অনু গল্প// দুঃখিনী মায়ের গল্প
আসসালামু আলাইকুম। শুভ রাত্রি
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
সবুজে ঘেরা, নদীর ধারে----একটি ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে থাকতেন পার্বতী নামের এক বিধবা মহিলা। স্বামী মারা গেছেন ছেলেটা তখনো দুধের শিশু। সংসারে আর কেউ নেই—একমাত্র ছেলে রতনই তাঁর জীবনের আলো। পার্বতী প্রতিদিন সকালে উঠে গাঁয়ের মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন। রোদে শুকিয়ে নিয়ে বিকেলবেলা হেঁটে হেঁটে হাটে যেতেন সেগুলো বিক্রি করতে। দিনরাত খেটে টাকা জমাতেন, শুধু ছেলেটাকে পড়াশোনা শেখাবেন বলে।
রতন ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। পড়াশোনায় ভালো, শিক্ষকরা তাকে খুব ভালোবাসত। মা-ছেলের জীবন কষ্টে কাটলেও তাঁদের মাঝে একটা গভীর ভালোবাসা ছিল। রতন মাকে বলত, “মা, আমি একদিন বড় অফিসার হবো। তোমাকে আর এই হাঁড়ি বেচতে হবে না।” মা হাসতেন, সেই হাসিতে মায়ের চোখে জল আসত।সময় গড়াতে লাগল। রতন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্কলারশিপে শহরের বড় কলেজে পড়তে গেল। মা কাঁদলেন, কিন্তু বুক ফুলিয়ে ছেলেকে বিদায় দিলেন।
শহরে গিয়ে রতন নিজের জীবনের অনেকটা বদলে ফেলল। ভালো পড়াশোনা, ভালো চাকরি, শহুরে বন্ধু, সুন্দরী স্ত্রী—সবই পেলো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার জীবনে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হলো মায়ের সঙ্গে। মা ফোন করলে ব্যস্ত বলে কেটে দিত, চিঠি লিখলে উত্তর দিত না। পার্বতী অপেক্ষা করতেন। খুপরি ঘরে বসে ছেলের ফেরা পথের দিকে চেয়ে থাকতেন। প্রতিবেশীরা জিজ্ঞেস করত, “রতন কি ফিরবে মা?” তিনি মুচকি হাসতেন, “আসবে রে... আমার ছেলে আসবেই।”
একদিন পার্বতী ঠিক করলেন আর অপেক্ষা না করে নিজেই ছেলের কাছে যাবেন। সঙ্গে নিলেন একজোড়া সেলাই করা নতুন গামছা, আর মাটির তৈরি ছোট্ট একটি হাঁড়ি—যেটা নিজের হাতে বানিয়েছিলেন রতনের জন্য। শহরে এসে ছেলের ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালেন। উঁচু বিল্ডিং, চকচকে দরজা। কাঁপা হাতে কলিং বেল টিপলেন।
দরজা খুলল এক সুদর্শন যুবক—যার নাম রতন। চোখে চমক, ঠোঁটে বিস্ময়। “মা?! তুমি এখানে কেন? না জানিয়ে এলে?” পার্বতী হাসলেন, “বাবা, অনেকদিন তোর মুখ দেখি না… তাই এলাম। একটু তোকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াব ভাবছিলাম।” রতনের মুখ কালো হয়ে গেল। পেছনে স্ত্রী এসে দাঁড়ালেন, ভ্রু কুঁচকে বললেন, “এই বুড়ি কে রে তুই?”
রতন মাথা নিচু করে বলল, “আমার… এক আত্মীয়া। চলে যাও, মা। এখন সময় নেই। অনেক কাজ আছে।”
পার্বতীর হাতে যে হাঁড়িটা ছিল, সেটা নিচে পড়ে ফেটে গেল। পার্বতী মাথা নিচু করে বললেন, “ভুল হয়ে গেছে বাবা, আর কষ্ট দেব না।” তারপর ধীরে ধীরে ফিরে গেলেন। শহরের ব্যস্ত রাস্তা, অচেনা মানুষজন। পার্বতী একা হাঁটছিলেন… ক্লান্ত, নিঃস্ব, ভগ্নহৃদয়ে। হঠাৎ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লেন। সিঁথির সিঁদুর নেই, কাঁধে আঁচল এলোমেলো। সে চুপচাপে ফুটপাতের একপাশে বসে পড়লো।
পাশ দিয়ে মানুষ চলে গেল, কেউ খেয়াল করল না। এক পথশিশু কৌতূহলে এগিয়ে এসে ঝুঁকে দেখল—চোখ বোজা, ঠোঁটে হালকা হাসি… পার্বতী মা আর নেই। হৃদয়ভাঙা খবর ছড়িয়ে পড়ল গ্রামে, কিন্তু শহরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে তখনও সেই হাঁসফাঁস করা ব্যস্ততা, সভ্যতার মোড়কে লুকোনো অমানবিকতা।
রতন খবর পেল অনেক পরে—যখন একটি মাটির হাঁড়ির ভাঙা টুকরো আর একজোড়া গামছার পাশে পড়ে থাকা তাঁর মায়ের নিথর দেহ কবর দেওয়া হয়ে গেছে অচেনা এক শহরের মর্গে। মায়ের ভালোবাসার কোনো দাম হয় না, কিন্তু অনেকেই তা বুঝে না। তবে যখন বুঝতে পারে তখন খুব দেরি হয়ে যায়। একজন মায়ের ভালোবাসা সারা জীবন ধরে সন্তানকে ঘিরে আবর্তিত হয়। কিন্তু যখন সেই ভালোবাসার প্রতিদান হয় অবহেলা, তখন তার পরিণতি হয়...?
আমার গল্প আজ এখানেই শেষ করলাম। যদি ভালো লাগে তাহলে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ সবাইকে♥️।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
আপু আপনার গল্পটি পড়ে বেশ খারাপ লাগলো। আর দুঃখিনী মানুষগুলোর জীবন খুব কষ্ট যায়। তবে এরকম একটি ঘটনা আমাদের পাশেও ঘটেছিল। আর আমাদের এইখানে মহিলাটির নিজের ছেলের হাতে নির্যাতন হয়ে মারা গেল। তবে এটি চিন্তা করার দরকার ছিল রতন তাকে তার মা কিভাবে মানুষ করল। সুন্দর করে পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।