দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে...
হ্যাল্লো বন্ধুরা
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, সবাইকে আমার নমষ্কার /আদাব। আশা করছি আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও মহান সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে ভালো আছি। তবে আমার হাসবেন্ড এর বিগত কয়েকদিন থেকেই দাঁত নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিলো। রাতে ঘুমোনোর সময় করে প্রতিদিন দাঁতে ব্যাথা করছে বলছিলো। তাই গতকাল সুযোগ পেয়ে চলে গেলাম দাঁতের ডাক্তারের কাছে।
আমার মনে হয় জীবনে প্রতিটি মানুষেরই কখনো না কখনো দাঁতের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই হয়। কেউ কেউ হয়তো ছোটবেলা থেকেই শরণাপন্ন হয় (অতিরিক্ত মিষ্টি-চকলেট খাওয়ার সুবাদে, কিংবা দুধ দাঁত ফেলানোর জন্যও হতে পারে)। আবার সেটা যদি নাও প্রয়োজন হয়, বড় বেলায় কেউই বোধ হয় আর রক্ষা পায় না। যদিও আমি এখোনো পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছি, তবে কতদিন স্থায়ী সেটা তো ভগবান ই ভালো জানেন।
আচ্ছা, দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে কি আমার একারই ভয় কাজ করে? নাকি সবারই একটু জানায়েন তো। আমার তো এই ভয় টা কাজ করে, কারণ দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া মানেই একটা পেইনফুল প্রসেসের ভিতর দিয়ে চিকিৎসা। আর মেশিনগুলোরও এমন শব্দ হয়, ভয় লাগাটাই বোধ হয় স্বাভাবিক। তো যাই হোক, আসল কথায় আসি। আমার হাসবেন্ড এর এপোয়েন্টমেন্ট ছিলো সন্ধ্যা ৬ টায়। পারিবারিক কিছু ইস্যুর কারণে আমি আজকের দিনটা আগে থেকেই অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। তাই বাসায়ই ছিলাম। সেই হিসেব করে দুইজনই বের হলাম। ঠিক সময় মতোন ডাক্তারের চেম্বারেও পৌঁছে গেলাম। জ্যামজটের শহরে কোথায় সময় মতো পৌঁছাতে পারাটাও কঠিন বিষয়। গিয়েই প্রথমে উনার এসিস্ট্যান্ট আমাদের হাতে একটা ফর্ম দিয়ে দিলো। সেই ফর্মে রোগীর বর্তমান কি সমস্যার জন্য এসেছে, পাস্ট হিস্টোরি এবং বর্তমানে কী কী কারণে কী কী ওষুধ খাচ্ছে সে সব ডিটেইলস লিখতে হয়েছে। তারপর প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সুযোগ হলো।
ভেতরে গিয়ে দেখলাম বেশ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত। দুইজন এসিস্ট্যান্ট কে সাথে নিয়ে উনি রোগী দেখেন। একজন অবশ্য বেশ নতুন, তার কাজ বাজ এই বোঝা যাচ্ছিলো, ডাক্তার সাহেবও উনাকে বেশ একটু পর পর ধমক দিয়ে দিয়ে কাজ শেখাচ্ছিলেন। ডাক্তার সাহেব অনেকক্ষণ সময় নিয়ে আমার হাসবেন্ড এর অবস্থা চেক করলেন, তিনটা এক্সরে করলেন। চেক আপ করে জানা গেলো আপাতত ওষুধ খেয়েই ঠিক হওয়ার কথা। কয়েক দিনের ওষুধ খেয়ে আরেকবার ফলো আপ এ আসতে বললেন। সাথে একবার স্কেলিং করে ফেলতে পরামর্শ দিলেন। এবং সাথে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে বললেন।
আসলে দাঁতের চিকিৎসা গুলো বেশ ভালোই ব্যয় বহুল। ডাক্তার সাহেব যখন স্কেলিং করানোর কথা বলেছিলেন, আমি কেমন খরচ পরবে সেই ব্যাপারে আইডিয়া চেয়েছিলাম। উনি জানালেন উনার ওখানে ৩৫০০ টাকা পরবে।
আমরা আইডিয়া নিয়ে চলে আসলাম। আবারো কয়দিন পর যেতে হবে ফলো আপ এর জন্য। এর মধ্যে ওষুধ খেয়ে আসলেই ব্যাথাটা কমে গেলে হয়। সবার কাছে দোয়ার দরখাস্ত রইলো।
এতক্ষণ সময় নিয়ে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে
এতক্ষণ সময় নিয়ে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে 🌼 ধন্যবাদ 🌼
আমি- তিথী রানী বকসী, স্টিমিট আইডি @tithyrani। জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। পেশায় একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। বিবাহিতা এবং বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছি।২০২৩ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখে স্টিমিটে জয়েন করেছি। OR
ভ্রমণ করা, বাগান করা, গান শোনা, বই পড়া, কবিতাবৃত্তি করা আমার শখ। পাশাপাশি প্রতিদিন চেষ্টা করি নতুন নতুন কিছু না কিছু শিখতে, ভাবতে। যেখানেই কোন কিছু শেখার সুযোগ পাই, আমি সে সুযোগ লুফে নিতে চাই৷ সর্বদা চেষ্টা থাকে নিজেকে ধাপে ধাপে উন্নত করার।
গত বছর আমাদের মুস্তাফিজুরের দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণে তাকে আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে যে ঠিক এভাবেই দেখেছিলাম অজানা অচেনা অনেক প্রকার আধুনিক সরঞ্জাম, দেখে মনে হয়েছিল যেন কিছুটা ভীতুস্থ হচ্ছি। আমি এরপর যখন তার ট্রিটমেন্ট করা হচ্ছিল আমার যে কতটা ভীতিকর অবস্থা হয়ে পড়েছিল, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এদিকে মুস্তাফিজুর আমার উপস্থিতিতে সাহসের সাহসের সেও দাঁতের ট্রিটমেন্ট করাতে সক্ষম হয়েছিল।
সেটাই ভাই, সাথে একজন থাকলে তাও একটু মনোবল পাওয়া যায়....
কি যে বলেন দিদি শুধু মাত্র স্কেলিং করতেই ৩৫০০ টাকা। ইস্ কেন যে ডাক্তার হলাম না। আগে জানলে রাতদিন পড়ে তারপর ডাক্তার হতাম। তবে ভালো যে আপনার মাত্র ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর অন্য জায়গায় তো ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। যাক আপনার পোস্ট পড়ে ভালো ধারনা পাওয়া গেল। তাই দাতেঁর সমস্যায় দৌঁড় দিব সরকারি হাসপাতালে। হি হি হি
সরকারি হাসপাতালে এখন মোটামুটি ভালোই চিকিৎসা দেয় শুনেছি। তবে টাইমিং এ মিলে না, এটাই ঝামেলা আপু। নইলে এতগুলো টাকা গচ্ছা দেয়া লাগতো না।
আসলেই দিদি দাঁতের চিকিৎসাটা বেশ ভালই ব্যয়বহুল। ডাক্তারের পরামর্শ মতো চললে আশা করি দাঁতের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমিও এর আগে কয়েকবার করে দাঁতের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি এ পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
দাঁতের সমস্যাটা আমার না ভাই, আমার হাসবেন্ড এর। আশা তো করছি যে ঔষুধ খেয়েই ঠিক হয়ে যাবে। দেখা যাক কী হয়....
হুম দিদি।
দাঁতের সমস্যা জনিত পোস্ট দেখলেই, অতীত মনে পড়ে যায়।
আহারে অতীত 🙏
দাঁতের চিকিৎসা এমন ভয়ের কেন ভাই? 😥 ছোট থেকে বড় সবাই ভয় পায় ডেন্টিস্ট এর কাছে যেতে।
কমিউনিকেশন গ্যাপের কারণে। এই ভয়টা ছোট থেকেই মাথার ভিতরে ঢুকে গিয়েছে বিধায়।
শুধু দাঁতের ডাক্তার কেন আমার ডাক্তার এর কাছে যাবার কথা শুনলেই ভয় লাগে। যাই হোক দাদা ভাই তারাতারি সুস্থ হয়ে উঠুক এই প্রার্থনা করি।
অন্যান্য ডাক্তারে তাও অভ্যেস হয়ে গেছে বা তেমন একটা ভয় লাগে না। জানি কয়েকটা টেস্ট দিবে- এইটুকুই। কিন্তু আমার কাছে দাঁতের ডাক্তারের ভয়টা কেমন আলাদা।
সত্যি কথা বলতে ডাক্তারের কাছে যেতেই ভালো লাগে না।আর দাঁতের ডাক্তার হলে তো আরো ভয়ের বিষয়। যাই হোক ভাইয়াকে ডাক্তার চেক করলেন।আর তিনটা এক্সরে করলেন।আর বললেন আপাতত মেডিসিনেই কাজ হবে। আবার ফলোআপে যেতে বললেন।এটা সত্যি দাঁতের খরচ খুব ব্যয়বহুল।আল্লাহ সুস্থতা দান করুন এমনটাই আশাকরি। ধন্যবাদ দিদি।
এইটাই প্রার্থনা আপু যে জলদি ভালো হয়ে যাক। ভোগান্তি আর না বাড়ুক। আপনাকে ধন্যবাদ আপু।