গল্প// ভালোবাসার শেষ চিঠি
আসসালামু আলাইকুম,শুভ রাত্রি
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
আজ আবারও নতুন একটি গল্প নিয়ে চলে আসলাম। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। শরতের শেষ বিকেল। হলুদ রোদ্দুরের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে। সাদিয়া হাতের ডায়েরিটা উল্টে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। একটা চিঠি পড়ে আছে সেখানে, বহু পুরনো। কাগজের রঙ বদলে গেছে, লেখাগুলো ফিকে হয়ে এসেছে। এই চিঠিটাই তাদের শেষ কথা, শেষ বিদায়। রুদ্র আর সাদিয়ার গল্প শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। লাইব্রেরির এক কোণে প্রথম দেখা। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসার পথ কি কখনও সহজ হয়?
রুদ্রের পরিবার জানিয়ে দিয়েছিল—এই সম্পর্ক তারা মানবে না। সাদিয়াও জানত, সমাজের বাধা এড়ানো সহজ নয়। তবু তারা স্বপ্ন দেখেছিল একসঙ্গে থাকার।একদিন বিকেলে তারা শেষবারের মতো দেখা করেছিল নদীর ধারে। আকাশে গোধূলির লালচে আভা। রুদ্রের চোখে কেমন একটা হারানোর শূন্যতা।
—"আমরা কি পারব না কিছু করতে?" সাদিয়ার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
—"চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারলাম না," রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
—"তাহলে?"
—"তাহলে হয়তো আমাদের এখানেই শেষ…"
সাদিয়ার গলা আটকে গেল। রুদ্র পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে সাদিয়ার হাতে দিল। এরপর সাদিয়া বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসেই সাদিয়া চিঠি নিয়ে বসে।
সেই চিঠিতে লেখা ছিল,
"সাদিয়া,
আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভালোবাসা মানেই একসাথে থাকা নয়, ভালোবাসা মানে প্রিয়জনকে কষ্ট না দেওয়া। আমি জানি, আমাদের ভালোবাসা সমাজের দেয়ালে আটকে গেছে। হয়তো পরের জন্মে আমরা একসঙ্গে হব। বিদায়…"
চিঠি পড়ে সাদিয়ার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। সে কিছু বলতে গিয়েও পারল না।
পরদিন সকালে সংবাদপত্রে একটা ছোট খবর ছাপা হলো— সেখানে লেখা ছিল "একজন তরুণ নদীর ধারে আত্মহত্যা করেছে। তার পকেটে পাওয়া গেছে একটি চিঠি, যেখানে লেখা ছিল— 'ভালোবাসা মানে হারিয়ে যাওয়া নয়, ভালো রাখতে না পারলে বেঁচে থাকাও বোঝা হয়ে যায়।'"
সাদিয়া খবরের কাগজ পড়ে বুঝতে পারে সেই ছেলেটি আর কেউ নয়। তার ভালোবাসার মানুষ রুদ্র। খবরটি পড়ে সাদিয়া একদম নিশ্চুপ হয়ে যায়। এভাবে বেশ কয়েকমাস কেটে যায়।
একদিন সন্ধ্যা বেলা সাদিয়া চুপচাপ জানালার পাশে বসে ছিল। চিঠিটা হাতে নিয়ে নিজের বুকের কাছে চেপে ধরল। বাইরে ঝড় উঠেছে। ভালোবাসা কি তাহলে সত্যিই একসঙ্গে থাকার নাম? নাকি একে অপরের জন্য নিজেকে বিসর্জন দেওয়া? সাদিয়া কিছুই জানে না… শুধু জানে, রুদ্র আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
রুদ্র ও সাদিয়ার ভালোবাসা সমাজের বেড়াজালে আটকে গিয়ে যে করুণ পরিণতি পেল, তা ভাবিয়ে তুলল। প্রেম কি সত্যিই একসঙ্গে থাকার নাম, নাকি প্রিয়জনের সুখের জন্য নিজেকে বিসর্জন দেওয়া।লেখাটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
যখন দু'জন মানুষের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা তৈরি হয় তখন হয়তো এভাবেই সমাজ ও পরিবার তাদের আলাদা করে দেয়। কিন্তু সেটা কখনো সুখের হয়না। ধন্যবাদ।
আপনার গল্পটি খুবই হৃদয়বিদারক এবং গভীর। সাদিয়া ও রুদ্রের সম্পর্কের যাত্রা, তাদের ভালোবাসার সংগ্রাম এবং শেষ বিদায়ের দৃশ্যগুলো এতই স্পর্শকাতর যে পড়তে পড়তে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করলাম। বিশেষ করে রুদ্রের চিঠি এবং তার পরিণতির অংশগুলো খুবই মর্মস্পর্শী। সত্যিই, ভালোবাসা কি একসঙ্গে থাকার কথা, নাকি প্রিয়জনকে দূরে থেকে ভালো রাখা? এই প্রশ্নটা মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। আপনাকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
সাদিয়ার মনে ভালোবাসা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে আমার মনে হয় যারা ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছে তাদের সবার মনে একই প্রশ্ন রয়েছে। যাই হোক সুন্দর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
খুব সুন্দর লাগলো আপনার গল্পটা আপু।অসমাপ্ত ভালোবাসা গুলোর এমন ই পরিনতি হয় শেষ পর্যন্ত।রুদ্র হারিয়ে গেলো জীবন থেকে।ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখতে নিজেই শেষ হয়ে গেলো। সাদিয়া পরে রইলো এপারে।খুব কষ্ট লাগলো।
হ্যাঁ আপু অসমাপ্ত ভালবাসার এমনি পরিণতি হয়। তাইতো দু'জনের মিলন হলো না। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আসলে ভালোবাসার এমন পরিণতি হলে খুবই কষ্ট লাগে। রুদ্রের জন্য খুব খারাপ লাগলো। তাছাড়া সাদিয়ার বাকি জীবনটাও খুব কষ্টে কাটবে। তাদের ভালোবাসার মধ্যে কোনো খুঁত ছিলো না। কিন্তু এমন ভালোবাসা বর্তমান যুগে পাওয়াটা মুশকিল। যাইহোক এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ ভাইয়া তাদের ভালোবাসায় কোন খাত ছিল না কিন্তু সমাজ ও পরিবার তাদের এক হতে দিল না। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।