গ্ৰাম যেন সবসময় হাতছানি দিয়ে ডাকে
আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনারা সবাই কেমন আছেন? সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।
আজ সকাল থেকে ভাবছি কী পোস্ট করবো। কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পোস্ট খুঁজে পাচ্ছিলাম না বললে ভুল হবে কারণ যেকোনো কিছু নিয়েই পোস্ট লেখা যযায়। কিন্তু কোনো কিছু লেখার মতো কোনো ভাষা মাথায় আসছিল না। তার কারণ আজ সকাল থেকে মাথা প্রচুর যন্ত্রনা করছিল। সেজন্য সারাদিন ঘুমিয়ে ছিলাম। এখন একটু ব্যথা কমেছে তাই চিন্তা করলাম কিছু একটা লিখে পোস্ট করা যাক। এরপর গ্যালারিতে অনেক আগে তোলা গ্ৰামের কিছু ছবি খুঁজে পেলাম। সেটা নিয়েই লিখতে বসেছি।
আমরা যারা শহরে থাকি তাদের প্রতিনিয়ত গ্ৰাম হাতছানি দিয়ে ডাকে। অনেক দিন পর পর যখন গ্ৰামে যাওয়া হয় তখন সেই সৌন্দর্যে যেন আমাদের মনকে ব্যাকুল করে তুলে। শহরের বন্দী জীবন থেকে বের হয়ে যখন গ্ৰামে প্রবেশ করি তখন শরীর যেন ঠান্ডা হয়ে যায়। গ্ৰামের প্রতিটা জিনিস তাদের নিজ নিজ সৌন্দর্য দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা হয়তো অনেক দিন পরপর গ্ৰাম দেখি বলে আমাদের কাছে এত ভালো লাগে। কিন্তু যারা গ্ৰামে থাকে তারা চিন্তা করে এক জিনিস বারবার দেখতে ভালো লাগে না।
এই কথা বলার কারণ বলছি আমি যখন কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছি তখন সন্ধ্যার সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি আর আমার হাসবেন্ড এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন সেখানে আরও একটি লোক দাঁড়িয়ে ছিল। লোকটি আমাদের জিজ্ঞেস করে আপনারা কোথা থেকে এসেছেন। আমরা বললাম ঢাকা থেকে আর লোকটি বললো এত দূর থেকে এই পানি দেখতে এসেছেন। অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসে তাদের কাছে নাকি এই জায়গা অনেক ভালো লাগে।
লোকটি বললো কিন্তু আমাদের কাছে এক জিনিস বারবার দেখতে ভালো লাগে না। তারপর বললো আমাদের বাড়ি এখানে আর আমরা প্রতিদিন এই পানি দেখি। ঠিক তেমনি গ্ৰামের মানুষ প্রতিদিন গাছপালা পশুপাখিসহ বিভিন্ন জিনিস দেখে বলে তাদের কাছে ভালো লাগে না। কিন্তু এটাও ঠিক তারা এই প্রকৃতি ছেড়ে শহরে এসে থাকতেও পারবে না। গ্ৰামের এই আঁকাবাঁকা মেঠোপথ আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। শৈশবের সেই সময়টাই ভালো ছিল যখন গ্ৰামে ছিলাম। সেখানে খুশি সেখানে যেতে পারতাম।
গ্ৰামের মতো শান্তি কোথাও গেলে পাওয়া যাবে না। তারজন্য ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে চলে যেতে কিন্তু ব্যস্ততার জন্য যেতে পারি না। আজ যখন ছবিগুলো দেখছিলাম তখন সেই দিন গুলোর কথা খুব মনে পড়ে গেল। অনেক কথা বললাম আর কথা বলতে শুরু করলে যেন শেষই হয়না। যাই হোক আমার লেখা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আমার লেখা পড়ে আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। আজ এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আশা করছি, আপনি এখন সুস্থ আছেন আপু। আসলেই আমরা যারা শহরে থাকি তারা গ্রামের প্রকৃতির মাঝে বারবার হারিয়ে যেতে চাই। তাইতো আপনারা ঢাকা শহর থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার জন্য, অনেক দূরের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকই বলেছেন ওই লোকটি ,গ্রামে থাকতে থাকতে তাদের হয়তো একই জিনিসের মধ্যে আলাদা কিছু মনে হয় না । তা সত্ত্বেও তারা শহরে এসে বেশিদিন থাকতে পারবে না, এই বদ্ধ পরিবেশে।
হ্যাঁ আপু এখন ঠিক আছি। আমরা গ্ৰামে গেলে মনে হয় নিজের শান্তি খুঁজে পেয়েছি । খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আপনার মত অনেক সময় আমারও হয়,কি পোস্ট করব তা বুঝতেই পারিনা।অনেক ভাবাভাবির করার পর আপনি খুব সুন্দর একটি পোস্ট সাজিয়েছেন আপু।আর আপনি একদম ঠিক বলেছেন আপু গ্রামের মত শান্তি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।আমি এখন ওরকম শান্তি।এই শান্তি মুখে প্রকাশ করার মতো না।এটা অনুভব করার জিনিস।যাইহোক গ্রাম বাংলার এত সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া গ্ৰামে থাকার শান্তি মুখে বলে বুঝানো যাবে না তা অনুভব করা যায়। সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
গ্রামীণ এই পরিবেশ অপরূপ দৃশ্য গুলো আমার অনেক ভালো লাগে। আমিও পছন্দ করি গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে রাখতে এবং পাশাপাশি কিছু ফটোগ্রাফি করতে। তবে একটা বিষয় কি যে জিনিসটা পাওয়ার ব্যাকুলতা থাকে সেই জিনিসটা মানুষ যখন হাতে পায় তখন তার মধ্যে বেশি ভালো লাগা কাজ করে কিন্তু পাওয়ার পরে বেশিদিন কাছে থাকলে তার প্রতি কিন্তু গুরুত্ব কমে ঠিক তেমনি গ্রামীন পরিবেশে থেকে থেকে অনেকে গ্রামীন পরিবেশের মূল্যায়ন করতে জানে না। আর যারা চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থাকে শহরের জীবনে তারাই বুঝে গ্রামীণ পরিবেশের মূল্য।
যা সহজে পাওয়া যায় তার গুরুত্ব সবসময়ই কম থাকে আর যা কষ্ট করে পাওয়া যায় তাতে আনন্দ বেশি। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই অনেক দিন পর গ্ৰামে গেলে এই সৌন্দর্য রেখে আসতে ইচ্ছে করে না। যাই হোক ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
গ্রাম্য পরিবেশ সবারই অনেক বেশি পছন্দের। আমার কাছে তো গ্রাম্য পরিবেশে ঘোরাঘুরি করতে অনেক বেশি ভালো লাগে। আর গ্রাম্য পরিবেশের এই প্রাকৃতি যেন আমাদেরকে ডাকে। আর যখন এরকম পরিবেশে যাওয়া হয় তখন আর ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না প্রাকৃতির মাঝেই যেন হারিয়ে যাই। আমার কাছে দারুন লেগেছে আপনার আজকের এই পোস্টটা। সম্পূর্ণটা বেশ ভালোই উপভোগ করে পড়লাম।
ঠিক বলেছেন আপু যখন এই পরিবেশে যাওয়া হয় তখন ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না। আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
এটা আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু শহরের বন্দী জীবন থেকে বেরিয়ে যখন আমরা গ্রামে আসি তখন যেন নিজের মনের মধ্যে অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। তার সাথে এটাও ঠিক যে যারা গ্রামে থাকে তাদের কাছে আর এই জিনিসগুলোর কতটা ভালো লাগেনা। কারণ তাদের প্রতিনিয়তই এই জিনিসগুলোর সাথে দেখা হয়।
হ্যাঁ ভাইয়া তখন গ্ৰামের পরিবেশে নিজেকে মুক্ত স্বাধীন মনে হয়। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আপু হবে না তো ভাইয়। হি হি হি
গ্রাম কিন্তু আমায়ও হাতছানি দিয়ে ডাকে। গ্রামের পরিবেশ আর প্রকৃতি আমায় মুগ্ধ করে। দোয়া করি বেশ তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেন। শহরের এই বদ্ধ পরিবেশে আপনি কেন আমিও হাপিয়ে উঠি অনেক সময়। মনে চায় ছুটে যাই গ্রামের প্রকৃতির ছায়ায়। একই পরিবেশে থাকতে থাকতে কিন্তু মানুষের কাছ আর সেই পরিবেশ আর ভালো লাগে না। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপু ইচ্ছে করলেও পারি না যেতে জীবিকার তাগিদে থেকে যেতে হয় বদ্ধ পরিবেশে। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।