আমার বিয়ের গল্প।১০% লাজুক খ্যাঁকের জন্য
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
হ্যালো আমার বাংলা পরিবারের সদস্যরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
আজ আমি আপনাদের সাথে আবারও নতুন আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আমি আজ আমার বিয়ের কিছু কথা শেয়ার করতে এসেছি। আমি যাকে পছন্দ করেছি তাকেই বিয়ে করেছি। আমার বিয়ে হয়েছে ২০১৮সালের জুলাইয়ের ২০তারিখ। ঐ সময় যেমন মজা হয়েছিল তেমনি কিছু তিক্ত ঘটনারও সম্মুখীন হয়েছি। আমার যে দিন গায়ে হলুদ ছিল সেই দিন সিক্সসেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। বৃহস্পতিবার হলুদ ছিল আর ঐ দিন লাস্ট পরীক্ষা ছিল।
আমার হলুদের দিন সকালে চলে গেলাম পরীক্ষা দিতে। আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই গ্রামে থাকে বলে তারা আগের দিন রাতে গাড়িতে ওঠে আর পরের দিন সকালে আমাদের বাসায় চলে আসে। এসে দেখে আমি বাসায় নাই পরীক্ষা দিতে চলে গিয়েছি। একটা মজার বিষয় হলো নিজের বিয়ের মার্কেট নিজেই করেছি। আমার হাসবেন্ড সকালে আমাকে পরীক্ষার হলে দিয়ে চলে আসে। আমার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল মোহাম্মদপুর।
সে আমাকে বলে তুমি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমাকে কল দিও। এই বলে সে নিউমার্কেট চলে আসি। আমার তো পরীক্ষার হলে গিয়ে একটাই চিন্তা কখন বের হবো। তারপর আমি তাড়াতাড়ি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মধ্যে বিয়ে শেষ করবো বলে আমার ভার্সিটির কোনো বান্ধবীদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এমনকি পরীক্ষা দিতে গিয়েও বলা হয়নি। তারপর আমি হল থেকে বের হয়ে চলে আসলাম নিউমার্কেট। আমি তাকে দেখে একদম অবাক হয়ে গেলাম কারণ সে শাড়ি থেকে শুরু করে সব গয়না কিনে রেখেছে। এত সুন্দর বিয়ের মার্কেট করেছে যা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল।
শাড়ি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি গয়নাগুলোও। তারপর টুকটাক আরও কিছু বাকি ছিল সেগুলো কিনে বাসার দিকে রওনা হলাম। সে মেছে থাকতো সেই সময় তাই সেখানে চলে গিয়েছে। সেই সময় মেছে ছিল বলে তার পরিবারের সবাই আমাদের বাসায় ওঠে। তারপর সন্ধ্যায় আমার হলুদ হয়। আমরা ছাদে ছোট একটা অনুষ্ঠান করি। আমরা মনে করেছিলাম এখন আমাকে ওঠিয়ে নেবে না। তারজন্য ছোট করে করি আবার যখন ওদের বাড়িতে নিয়ে যাবে তখন বড় অনুষ্ঠান করবো। কিন্তু একটা কাজ একবার হয়ে গেলে তা আর দ্বিতীয় বার হয়না।
আমার হাসবেন্ড সেই সময় পড়ালেখা করে তাই সে কোনো চাকরিতে জয়েন করেনি। তারজন্য আমার পরিবার থেকে একটা বাঁধা এসেছিল কিন্তু পরে সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। আমার হলুদের দিন একটু জামেলা হয়েছিল। ভালোবাসার বিয়ে বুঝেন তো কত বাঁধা পার করতে হয়। অবশেষে হলুদ শেষ হয়ে গেল। এবার পরের দিন বিয়ে তারজন্য আমি আর আমার ভাবি দুপুর বেলা চলে গেলাম পার্লারে সাজতে। এদিকে সবাই চলে এসেছে এবং কাজী কোথায় যেন জরুরি কাজের জন্য যাবে তারজন্য তাড়াতাড়ি বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করতে চাচ্ছিল।
এদিকে আমরা পার্লারে গিয়েছি দুই ঘন্টা হয়ে গিয়েছে সাজ শেষ হয়নি। এদিকে আমার বড় ভাইয়া ভাবিকে ফোন করে অনেক রাগারাগি শুরু করলো। এরপর কোনো রকম সাজ শেষ করে চলে আসলাম। আমি এসে দেখি তার কাছ থেকে সাইন নেওয়া শেষ। আমি রুমে ঢুকতে না ঢুকতে চেয়ারে বসতে বললো আর সাইন নিয়ে চলে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। মনে হলো পরীক্ষার খাতায় সাইন দিলাম আর তারা নিয়ে গেল হা হা হা। বিয়ের যে মজা সেটাই আমি অনুভব করতে পারিনি।
এরপর সব আত্মীয় স্বজন সবাই চলে যায় আর আমার শ্বশুর বাড়ির সব মেহমানও চলে যায়। এভাবে শেষ হয়ে গেল আমার বিয়ের গল্প। আমার প্রথম শ্বশুর বাড়ির গল্প আরেকদিন শেয়ার করবো। সেখানেও কিছু মজার ঘটনা ঘটেছিল তা আরেকদিন বলবো। আশা করি আমার আজকের পোস্ট আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে।যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে সুন্দর কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। আমার লেখা আজ এখানেই শেষ করলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
বাহ! আপনি তো দেখছি লাভ মেরেজ। যাইহোক আপনার বিয়ের দিনের গল্প শুনে বেশ ভালো লাগলো। আসলে মেয়েদের বিয়ের দিনটাই অন্যরকম কাটে। আপনার শ্বশুরবাড়ির ঘটনা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। আশা করি খুব শীঘ্রই আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন।
আপু অল্পতেই সেই ঘটনা শেয়ার করবো। খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।
আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আপনি আপনার বিয়ের অনুভূতি খুব চমৎকারভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে বিয়ের দিনের অনুভূতিগুলো সত্যি অন্যরকম হয়ে থাকে। এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
হ্যাঁ এই অনুভূতি গুলোও অন্যসব অনুভূতির মতো কখনো ভুলার নয়।ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
ওয়ালাইকুম আসসালাম,
আপনার বিয়ের গল্পটি পড়ে বেশ ভালই লাগলো। মেকাপ যদি হয়ে যেত তাহলে আপনিও বিয়ের মজাটা পেয়ে যেতেন। যাইহোক আপনার গায়ে হলুদের গল্পটা বেশ ভাল ছিল। হলুদের দিনই পরীক্ষা যাক ভালো কোন সমস্যা হয়নি। ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে আপনার বিয়ের গল্প টা শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া মেয়েদের তো এটাই সমস্যা সাজুগুজু করতে অনেক সময় লাগে তারজন্য অনেক সময় অনেক কিছু মিস হয়ে যায়।সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপু সেটেল ম্যারেজ যেটাই করেন না কেন? বিয়ে তো বিয়েই? আর বিয়ের দিন টা প্রত্যেকটা নারীর জীবনের একটি অন্য রকমের দিন। আপনি খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝখানে আপনার বিয়ের গল্পটি তুলে ধরেছেন। ভালো লাগলো আপু।
আপু ঠিক বলেছেন বিয়ে যেভাবেই হোক না কেন বিয়ে তো বিয়েই। এই দিনটি প্রতিটা মেয়ের জীবনে একবারই আসে।আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপু আপনি আপনার বিয়ের অনুভূতি খুব সুন্দরভাবে শেয়ার করলেন।অনেক ভাল লেগেছে।বিয়ের দিনের অনুভূতি আসলে অন্য রকম এক অনুভূতি, যা লিখে তেমনভাবে প্রকাশ করা যায় না।আপনি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।এখন অপেক্ষায় রইলাম আপনার শ্বশুর বাড়ির প্রথম যাওয়ার অনুভুতি জানার।অনেক ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
আপু আমার বিয়ের গল্প মনে রাখার মতো তাই সুন্দর ভাবে লিখতে পেরেছি। গঠনমূলক মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপু আপনার বিয়ের দিনের গল্প শুনে খুব ভালো লাগলো।বিয়ে নিয়ে সবার স্বপ্ন থাকে তার বিয়েতে কি কি করবে।আমাদের সাথে এত সুন্দর মুহূর্ত গুলোকে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপনার কাছে আমার এই গল্প শুনে ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আপনার বিয়ের গল্পটি শুনে খুবই ভালো লাগলো আমার কাছে। আপনার শ্বশুর বাড়ির প্রথম দিনের গল্পটি শোনার অধীর আগ্রহে বসে থাকবো। আশা করছি খুবই তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে এটি শেয়ার করবেন। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।
অবশ্যই ভাইয়া খুব তাড়াতাড়ি সেই গল্প শেয়ার করবো।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপু আপনার বিয়ের গল্প পড়ে অনেক ভাল লাগলো। সব থেকে বেশি ভাল লাগছে যাকে পছন্দ করেছেন, যাকে ভালবেসেছেন তাকে বিয়ে করেছেন। ভাইয়ার জব না থাকা সত্বেও সব বাধা উপেক্ষা করে তাকে বিয়ে করেছেন। আর একটি কথা হলো সব বিয়েতেই টুকটাক জামেলা হয়। এসব থাকবেই স্বাভাবিক। ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া যাকে পছন্দ তাকে বিয়ে করার মজাই আলাদা। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
এটা সত্যিই ভালো লাগলো বিয়ের দিনও আপনি পরীক্ষা দিতে গেছেন। আর এটা একদম ঠিক বলেছেন যেটা একবার হয়ে যায় সেটা যতই প্ল্যান কর, দ্বিতীয়বার হবে না। তবে অনুষ্ঠান ছোট হোক বা বড় হোক তাতে আন্তরিকতা থাকতে হয়। আর বিয়ের সাজ তো কখনওই ২-৩ ঘন্টায় হবেই না। মিনিমাম ৫ঘন্টা হাতে রাখতেই হয়।
দিদি সাজ কোনো রকম শেষ করে আসতে হলো কি আর করার বাসা থেকে অনেক ফোন আসছিলো।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।