বেশ ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
সত্যি আপু মেয়েদের বিয়ের পর জীবনটা অন্যরকম হয়ে যায়। আপনার ছোটবেলার গল্প পড়ে খুবই ভালো লাগলো আর আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলায় প্রতিবছর নানুর বাড়িতে বেড়াতে যেতাম আর নানুর বাড়িতে একটি বড়ই গাছ ছিল। সেই বড়ই গাছের পাশে একটা বিশাল বড় তেঁতুল গাছ ছিল। এই দুটো গাছের সাথে আমারও অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আসলে সেই দিনগুলোর কথা ভোলা যায় না। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু আমার ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। আপনার পোস্টটা পড়ে সত্যি খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেলে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।ভালো থাকবেন।
আপু আপনারা সব বোন মিলে আপনাদের ছাদে বরই খাওয়ার অনুভূতি পড়ে ভালই লাগলো। আসলে মেয়েদের জীবনটা অন্যরকম। বিয়ের আগে তাদের সময়টা কাটে একরকম আবার বিয়ের পরের সময়টা কাটে অন্যরকম। ধন্যবাদ আপু।
হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই ধরেছেন মেয়েদের জীবনটাই অন্যরকম ।এই জন্য একেক সময় একেক রকম ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আপু সময় বড় অদ্ভুত সময় সবাইকে বদলে দেয় ৷ আর এই বাস্তবটা মেনে নিতেই হবে ৷ আর মেয়ে মানুষের জীবন দুটো ৷এক পিতৃ কুলে আর আরেক জীবন স্বামী গৃহে ৷ আর এটাই নিয়তি ৷ তবে অতীতে কাটানো মুহূর্ত গুলো সবার মনে পড়ে ৷
তবে আপনার লেখা অতীতের কাহিনী শুনে অনেক ভালো লাগলো ৷ আজ আপনারা বোন গুলো ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ৷
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন ৷
হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন সময় সবাইকেই বদলে দেয়। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।ভালো থাকবেন।
সবাই মিলে একসঙ্গে কোন একটি জিনিস খাওয়ার যেই মজা সেই মজাটা এখন আর পাইনা। পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে আবেগপ্রবণ করে দিলেন আপু। সেই দিনে ফিরে যেতে খুব মন চায়। কিন্তু আসলেই তা আর সম্ভব নয়। সময়ের কারণে একেক জন একেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছি। চাইলেও আর আগেকার সেই দিনের মতো একসঙ্গে বসে বড়ই বা কোন কিছু খাওয়া সম্ভব নয় । খুব মিস করি সেই দিনগুলোকে।
হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন এই দিনগুলো আমিও সত্যি ভীষণ মিস করি। সেই দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।