অপরূপ সুন্দর প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর কিছু মুহূর্ত নিয়ে হাজির হয়েছি । আসলে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের সবারই পছন্দ । সে পরিবেশে গেলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় , মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমার কাছে মনে হয় গ্রামীণ পরিবেশে গেলেই খুঁজে পাওয়া যায় । কয়েকদিন আগে আমি আমার নানু বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম । নানু বাড়িতে গেলে আমরা সব সময় নদীর পাড়ে ঘুরতে যাই । নদীর পাড়ে ঘুরতে যাবার পর আমার মামাতো বোন বলল নদীর ওপারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরো অনেক বেশি সুন্দর , চলো আমরা ওপারে যেয়ে ঘুরে আসি । তখন প্রথমে আমরা যেতে চাই নি ।কেননা আমাদের কাছে মনে হয়েছে এপার ওপার একই হবে । ও হয়তো বাড়িয়ে বলছে । কিন্তু ও খুব জোর দিয়ে বলল । আর এখন নদী পার হয়ে ওপারে যাওয়াটা বেশ সহজ হয়েছে । কেননা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে । তার কারণে নদী ভরাট করা হয়েছে ইচ্ছে হলেই নদীর উপর দিয়ে হেঁটে ওপারে চলে যাওয়া যায় । তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম নদীর ওপারে যাব । আমরা বেশ কয়েকজন ছিলাম সবাই মিলে নদীর ওপারে গেলাম । নদীর ওপারের সেই সৌন্দর্য নিয়েই আপনাদের সামনে এসেছি আশা করছি আপনাদেরও ভালো লাগবে ।
অপরূপ সুন্দর প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি
নদী পার হয়ে কিছুদূর হেঁটে যাবার পর দেখলাম সত্যিই এপারের সৌন্দর্য অনেক বেশি । বেশ কিছু বাগান রয়েছে । সে বাগানের মধ্য দিয়ে চিকন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে হয় । দুপাশে সারিসারি গাছ মাঝখানে চিকন রাস্তা সত্যি চমৎকার সে দৃশ্য । কিছুদূর যাওয়ার পর এরকম লেকের মতো দেখতে পেলাম । যেটি দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ হয়ে ছিলাম । লেকটি দেখতে এত চমৎকার লাগছিল যে বলে বোঝাবার নয় । লেকের ধারে একটি ফুলের গাছ ছিল যেটি লেকটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছিল ।
এটি নদীর একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে ফটোগ্রাফি করা । এই নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে এভাবে কখনো ফটোগ্রাফি করতে পারব জীবনেও চিন্তা করিনি ।আসলে মানুষ যেটা চিন্তা করে হয় তার উল্টো । নদীর মাঝখানে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম , বেশ ভালই লাগছিল, দুই পাশে নদী মাঝখানে আমি ।
এ ধরনের বাগানে ঘুরে বেড়াতে আমার কাছে বেশ ভালো লাগে । কেননা বাইরে সব জায়গায় প্রচন্ড গরম ছিল কিন্তু এই বাগানটায় বেশ ঠান্ডা ছিল । কেননা গাছ-গাছালিতে ভরা , এখানে সূর্যের তাপ কিছুটা কম পৌঁছায় । বেশ ভালো লাগে এখানে সময় কাটাতে।
এই রাস্তাটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে ।লেকের পাশ দিয়ে একদম নিচের থেকে উপরে ওঠার রাস্তা । সত্যি চমৎকার দেখতে । এ রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে বেশ ভালো লাগে । কেননা গাছ-গাছালিতে ভরা ছিল চারপাশ ।
আর এ দুটি হচ্ছে নদীর ছবি । নদী প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে । নদীর ওপারে আমার নানু বাড়ি । একটা সময় ছিল এই নদীতে প্রচুর পানি ছিল , প্রায় উপর পর্যন্ত উঠে আসতো পানি বর্ষাকালে । কিন্তু এখন আর ততটা পানি হয় না । সময়ের সাথে সাথে নদীও তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে ।
আর এটি হচ্ছে শেষ বিকেলে সূর্য অস্ত যাবার ছবি । সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে এভাবে অস্ত যাচ্ছিল তখন আমরা আবার আমাদের নানু বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । বেশ ঘোরাঘুরি করে আবার নদী পার হয়ে ফিরে এলাম নানু বাড়িতে । বেশ ভালই কাটিয়েছিলাম সেই বিকেলটা । আশা করছি আপনাদের কাছেও আমার ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তটি ভালো লেগেছে ।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
| লোকেশন: | বাহিরদিয়া ব্রীজ,ফরিদপুর |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
নানু বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে আসলেই সেদিন খুব ভালোই ঘোরাফেরা হয়েছিল । নদী পার হয়ে ওপার না গেলে এত সুন্দর দৃশ্য গুলো আসলেই অনেক মিস করতাম । এপাড়ের থেকে ওপারের দৃশ্যগুলো আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে। আর আবহাওয়াটাও অনেক সুন্দর ছিল ঘুরে ভালই লেগেছে। আপনার ছবিগুলো কিন্তু অনেক সুন্দর দিয়েছেন আপু।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন এবারের থেকে ওপারের দৃশ্য গুলো অনেক বেশি সুন্দর ছিল । আর আবহাওয়াটাও সেদিন চমৎকার ছিল । সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল । ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য গুলো খুবই ভালো লাগে, আর এই গ্রাম বাংলার প্রকৃতির দৃশ্য গুলো যেন মন ছুঁয়ে যায়। সত্যিই অপরূপ সৌন্দর্যময় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করলেন এবং দৃশ্যগুলো অসাধারণ ছিল।
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন গ্রাম বাংলার এই প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলো সত্যিই মন ছুঁয়ে যায় । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।
প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি অসাধারণ হয়ে থাকে। আপনার গ্রামের প্রকুতির মধ্যে সুন্দর সময় উপভোগ করেছেন।
হ্যাঁ ভাইয়া সময়টা বেশ ভালই উপভোগ করেছিলাম ।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।
আপনারা নানুর বাড়িতে গেলে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান এটা জেনে ভালো লাগলো। আপনি তো দেখছি আপনার নানুর বাড়িতে গিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে বেশ ভালোই মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। আসলে এরকম পরিবেশে ঘোরাঘুরি করতে ভীষণ ভালো লাগে। আমি ভীষণ পছন্দ করি এরকম জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে। ভালোই কেটেছে আপনার মুহূর্তটা। পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো আমার কাছে। আর ফটোগ্রাফি গুলো ও অসম্ভব ভালো ছিল আপনার।
আপু আপনিও এরকম পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন জেনে ভালো লাগলো । আসলে এ ধরনের পরিবেশে ঘুরতে বেশ ভালই লাগে । ধন্যবাদ আপনাকে ।
চার দিকে খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ। খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে। এসব জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আসলে আপনি যখন বলছিলেন আমিও ভেবেছিলাম নদীর ওপাশটা একই রকম হবে । মামাতো বোন কে নিয়ে আপনার সবাই খুব ঘুরাঘুরি করেছেন নদীর ওপাশে । দুপাশে গাছপালা মাঝখানে হাটাহাটি করতে খুবই ভালো লাগে। আপনার নানা বাড়ির ঐদিকটা বেশ সুন্দর।
হ্যাঁ আপু নদীর ওপার টা সত্যিই বেশ চমৎকার । আমার তো ধারণাই ছিল না । বেশ ভালো লাগলো ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আপু আপনি আপনার নানু বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে নদীর পাড়ে গেলেন মামাতো বোনকে নিয়ে।আপনার ঘুরে বেড়ানো অনুভূতি আর ফটোগ্রাফি দেখে খুব ভাল লাগলো। লেকের পাশে যে পথটির ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন, সত্যি ই খুব সুন্দর। প্রকৃতির বেশকিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করলেন। খুব ভাল লাগলো। শেষ বিকেলের সূর্য অস্ত যাবার দৃশ্যটিও বেশ সুন্দর ছিল।শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু আপনার কাছে আমার ফটোগ্রাফি গুলো ভালো লেগেছে এবং শেষ বিকেলের সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটি ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।
নদীর মাঝখান দিয়ে রাস্তা থাকলে তো নদীর পার হতে বেশ সুবিধা হয়। নদী পার হয়ে যে লেক দেখেছেন সেই লেকটি কি পুরাতন ওই লেক? যেটাতে আমরা ছোটবেলায় অনেক গোসল করেছি। তাছাড়া নদীর পাড়ের সৌন্দর্য এমনিতেই অনেক সুন্দর থাকে। অপারের সৌন্দর্য আরো বেশি চমৎকার মনে হল। বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন।
আসলে আপু ওই লেকটা সেই পুরানো লেক কিনা বুঝতে পারিনি । নদীর ওপার এখন আগের মত নেই ।তাই কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
জায়গাটা তো দেখছি খুবই সুন্দর দেখতে। আপনি আপনার নানুর বাড়িতে গেলে নদীর পাড়ে গিয়ে থাকেন ওখানে গিয়ে খুবই ভালো মুহূর্ত অতিবাহিত করে থাকেন তাহলে। আপনার মামাতো বোন আপনাকে অনেকবার বলেছিল নদীর ওই পাড় টা খুবই সুন্দর দেখতে। প্রথম প্রথম আপনার কাছে মনে হচ্ছিল যে, ও হয়তো মিথ্যা বলতেছে অথবা বাড়িয়ে কথা বলতেছে। কিন্তু যখন গেলেন তখন বুঝতে পারলেন জায়গাটা কত সুন্দর পরিবেশটা কতই না সুন্দর ছিল। ওখানে গিয়ে খুবই সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন এবং ফটোগ্রাফি করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
হ্যাঁ ভাইয়া নদীর ওপারে গিয়ে বেশ ভালো সময় অতিবাহিত করেছি । আর জায়গাটাও দেখতে বেশ সুন্দর । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
ইট কংক্রিটের শহর থেকে বেরিয়ে গিয়ে এরকম নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পারলে যা ভালো লাগবে এটা কখনো বলে বোঝাবার নয়। বিশ্বাস করেন আপু ছবিগুলো দেখছিলাম আর ভীষণ মিস করছিলাম জায়গাটাকে। নদীগুলো শুকিয়ে গিয়ে সৌন্দর্য একদম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। সব জায়গায় একই অবস্থা। তবে লম্বা গাছের সাড়ি গুলোকে অসাধারণ লেগেছে।
হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন নদীগুলো শুকিয়ে একদম সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । কিছুই করার নেই ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । ভালো থাকবেন ।
প্রকৃতি ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিলে প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে নদীর পাড়ের প্রকৃতি একটু বেশিই সুন্দর লাগে দেখতে। আপনার পোস্টের মাধ্যমে সেটা দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগলো আপু।
হ্যাঁ আপু নদীর পাড়ের প্রকৃতি দেখতে আমার কাছেও ভীষণ ভালো লাগে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । ভালো থাকবেন ।