শ্বাশুড়ি মায়ের ভালোবাসা
আসসালামু আলাইকুম
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমি মোটামুটি ভালো আছি। ছেলের জ্বর কমেছে কিন্তু কিছু খায় না তবে খুব বিরক্ত করে। অকারণে কান্না করতে থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয় ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিকালে মা ফোন দিয়ে বললো নানা মারা গিয়েছে। নানা বলতে আমার মায়ের আপন মামা। মা একটাই মামা ছিল তিনিও আজ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সবাই গিয়েছে কিন্তু ছেলের অসুস্থতার জন্য আমি যেতে পারলাম না। এত ঝামেলার মধ্যে কি পোস্ট করবো বুঝতে পারছিলাম না। এরপর ভাবলাম মোবাইলের গ্যালারিতে যা পাবো তাই নিয়েই পোস্ট লেখা শুরু করবো। গত রবিবার আমার শ্বাশুড়ি গ্ৰাম থেকে আমার বাসায় এসেছে। তিনি আমার বিয়ের পর একবার এসেছিলেন। তাও আবার যখন আমার বাবু হয়েছিল তখন। ঐ সময় আমি তার কাছে থাকতে পারিনি।
বাবু হওয়ার জন্য আমার মা আমাকে নিয়ে যায় আর আমার বাসায় আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কিছু দিন থেকে গ্ৰামে চলে যায়। আমাদের গ্ৰামের বাড়ি এখনো আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে কেউ যায়নি। তারজন্য ভাবলাম এবার যেহেতু সুযোগ হয়েছে তাহলে কাউকে নিয়ে যেতে হবে। সামনে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী তারজন্য আমার মা কয়েকজন মানুষ দাওয়াত করেছেন। তারজন্য মা আমার শ্বশুর বাড়িতে দাওয়াত করে। কিন্তু কেউ আসতে রাজি নয় তার কারণ তাদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি।
এরপর অনেক কষ্টে শ্বাশুড়ি মা'কে রাজি করালাম। গত রবিবার তিনি আমার বাসায় আসেন। অনেক দিন আসার কথা চলছে বলে তারা আমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে এসেছে। অনেকের শ্বাশুড়িকে দেখেছি ছেলের বউ কে একদম সহ্য করতে পারেনা। আমার শ্বাশুড়ি মায়ের এত ভালোবাসা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছি। সে আসার সময় বড় দেখে একটি বস্তা ভরে খাবারের জিনিস নিয়ে এসেছে। নিজের পুকুরের মাছ আর দেশি মুরগিসহ আরও অনেক কিছু।
কয়েক ধরনের পিঠা, চিপস, বাদাম ভাজা, মটর ভাজা,ঝাল নাড়ু, নারিকেল, জাম্বুরাসহ আরও অনেক কিছু। এসব কিছু রেডি করতে আমার ননদ সাহায্য করেছে। সে অধৈক রাত পর্যন্ত বসে পিঠা বানিয়েছে। এই যে ভালোবাসা তা কখনো ভুলার মতো নয়। আমার শ্বাশুড়ি বলে এখন হয়তো এত ভালোবাসা বুঝবা না কিন্তু যখন আমি না থাকবো তখন ঠিকই বুঝবা। আমি যখন গ্ৰামে যাই তখন আসার সময় এভাবে অনেক কিছু দিয়ে দেয়। এবার দু'মাস গ্ৰামে থাকার পর যেদিন চলে আসবো তখন আমার হাতে চুপিচুপি পাঁচশত টাকা দিয়ে বললো এটা তোমার কাছে রেখে দাও কাজে লাগবে। আমি তার এই ভালোবাসা দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
আমি তার এই ভালোবাসার কতটা মূল্য দিতে পারি জানিনা। তবে চেষ্টা করি তাকে সবসময় খুশি রাখার। আমার বাসায় আসার পর কোনো কাজ করতে দেয়নি। তবে ছেলের অসুস্থতার জন্য আজ তিনি রান্না করেছেন। আমি একটুও তাকে কোনো কাজে সাহায্য করতে পারিনি। চিন্তা করেছি যত দিন আমার কাছে থাকবে একটু ঘুরতে নিয়ে যাবো। গ্ৰামের মানুষ তো তাই শহরে এসে বেশি দিন থাকতে পারেনা। দু'দিন এসেছে এখনই যাওয়ার জন্য চলে যেতে চায়।
বন্ধুরা লেখা শুরু করলে যেন শেষই হয়না। তবে মন বেশি ভালো লাগে না বলে আর কিছু লিখতে পারলাম না। আজ এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে অন্য কোনো পোস্টের মাধ্যমে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন আর নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
এটা ঠিক বলেছেন আপু, এখনকার শ্বাশুরীরা তেমন বউদের দেখতে পারে না। সংসারে একটার পর একটা ঝগড়া লেগে থাকে তখন। যাক, আপনার শ্বাশুরি বেড়াতে এসেছে জেনে ভালো লাগলো। কিছুদিন বাহিরে ঘুরালে ভালো লাগবে উনার।
আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
বাহ! আপনার জন্য দেখছি অনেক খাবার-দাবার আনলেন আপনার শাশুড়ি মা। মায়েদের ভালোবাসার কোন তুলনা হয় না। মা-বাবারা যখন দূরে থাকেন তখন তাদের একটু চিন্তা থাকে সন্তানেরা কি খাচ্ছে সে বিষয় নিয়ে। যেহেতু আপনার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য আনলেন ভালো লাগলো শুনে। তাছাড়া খাবার দাবার গুলো অসাধারণ ছিল আপু। খুব সুন্দর একটি অনুভূতি শেয়ার করলেন ভীষণ ভালো লেগেছে।
হ্যাঁ আপু অনেক খাবার নিয়ে এসেছে। আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।