স্পোর্টস :উয়েফা নেশনস লীগ(স্পেন ^ ক্রোয়েশিয়া) || by ripon40
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@ripon বাংলাদেশের নাগরিক
- স্পোর্টস :উয়েফা নেশনস লীগ(স্পেন ^ ক্রোয়েশিয়া)
- ১৯, জুন ,২০২৩
- সোমবার
আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে ফুটবল ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
ছবিঃ Sportzfy TV থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান:
| স্পেন | ক্রোয়েশিয়া |
|---|---|
| মোট শট-২১ | মোট শট-১২ । |
| টার্গেটের শট-২ | টার্গেটের শট-৫ । |
| দৈর্ঘ্য | ৯০+৩০ মিনিট । |
| বল পজিশন -৫৫% | বল পজিশন -৪৫% |
| পাস করে -৭৬৩ | পাস করে -৬৩৬ |
| পাস নির্ভুলতা-৮৫% | পাস নির্ভুলতা-৮৫% |
| ফাউল-১৮ | ফাউল-১১ |
|---|---|
| হলুদ কার্ড- ৩ | হলুদ কার্ড - ০১ |
| রেড কার্ড- ০ | রেড কার্ড-০ |
| অফসাইডস-০২ | অফসাইডস-০২ |
| কোণ- ৮ | কোণ- ৪ |
| সময়কাল রাত ১২:৪৫ মিনিট | ১৯.০৬.২০২৩ইং |
| ফলাফল : | স্পেন-০ ক্রোয়েশিয়া -০(পেনাল্টি ৫-৪) |
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
আমার কাছে খেলাধুলা খুবই ভালো লাগে ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আলাদাভাবে নেশাটা রয়েই গেছে। এখনো সময় পেলে ছোট ভাই ব্রাদারের সাথে এলাকায় খেলাধুলার মেতে ওঠা। যেটা অনেক বড় একটি নেশা খেলাধুলা শরীরের পক্ষে যেমন ভালো তেমনি মানসিক সকল ধরনের অবসাদ দূর করে দেয়। ছোট্টবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো ফিরে যেতে মন চায়। আসলে সেই স্বাধীন মুহূর্ত চাইলে যখন তখন খেলাধুলা নিয়ে মেতে উঠতাম এখন আর পারি নাহ। মাঝে মাঝে ছোট্ট বাচ্চাদের খেলাধুলা গুলো দেখে সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করি আর খেলাধুলা এখন নিয়মিত না করা হলেও রাত জেগে খেলা দেখার অভ্যাসটা এখনো রয়েই গেছে।
এইতো গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল উয়েফা নেশনস লীগের ফাইনাল। ইউরোপের সকল দল সমানে সমানে লড়াই করে কেউ কাউকে ছেড়ে দিতে রাজি নয় তেমনি একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্পেন ইতালিকে দুই-এক গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লীগের ফাইনালে ওঠে অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া নেদারল্যান্ডস কে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। এই দুটো খেলাই আমি দেখেছিলাম প্রত্যেকটা দল তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে ফাইনালে ওঠার জন্য। কিন্তু যে কাউকে তো পরাজিত হতেই হবে। বর্তমানে স্পেন এবং ক্রোয়েশিয়া খুবই ভালো খেলছে তাদের দলে অনেক ভালো ভালো ইয়াংস্টার রয়েছে।
যাইহোক, এই ফাইনাল দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম সেই ম্যাচটি গতকাল রাত বারোটা 45 মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু ফাইনাল খেলা দুটো দলই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অটুট রেখে খেলার চেষ্টা শুরু করে। কেউই কোন ধরনের ভুল করতে রাজি নয় তেমনি ভাবে খেলা শুরু হয়। প্রথমদিকে কোন আক্রমণ ভাগ তেমন একটা পরীক্ষা নিয়ে আসতে পারেনি। স্পেন চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্স লাইন ভেঙে আক্রমণ করার অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া এটাকিং আক্রমণের মাধ্যমে খেলতে শুরু করে। স্পেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে মাঠে নামে অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ৪-৩-৩ ফর্মেশন এ মাঠে নামে তাদের ফরমেশন টা ডিফেন্সিভ ছিল।
খেলার প্রথমার্ধে দুই দলের কোন দলই তেমন একটা আক্রমণ করতে পারেনি। তারা দূর থেকে শর্ট করছিল কিন্তু আক্রমণাত্মকভাবে কোন ধরনের আক্রমণ দেখতে পারিনি। তাদের খেলার ধরন দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম হয়তো গোল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আবার মনে মনে ভাবছিলাম ইউরোপের দল যে কোন মুহূর্তে গোল করে দিতে পারে কিন্তু গোল শূন্য অবস্থায় প্রথমার্ধ শেষ হয়ে যায়। যেহেতু এটা গোলের খেলা সেই গোল যদি না হয় তাহলে খেলার প্রকৃত সার্থকতা থাকে না। খেলাটা উপভোগ করতেও তেমন একটা ভালো লাগে না। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ১৫ মিনিট অপেক্ষায় থাকলাম দ্বিতীয় আর্ধ দেখার জন্য।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরু হয়ে গেল ভাবনার হয়তো প্রথমার্ধে গোল হয়নি আশা করি দ্বিতীয় আর্ধে গোল হবে। দুই দল কিছুটা আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে শুরু করে কিন্তু তাদের ডিফেন্সিভ লাইন শক্তিশালী করে খেলতে থাকে। তাদের খেলার ধরন দেখে বুঝতে পারলাম হয়তো আজ আর ভুল হবে না খেলাটা ট্রাই বিকারে যাবে। তবুও গোলের খেলা গোল না দেখে ভালো লাগে খেলাটি শেষ পর্যন্ত উপভোগ করব। এদিকে ৯০ মিনিটের নির্ধারিত টাইমে খেলা শেষ হয় কিন্তু কোন গোল হয় না। আবার কিছু সময় বিরতি তারপর পনের মিনিট পনের মিনিট এর খেলা শুরু হয়। এই সময়ে প্রত্যেকটা দল খুবই সতর্কতার সাথে খেলে কারণ সীমিত সময়ে গোল হজম করলে পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।
পরবর্তী ৩০ মিনিটের নির্ধারিত খেলা শেষ হয়ে যায় সর্বশেষ বাকি পেনাল্টি শুট আউট। যাইহোক খেলা দেখার অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে এখন পুরো ১২০ মিনিট খেলা দেখে কোন গোল হওয়া উপভোগ করতে পারিনি। পেনাল্টি শুট আ উট দেখতে আমার কাছে ভালই লাগে যেটাকে ভাগ্য নির্ধারণী বললেও ভুল হবে না। যাইহোক কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি শুট আউট শুরু হয়ে যায়। প্রথমে পেনাল্টি শুট আউট নেয় স্পেন সেটি গোল হয় তারপর ক্রোয়েশিয়া পেনাল্টি শুট আউট দেয় সেটা গোল হয়ে যায়। এইভাবে তৃতীয় নাম্বার পেনাল্টি শুট আউট এ স্পেন গোল করে অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া মিস করে। বাকি দুটোর একটিতে ক্রোয়েশিয়া মিস করলেই হেরে যাবে। আবার পঞ্চম নাম্বার পেনাল্টি শুট আউট স্পেন মিস করে অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া গোল করে। আবার ক্রোয়েশিয়া ষষ্ঠ নাম্বার পেনাল্টি শুট আউট মিস করে স্পেন গোল করে সেখানেই বিজয় নির্ধারিত হয়ে যায়। স্পেন উয়েফা নেশনস লীগের চ্যাম্পিয়ন হয়।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ভিডিওর লিংক সমূহ
আমি মোঃ রিপন মাহমুদ। আমার স্টীমিট একাউন্ট@ripon40। আমি একজন বাঙালি আর আমি বাঙালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমি স্টীমিটকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসি পড়তে, লিখতে, ব্লগিং,ফটোগ্রাফি,মিউজিক,রেসিপি ডাই আমার অনেক পছন্দের। আমি ঘুরতে অনেক ভালোবাসি। আমার সবচেয়ে বড় গুণ হলো কারোর উপর রাগ করলে সহজেই ভুলে যাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
কালকে রাতে এই খেলাটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসেছিলাম। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতেই পারিনি। তাই সকালে উঠে সাথে সাথে আগে খেলার হাইলাইটস টা দেখে নিয়েছি।
ফুটবল আমার খুবই ভালো লাগে। তবে বেশির ভাগ খোজ রাখা হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচ গুলো। ক্লাব ফুটবল বা অন্যান্য ম্যাচ গুলো খুব একটা দেখা হয়না। আপনার এই ম্যাচ রিপোর্টটি পড়ে ভালো লাগলো অনেক। শুভেচ্ছা রইলো।
আসলে এই ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাইনি আমি। তবে আপনার পোস্টটি পড়ে মনে হচ্ছে ম্যাচটি অতান্ত জমজমাট এবং টানটান উত্তেজনায় পরিপূর্ণ ছিল। আর এ কারণে হয়তো ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দারুন একটি ফুটবল খেলার পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।