বাড়িতে ইফতার আয়োজন।
আসসালামু আলাইকুম
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালোই আছেন। উপরওয়ালার অশেষ রহমতে আমিও বেশ ভালো এবং সুস্থ আছি। এখন যে পরিমাণ গরম শুরু হয়েছে সুস্থ থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি যখন প্রথম দিন গ্রামে এসেছি তখন দু-তিন বেশ আরামে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে দু'দিন ধরে প্রচন্ড গরম শুরু হয়েছে। এত গরম যা সহ্য করার মতো নয়। এর মধ্যে আবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে সবমিলিয়ে একদম বাজে অবস্থা। কাল সারাদিন প্রচন্ড গরমের পর সেহেরিতে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছু দেখা যায় না। আমরা সবাই এত কুয়াশা দেখে অবাক হয়ে গেলাম আর ভাবলাম হয়তো সকাল হলে একটু ঠান্ডা লাগতে পারে।
কিন্তু না সকাল হওয়ার সাথে সাথে এত পরিমানে রৌদের তাপ শুরু হয়েছে বুঝানোর মতো না। আমাদের বাড়িতে আবার দুটো বাচ্চা রয়েছে আর তাদের নিয়ে আমাদের অবস্থা একবারে খারাপ। আমার ছেলে তো গতকাল সারাদিন প্রচুর বিরক্ত করেছে। যাই হোক কাজের কথায় আসি প্রতি রমজানে আমরা সবার বাড়িতে আর মসজিদে ইফতার বিতরণ করি। সেই হিসেবে এবারও দেওয়ার জন্য আয়োজন করলাম। এত ব্যস্ততার মাঝে ছবি তুলা খুবই কষ্টকর। তারপরও যতটুকু পেরেছি তুলার চেষ্টা করলাম।
আমাদের মসজিদের পাশে আবার মাদ্রাসা রয়েছে সেখানে অনেক ছাত্র পড়ালেখা করে। তারজন্য বেশি পরিমাণ ইফতারির আয়োজন করতে হয়েছে। আপেল, আঙ্গুর আর মাল্টা আনা হয়েছে। এছাড়া ছিল শরবত,খেজুর আর সাধারণত যেসব চপ, ছোলা ভুনা, বেগুনি এসব কিছু ছিল। আমরা বাসায় শুধু বুট ভুনা করেছি আর বাকি সব ইফতারি বাজার থেকে কিনে আনা হয়েছে।
আমরা বিকাল তিনটার দিকে কাটাকাটি শুরু করেছি। প্রায় এক ঘন্টা লেগেছে সব রেডি করতে।এরপর তিন ভাগের দুই ভাগ মসজিদে নিয়ে গিয়েছে আর এক ভাগ বাড়িতে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে ছোট ছেলে মেয়ের অভাব নেই। তাদের সবাইকে প্লেট সাজিয়ে বলা হয়েছে সবার বাড়িতে দিয়ে আসতে। আমিও সাথে গিয়েছি কিছু বাড়িতে ইফতারি দিয়ে আসতে।
কিন্তু আমি মনে হচ্ছে ইফতারি দিতে গিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছি। যেই বাড়িতে নিয়ে যাই সেই বাড়িতেই ইফতারি দিতে দেরি হয়। আমি কবে আসছি এই কথা সবাইকে বলতে বলতে মনে হলো ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। তারজন্য একবার গিয়ে আর যাওয়া হয়নি। ছোটছেলে মেয়ে বাকি ইফতারি দিয়ে এসেছে। এরপর সবাই মিলে একসাথে বসে ইফতার করেছি। এভাবে আমাদের ইফতার আয়োজন শেষ হয়ে গেল।
আমার লেখা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনাদের কাছেও এই পোস্ট খুব ভালো লাগবে। যদি আমার পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন এই দোয়া কামনা করি।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
ভালই আয়োজন করা হয়েছে দেখছি। আপেল এবং মালটার ট্রে টা দারুণ করে সাজানো হয়েছে। আমাদের বাড়িতেও প্রতি বছর সবাইকে দাওয়াত দিয়ে এভাবে বাসায় খাওয়ানো হয়। তবে মাঝেমধ্যে কারো কারো বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। তবে আপনাদের এই আয়োজন দেখে খুবই ভালো লাগছে। যেহেতু বাসা থেকে বাড়িতে গিয়েছেন সেই হিসেবে সকলের মনে প্রশ্ন আর আগ্রহ নিয়েই আপনাকে জিজ্ঞেস করা। যাই হোক অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। হ্যাঁ ভাইয়া অনেক দিন পর আসাতে সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে। সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
গরমে আমরা বড়রাই অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি বাচ্চারা ত আরো বিরক্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। অন্যদের ইফতারি করানো অনেক সওয়াবের কাজ। আপনারা অনেক ইফতারির আয়োজন করেছেন, জেনে ভাল লেগেছে। অনেকদিন পর বাড়ি গেলে অনেক মানুষই কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করে কবে এসেছেন। ধন্যবাদ আপু।
গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
অনেক সওয়াবের একটি কাজ করেছেন। রোজাদার ব্যাক্তিকে ইফতার খাওয়াতে পারলে এর থেকে ভালো কাজ আর কি আছে বলুন।
পুরো পরিবেশটা দারুন ছিল।
এখন প্রচন্ড গরম পরেছে, পরিবার নিয়ে সুস্থ থাকুন এই কামনা করছি।
ভাইয়া সত্যি সবাইকে এভাবে ইফতার খাওয়াতে পারলে অনেক ভালো লাগে। আপনার পরিবার নিয়ে সুস্থ থাকেন এই দোয়া কামলা করি।
খুব ভাল লাগলো আপনাদের আয়োজন দেখে। আসলে রোজাদারদের কে ইফতার করানোতে মনে তৃপ্তি পাওয়া যায়। খুব সুন্দরভাবে সবাইকে দিতে পেরেছেন জেনে খুব ভাল লাগলো। ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
আপু আমার কাছে ও রোজাদারকে ইফতার খাওয়াতে পারলে মনে তৃপ্তি আসে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
বাড়িতে অনেক গুলো মানুষের ইফতারের আয়োজন করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগছে। আপেল ও মালটা ট্রেন গুলো বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছেন।আপনার মেহমান আপ্যায়ন এর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আমার কাছে রোজার মধ্যে সবাইকে এভাবে ইফতার খাওয়াতে আর সবাই একসাথে বসে ইফতার করতে ভালো লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
এটা আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু একই সাথে যেমন গরম পড়তে শুরু করেছে ঠিক তার বিপরীত দিকে লোডশেডিং শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনি তো দেখছি বাড়িতে ইফতারের জন্য অনেক আয়োজন করেছিলেন। আমার কাছেও মনে হয় ইফতারিতে এই ধরনের ফল খাওয়া অনেক ভালো।
হ্যাঁ সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে ফল খেলে শরীর ভালো থাকে। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
রোজাদারকে ইফতার করানোর মজাটাই আলাদা। এটি আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। বেশ ভালই ইফতারের আয়োজন করেছেন। আপেল এবং মাল্টার প্লেট গুলো খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন দেখতে লোভনীয় লাগছে। বাড়িতে ইফতার আয়োজনের মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপু আরও অনেক গুলো আইটেম ছিল কিন্তু ছবি তুলতে সময় পাইনি। আমার কাছেও ইফতার খাওয়াতে অনেক ভালো লাগে।সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
কুয়াশা পড়েছিল ঠান্ডা তাও পড়লো না।কবে যে বৃষ্টি হবে আল্লাহ জানেন।আপনি বাড়িতে গিয়ে খুব সুন্দর ইফতারের আয়োজন করেছেন আপু।এভাবে ইফতারের আয়োজন করে সবাইকে খাওয়াতে পারলে অনেক সওয়াব হয়।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আপু এখনও মাঝে মাঝে কুয়াশা পড়ে কিন্তু কেন যে বৃষ্টি হয় না আর ঠান্ডা পড়ে না বুঝিনা। হ্যাঁ আপু রোজার সময় সবাই কে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ালে অনেক সওয়াব হয়। সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আসলে রমজান মাসে আত্মীয়-স্বজন কি ইফতারের দাওয়াত করতে এবং সকলকে নিয়ে একত্র ইফতারি করার মাঝে বেশ সব রয়েছে। আপনি তো দেখি বেশ সুন্দর করে ফলে এগুলো সাজিয়ে নিলেন। খুব ভালো ভালো ইফতারি করেছেন বোঝা যাচ্ছে।
আপু আরও অনেক আইটেম ছিল ছবি তুলার সময় পাইনি। তবে সবাই একসাথে বসে ইফতার করার মজাই আলাদা। ধন্যবাদ।
আপু মসজিদে ইফতারি দেওয়ার জন্য বাড়িতে খুব সুন্দর ভাবে ইফতারির আয়োজন করেছেন। মালটা আর আপেল গুলো খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন। দেখে অনেক ভাল লাগলো। ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।