শ্রমজীবী মানুষের জীবন
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
আমাদের সমাজে বহু শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে যারা বর্তমানে পরিস্থিতিতে তাদের দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে । তারপরেও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে পরিবারের প্রয়োজনে । এরকম অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে । কার খবর কে রাখছে ? এরা যে কতটা অসহায় জীবন যাপন করছে এদের সঙ্গে কথা বললে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করা যায় । সমাজের এই মানুষগুলো সত্যিই ভীষণ অসহায় জীবনযাপন করে । যদিও বাইরে থেকে দেখলে খুব একটা বোঝার উপায় নেই তাদের ভেতরের অবস্থা । কারণ এরা উপর দিয়ে সহজে তাদের অভাবটা খুব একটা অন্যদের বুঝতে দেয় না । নিজেরা কঠোর পরিশ্রম করে তাদের সংসার চালিয়ে যায় । সত্যি এই মানুষগুলোর জন্য বেশ মায়া হয় ।
শ্রমজীবী মানুষের জীবন
বেশ কিছুদিন আগে নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম ।তখন নৌকা করে নদী পার হয়ে নদীর ওপারে গিয়েছিলাম । নদীর ওপারে যাবার পরে দেখলাম একজন লোক ঝালমুড়ি বিক্রি করছে । কারণ এই জায়গাটায় নদী পার হয়ে বেশ লোকজন ঘুরতে আসে । তাই লোকটি এই জায়গাটিকেই ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে । সে নদীর ওপারের বাসিন্দা । নদী পার হয়ে এখানে শহরের বেশ কিছু লোকজন ঘুরতে আসে তাই তার কিছুটা হলেও এখানে এই জায়গাটায় বিক্রি হয় । এজন্যই হয়তো বেছে নিয়েছে এই জায়গাটা । যদিও সবাই বিকেল বেলা ঘুরতে আসে । হয়তো তার বিক্রিটা ওই সময়ই হয় । এখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে লোকটা তার বিক্রি শেষ করে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছে ।
হয়তো বাড়িতে তার পরিবার তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। এই সারা দিন ঝাল মুড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে সে বাড়ির জন্য বাজার করে ফিরবে । তারপর সে বাজার দিয়ে রান্না করে তাদের খাওয়া চলবে । আসলে শ্রমজীবী মানুষদের জীবন এমনই হয় । আমাদের বাসায়ও মাঝেমধ্যে একজন লোক কাজ করতে আসে । তাকেউ দেখি কঠোর পরিশ্রম করে । বেশ বয়স হয়েছে তার । তারপরেও জীবনের প্রয়োজনে তাকে এখনো কাজ করে যেতে হচ্ছে । সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম লোক তিনি । তার ওপর বেশ কয়েকটি জীবন নির্ভর করে আছে । তাইতো শত ঝড় ঝঞ্জা বা শরীর অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজ করে যেতে হয় ।
অথচ আমাদের সমাজে বিত্তবান লোকেরা কত বিলাস বহুল জীবন যাপন করে । আর এই মানুষগুলোর দুবেলা দুই মুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । সামনে ঈদ আসছে । ঈদকে উপলক্ষ করে পরিবারের ছোট বড় সদস্যরা কত কিছু হয়তো চিন্তা করছে । কিন্তু শেষমেশ তাদের ঈদের নতুন জামা টুকু কেনার সামর্থ্য হবে কিনা তাই বা কে জানে । সত্যি এই মানুষগুলোর জীবন বড়ই দুর্বি সহ । তাই আমাদের সবারই উচিত ঈদের সময় এই শ্রমজীবী মানুষ গুলোর দিকে কিছুটা হলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া । হয়তো তারাও তাদের ঈদের দিনটিতে কিছুটা হলেও আনন্দের সঙ্গে কাটাতে পারবে । পরিবারের সদস্যদের ছোট বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে ।
যাই হোক আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
ঠিকই বলেছেন আপু, আমাদের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই ধরনের শ্রমজীবী মানুষদের আয় খুবই স্বল্প। সব ধরনের বাধা বিপত্তি অসুস্থতা সবকিছু ভুলে কঠোর পরিশ্রম করে তারা। বর্তমানে যে পরিমাণ গরম পড়ছে প্রায় সময় ভাবি আমরা ঘরের ভিতর থাকছি তাও গরমে অতিষ্ট কিন্তু এই শ্রমজীবী মানুষগুলো বাইরে রোদে পুড়ে ঠিকই তাদের কাজ করে যাচ্ছে। আসলে আমাদের সবার উচিত কিছুটা হলেও তাদের সাহায্য করা।
হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন ঘরের ভেতরেও আমরা গরমে টিকতে পারিনা । আর এই মানুষগুলো বাইরে কিভাবে বেঁচে আছে ? যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলে এই শ্রমজীবী মানুষগুলো সারাদিন কাজ করে এবং যে টাকা উপার্জন হয় সেগুলো নিয়ে বাজার করে তারপরে বাড়িতে যায় এরপর তারা রান্না করে খায়। এই মানুষগুলো সারাদিন কতই না কষ্ট করে। ঠিকই বলেছেন আমাদের সমাজে বিত্তবান লোকেরা কত বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে। আমাদের সবারই উচিত ঈদের সময়ের জন্য হলেও তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার। ভালো একটা টপিক নিয়ে আজকে পোস্ট লিখলেন পড়ে ভালো লাগলো।
আপু আপনার কাছে আমার আজকের পোস্ট টি ভালো লেগেছে জেনে বেশ ভালো লাগলো । আসলে সবারই এগিয়ে আসা দরকার । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
খুবই ভালো লেগেছে আপনার আজকের লেখার টপিক। খুবই সুন্দর একটা টপিক নিয়ে আজকের পোস্ট টি লিখেছেন। পরিশ্রমী মানুষের জীবন সম্পর্কে লেখা আজকের পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো। আসলে মানুষ সারাদিন কতই না কষ্ট করে। তাদের উপার্জন করা সেই টাকা দিয়ে তারা দিনশেষে বাজার করে। তারপরে বাড়িতে গিয়ে রান্না বান্না করে খাওয়া দাওয়া করে। আসলে গরিবদেরও ইচ্ছা আছে ঈদের দিনটা ভালোভাবে কাটানোর। আমরা যদি তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই তাহলে তাদের ছোট-বড় ইচ্ছা গুলো পূরণ হবে। এই কথাটা কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন। আপনার কথার সাথে আমি পুরোপুরি একমত। ভালো লাগলো পড়ে।
ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে এই মানুষদেরও কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে যা অভাবের কারণে পূরণ করতে পারেনা । সমাজের বিত্তবান লোকেরা একটু এগিয়ে এলেই পূরণ করা সম্ভব । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আজ আপনি আমাদের নিকটে একটি মনের মত পোস্ট করেছেন। সমাজের এমন নিম্ন বর্ণের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লোক সংখ্যা খুবই কম রয়েছে কিন্তু বিদ্যমান মানুষেরা প্রতিনিয়ত অপব্যবহার করে চলছে কিন্তু কোন প্রকার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় না এই জাতীয় মানুষগুলোর প্রতি। যারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলছে নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য। যাইহোক খুব ভালো লেগেছে আপনার আজকের পোস্ট দেখে।
আসলে ভাই এই মানুষগুলোকে দেখলে বেশ মায়া লাগে । সেজন্যই তাদের নিয়ে আজকের লেখা ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলে আপু দুনিয়া টা বড্ড অদ্ভুত ৷ আর তার চেয়েও অদ্ভুত এই মানুষ ৷ কেউ বিত্তবান তো কেউ সাধারন একজন যে দিন এনে দিন খায় ৷ আবার কোনো পরিবার অপেক্ষায় থাকে বাড়ির প্রধৈ কর্তার আশায় ৷ যে কখনো আয় রোজগার করে বাজার করে আনবে ৷ আসলে জীবনটা বড়ই অদ্ভুত ৷
ভালো লাগলো নদীর পাড়ে শ্রম জীবি মানুষটার ফটোগ্রাফি দেখে ৷ সেই সাথে বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন ৷
হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন দুনিয়াটা বড়ই অদ্ভুত ।এই জন্যই তো ধনী গরীবের এত ব্যবধান । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলেই শ্রমিকদের সবসময়ই কাজ করতে হয়। তাদের শরীর ভালো থাকুক বা খারাপ থাকুক একদিন কাজ না করলেই যেন পেটে ভাত জোটে না। আপনি আজকে শ্রমিক জিবি মানুষদের নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট লিখেছেন। পড়ে বেশ ভালই লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ভাইয়া এই লোকগুলো সত্যিই বেশ অসহায় যারা দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খায় । যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আপু প্রায় সময় নদীর পারে বা পার্কে গেলে এমন মুড়িওলা মামা দেখা যায়। তাদের বাড়ি গাড়ি কিনার চিন্তা নেই। তাদের দুবেলা দু মোটো ডাল ভাত খেয়ে বেচেঁ থাকতে চাই। ধন্যবাদ আপু।
হ্যাঁ ভাইয়া ঠিকই বলেছেন এই মানুষগুলোকে নদীর পারে বা পার্কে বেশ দেখা যায় । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । ভালো থাকবেন ।