শৈশব স্মৃতি || পাগল দেখে ভয় পাওয়া
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে আমার শৈশবের কিছু স্মৃতি নিয়ে হাজির হয়েছি । আসলে প্রতিটা মানুষের জীবনেই শৈশব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।প্রতিটা মানুষই আমার মনে হয় শৈশবে বেশ আনন্দঘন সময় কাটায় । পরবর্তীতে যখন সে তার শৈশব কে হারিয়ে ফেলে তখন শত চেষ্টা করেও আর শৈশব ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু শৈশবের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত প্রতিটা মানুষের জীবনেই স্মরণীয় হয়ে থাকে, যা পুনরায় মনে করতেও ভীষণ ভালো লাগে । আজ আমি আমার শৈশবের মধুর স্মৃতির কিছু অংশ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব । আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
শৈশব স্মৃতি || পাগল দেখে ভয় পাওয়া
আসলে আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন অনেক কিছুই জীবনে ঘটে গিয়েছে। তার কিছু হয়তো মনে আছে আবার অনেক কিছুই হয়তো মনে নেই ।অসংখ্য ঘটনা জীবনে ঘটে গিয়েছে, তার পরেও কিছু কিছু স্মৃতি আছে যেগুলো আজও মনে পড়ে। আজকে আমি যে ঘটনাটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব সেটি আমার শৈশবে ঘটে যাওয়া মোটামুটি ভয়ের একটি ঘটনাই ছিল।
তখন আমি স্কুলে পড়ি। কোন ক্লাসে তা ঠিক মনে নেই। তখন আমাদের বাসা ছিল মেইন রোডের পাশে। মেইন রোড দিয়ে মাঝে মাঝেই একটা পুরুষ পাগলকে যেতে দেখতাম। দূর থেকে দেখতাম তাই কখনো বেশি ভয়ের মনে হয়নি।তবে পাগলটা আমাদের দিকে কেমন করে যেন তাকাতো সামান্য ভয় লাগতো। কয়েকদিন পর পরই বাসার সামনে দিয়ে যেতে দেখতাম মেইন রোড দিয়ে। আমাদের বাসা যেহেতু রোডের পাশেই ছিল তাই জানালা দিয়ে রাস্তা দেখা যেত ।আর জানালার পাশেই ছিল আমার পড়ার টেবিল ।তেমনি একবার আমি টেবিলে বসে বসে পড়ছিলাম। আমার পেছনে ছিল জানালা।
খুবই মনোযোগ সহকারে পড়ছিলাম। পেছনের দিকে তাকানো হয়নি একবারের জন্যও ।তেমনি হঠাৎ করে আমার জানালার খুব কাছ থেকে একটা ভয়ংকর শব্দ শুনতে পেলাম আকেআকাও। যেটা ছিল ওই পাগলের মুখ থেকে করা শব্দ যা আজও আমার পরিষ্কার মনে আছে। আমি চিৎকার দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম । একদম আমার জানালার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল পাগল টি । আমি তো ভয়ে কান্না শুরু করে দিলাম আর আমার আম্মাকে ডাকতে শুরু করলাম।আমার মা সবজি কাটছিল ।আমার চিৎকার শুনে দৌড়ে চলে এলো।
ততক্ষণে পাগলটি জানালা থেকে সরে গিয়ে দূরে যেয়ে রাস্তা পার হয়ে আমাদের বাসার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর আমার মা জানালা দিয়ে পাগল টিকে লাঠি দেখালো আর বলল আর এদিকে আসলে এটা দিয়ে বাড়ি দিব। তারপর পাগল টি ভয়ে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল ।তারপর আর কখনো পাগলটিকে ওরকম ভাবে দেখি নি। তবে সেদিন আমি সত্যি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। এমনিতেই পাগল ভীষণ ভয় পাই ।তারপর ওতো কাছ থেকে দেখে প্রচন্ডরকম ভয় পেয়েছিলাম যা আজও আমার মনে পড়লে ভয়ে গা শিউরে ওঠে। তাই ভাবলাম আজ সেই ভয়ের কাহিনীটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি। হয়তো আপনাদের ভালো লাগবে। আশা করছি আপনাদের কাছে গল্পটি ভালো লেগেছে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি একজন হাউজ ওয়াইফ। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করেছি।ঘুরে বেড়াতে , ঘুমাতে এবং গান শুনতে আমি ভীষন পছন্দ করি।বাগান করা আমার শখ।এছাড়াও আর্ট , বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করতেও ভালো লাগে। আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আপু আমি পাগল দেখলে এখনও ভয় পাই।আর আপনি তো তখন ছোট ছিলেন ভয়টা একটু বেশীই পাওয়ার কথা।আপনার ছেলেবেলার ঘটনাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু।আমাদের জানা- অজানা অনেক গল্পই মনের মাঝে আছে।ধন্যবাদ আপনাকে ছেলেবেলার ভয়ের ঘটনাটি শেয়ার করার জন্য।
আসলে আপু পাগল দেখলে আমি এখনো ভীষণ ভয় পাই। আর তখন তো অনেক ছোট ছিলাম তাই ভয়টা আরও বেশি ছিল। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
এজাতীয় ঘটনাগুলো পড়তে পড়তে জেনো নিজের মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগার সৃষ্টি হয়ে আসে কিন্তু পড়া শেষ তখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।মনে হয় এটা তো একেবারে স্বাভাবিক ছিল। যেহেতু আমরা ছেলে মানুষ কিন্তু আপনার ওই মুহূর্তটা অবশ্যই খুবই ভয়ানক ছিল যেহেতু জানালার পাশে পড়ছিলেন আর পাগল ঠিক এসে সেখানে দাঁড়িয়ে। যাই হোক ঘটনাটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এবং জানার সুযোগ করে দিয়েছেন তাই খুশি হলাম।
ভাই আমার শৈশবের ঘটনাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। শুভকামনা রইল।
শৈশব এ ফিরে যেতে তো সবাই চাই আপু। কিন্তু সেটা তো অসম্ভব। শৈশব এ কী আর ফেরা যায়। পাগলের ঐ ঘটনাটা আপনার এখনও মনে আছে। বোঝা যাচ্ছে সেদিন তাহলে অনেক টা ভয় পেয়েছিলেন। আর ভয় পাওয়ারই কথা। আপনার ছোটবেলার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাটা শুনে বেশ লাগল। এখনো স্মরণে থেকে গেছে।।
হ্যাঁ ভাইয়া ঘটনাটি আমার এখনো পরিষ্কার মনে আছে। কেননা ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম যে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
ছোটবেলার কিছু কিছু ঘটনা সারাজীবন মনে থাকে আমাদের। আপনি যেহেতু পাগল দেখে এতটা ভয় পেয়েছিলেন,এই ঘটনা জীবনেও ভুলতে পারবেন না। ছোটবেলায় পাগল দেখলে আমারও ভীষণ ভয় লাগতো। আমাদের এখানে সফুরা পাগলনি ছিলো,সে বেশিরভাগ সময় রাস্তায় থাকতো এবং কাউকে দেখলে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে চাইতো। বেশ কয়েকবার আমি দৌড় দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। আপনার পোস্ট পড়ে আমারও ছোট বেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আপনাদের পাগল টা বেশ মজার ছিল মনে হচ্ছে ।আপনার মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
হ্যাঁ আপু সেই পাগলটা সবার সাথেই মজা করতো এবং ভয় দেখাতো। যাইহোক ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
হঠাৎ করে এভাবে পিছনে পাগল কে দেখলে ভয় তো লাগবেই। আসলে পাগলটা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল হয়তো অনেকক্ষণ আগেই। হয়তো শব্দ করার পর বুঝতে পেরেছেন। আপু আপনার শৈশবের সেই স্মৃতি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জানিনা আপু আগে থেকে দাঁড়িয়ে ছিল কিনা। কিন্তু যখন আমি শব্দ পেয়েছি তখনই ভীষণ ভয় পেয়েছি। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।