"বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ "

in আমার বাংলা ব্লগ8 months ago

হ্যালো বন্ধুরা,

মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার প্রিয়"আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে ভালো আছি।

বন্ধুরা,আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ" এর একজন নিয়মিত ও অ্যাক্টিভ ইউজার।বাংলায় ব্লগিং করতে পেরে আমার অনেক বেশী ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে।তাইতো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত মনের নানান অনুভূতি গুলো নিয়ে নানা রকমের পোস্ট শেয়ার করে থাকি।আজ ও আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিযে।আশাকরি সবাই সঙ্গেই থাকবেন।

বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশঃ


10345.jpg

সোর্স

"বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ" মা-বাবাকে এই বয়সে হারিয়ে ফেলার ভয় মনের মধ্যে কাজ করতে থাকে।এই সময়ে এসে ধীরে ধীরে মা-বাবার কালো চুল সাদা হতে দেখি।কখনো আবার কারো চোখে পাওয়ারের চশমা থাকে।মা-বাবার ঔষধের বক্সে মেডিসিনের সংখ্যা ও বৃদ্ধি পেতে থাকে।সবকিছুতে মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলার ভয় মনের মধ্যে ব্যথা দিতে থাকে।

একটা সময় এসে মা-বাবা খুব গর্ব করে বলে আমাদের ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে গেছে ঠিক সন্তানদের মনেও ভয় কাজ করে আমাদের মা-বাবার বয়স হয়ে গেছে।যেকোনো সময় হয়ত শুনব প্রেশার,ডায়াবেটিস রোগ বাসা বেঁধেছে আমাদের মা-বাবার শরীরে।

চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ এই বয়সটা খুব বাজে।নিজের মা-বাবাকে এই বয়সে বয়স বাড়তে দেখলে মনটা ভীষণ খচকচ করে।মা-বাবার শরীর ভেঙে যাওয়া,খাওয়া-দাওয়া কমে যাওয়া এই সবকিছুই দেখা একটি সন্তানের জন্য ভীষণ কষ্টের।সন্তান হিসেবে আমরা চাই আমাদের মা-বাবা একই রকম থাকুক।বয়সের ভারে যেনো তারা নুয়ে না পরে।আমাদের কে যেনো আগলে রাখতে পারে সব সময়।

মা-বাবা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন শান্তি লাগলেও ভাবী সুস্থ ভাবে ঘুম থেকে জাগবে তো।একটু ভালো থাকার জন্য তাদেরকে আমরা কতো কিছুই না করি।পাছে মা-বাবা শূন্য না হয়ে পরি।এই মা-বাবা অমূল্য সম্পদ।মা-বাবাকে চোখের সামনে ধীরে ধীরে বয়সের ভারে নুয়ে পরতে দেখতে কোন সন্তানেরই ভালো লাগার কথা নয়।আমি তো প্রায় সময় ভাবি আমার আম্মু যদি আবার আগের মতো হতো।কিন্তু তাতো সম্ভব নয়।তবে আমি চেষ্টা করছি মা যেনো সুস্থ থাকতে পারে নিজেকে ফিট রাখতে পারে।বাবাকে হারিয়ে এখন মাকে ই আগলে রাখছি।রোজ খাদ্য তালিকায় সুষম খাদ্য রাখা,প্রতিদিন হাঁটা,ব্যায়াম,ঘুম এসব কিছুই আমি নিজে সাথে থেকে কন্ট্রোল করে চলছি।সময়মতো ডাক্তারের চেক আপ ও করাচ্ছি।এসবই করছি ভয় থেকে।মা কে হারানোর ভয়।

আমার মতো মনে হয় প্রতিটি সন্তানই মা-বাবাকে হারানোর ভয়ে ভীত থাকে।আমরা যত বড় হতে থাকি আমাদের মা-বাবা ততই বৃদ্ধ হতে থাকেন।এই যে চোখের সামনে মা-বাবাকে বৃদ্ধ হতে দেখতে কোন সন্তানের কাছেই ভালো লাগার কথা নয়।এটা ভীষণ কষ্টের একটি বিষয়।তারপরেও সময়ের বিবর্তনে আমরা বড় হতে হতে মা-বাবা বৃদ্ধ হতে থাকেন।আর তাদের শরীরে নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হয়।এটা খুব যন্ত্রনার।বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ এই বয়সটা খুব বাজে,মনে চাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা।সময়ের সাথে সাথে মায়ের হাতে বয়সের ভাজ দেখা মনের মধ্যে কষ্ট বাসা বাঁধা। তারপরেও চেষ্টা করি হাতের চামড়া ভাজ পরা জায়গাটা কি করে আগের মতো করা যায় তার চেষ্টা করে যাওয়া।জানি,এটা মিছক ছেলে খেলা।এই ভাজ তো বয়সের ভাজ এটা তো চিরন্তন বিষয়। একে তো মুছে ফেলা যাবে না।তবুও কিন্তু চেষ্টার জায়গাটা রয়েই যায় নিজের মধ্যে।তাই তো বলি বয়স যখন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ এটা খুব বাজে একটা সময়।

আশাকরি আজকের বিষয়টি খুব সুন্দর করে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে পেরেছি।আজ আর নয়।আবার ফিরে আসব নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

পোস্ট বিবরন


শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
lক্যামেরাGalaxy A16
পোস্ট তৈরি@shimulakter
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

ধন্যবাদ সবাইকে

@shimulakter

আমার পরিচয়


আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।আমি বাংলাদেশ ঢাকা থেকে আপনাদের সাথে যুক্ত আছি।আমি এম এস সি (জিওগ্রাফি)কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ।ভালোবাসি বই পড়তে,নানা রকমের রান্না করতে,আর সবাইকে নতুন নতুন রান্না করে খাওয়াতে ভীষণ ভালোবাসি।ফটোগ্রাফি করতে আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।

53.png

54.jpg

55.gif

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.100
BTC 62465.76
ETH 1783.41
USDT 1.00
SBD 0.38