মাকাল ফল
স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের প্রথম এবং একমাত্র বাংলা কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর বাংলাভাষী সদস্য আশা করি ভালো আছেন। আজকের পোস্টে আলোচনার বিষয় বাংলা বাগধারায় বহুল ব্যবহৃত উপমা মাকাল ফল।
বাংলা ভাষার বাগধারায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের উপমার মধ্যে খুব প্রচলিত একটি উপমা হচ্ছে “মাকাল ফল”। দেখতে সুন্দর কিন্তু কাজ হয় না এমন মানুষদের তুলনা করা হয় মাকাল ফলের সাথে। তবে উপমা হিসেবে প্রচলিত মাকাল ফল একেবারে ফেলনা নয়।
এই ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Trichosanthes tricuspidata। লতানো এই উদ্ভিদ প্রাচীনকালে মহাকাল নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে মহাকাল নামটি বিকৃত হয়ে মাকাল নামে সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে। এই গাছের আদি জন্মস্থান তুরস্কে। পরবর্তীকালে তুরস্ক থেকে আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে এই গাছটির বিস্তার ঘটেছে। বহুবর্ষজীবী এই উদ্ভিদের ৪২টি প্রজাতি পৃথিবীতে পাওয়া যায়। মাকাল ফলের গাছ জঙ্গলের বড় কোন গাছকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ উচ্চতায় ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। গ্রীষ্মকালে মাকাল গাছে ফুল আসে এবং বর্ষাকালের ফল পরিপক্কতা পায়।
গোল আকৃতির মাকাল ফলের রং সবসময় একরকম থাকে না। কাঁচা ফলের রং থাকে সবুজ, তারপর পরিণত হওয়ার সময় হলুদ এবং পরিপক্ক হলে লাল রঙের হয়। মাকাল ফলের রঙিন সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। কিন্তু দেখতে সুন্দর হলেও এই ফলের ভিতরের অংশ দুর্গন্ধ এবং শাঁসযুক্ত হওয়ায় এটি খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে এটি পাখিদের প্রিয় খাবার।
মানুষের খাওয়ার উপযোগী না হলেও মাকাল ফল এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গুণ রয়েছে। বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ তৈরিতে মাকাল গাছের শিকড় কাজে লাগে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, শরীরের ক্ষত উপশমে এই গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হয়। প্রসাবের সমস্যা, বাতের ব্যথা, জন্ডিস এবং এজমার চিকিৎসায় মাকাল গাছের কান্ড, মূল এবং ফলের বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। মাকাল ফলের ভেতরে থাকা বীজ থেকে তৈরি করার তেল ডায়রিয়া, আমাশয়, মৃগী রোগ, পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসায় উপকারী। এছাড়াও চুলের রং কালো করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে এই তেল অনেক কার্যকর।
বরাবরের মতোই তথ্য বহুল পোস্ট। শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য।