শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর
"আমার বাংলা ব্লগে আপনাদের সকলকে জানাই আমার সালাম"
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি আমার আজকের এই ব্লগ।আশা করি আমি আমার দক্ষতার মাধ্যমে আপনাদের সকলের নিকট ভালো কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো,এবং আপনাদের ও ভালো লাগবে।
অনেকদিন আগের কথা তখন আমি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং এর জন্য নারায়ণগঞ্জ ছিলাম। আর আমরা নারায়ণগঞ্জ মূল সহর থেকে একটু দূরেই ছিলাম। আমরা যেখানটায় ছিলাম সেখান থেকে সোনার গা,পানাম নগর,শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর বেশ কাছেই দশ টাকা ভাড়ায় সেখানটায় যাওয়া যায়। প্রথম প্রথম যখন গেলাম ও জানতাম যে এখান থেকে সোনারগাঁ প্রায় কাছে। অতঃপর কিছু বন্ধু একদিন সোনারগাঁও ঘুরে এসে আমাদের বললো সেদিন প্রথম জানতে পেরেছিলাম।যাইহোক যেহেতু ছোটবেলা থেকে এগুলা পড়ার বইয়ে দেখে আসতেছি পরে আসতেছি তাই যাওয়ার অগ্রহটা একটু বেশিই ছিল।
সোনারগাঁ
সোনারগাঁও মূলত বাংলাদেশের প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম যা বারো ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত এবং ঠিক তার পাশেই অবস্থিত শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। এর অবস্থান ঢাকা থেকে দক্ষিণ পূর্বে 25 কিলোমিটার প্রায়।আবহমান গ্রাম বাংলার লোক সাংস্কৃতিক ধারাকে বিকশিত করার জন্য ১৯৭৫ এ শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর একটু পুরাতন বাড়িতে এই লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এলাকায় রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি। এখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের অবহেলিত গ্রাম-বাংলার নিরক্ষর শিল্পীদের হস্তশিল্প, জনজীবনের নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী। এসব শিল্প-সামগ্রীতে তৎকালীন প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের রূপচিত্র প্রস্ফুটিত হয়।
ইডিস্ট্রিয়াল ট্রেনিং এ গিয়ে বেশি একটা ঘোরাঘুরির সুযোগ হয় নি কারণ প্রায় প্রতিদিন ট্রেনিংয়ে যাওয়া লাগতো। যা সময় পেতাম শুক্রবার করেই তো সভাবতই আজকে আমাদের ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান ছিল আর সবার কথা ছিল একদিন জাদুঘর ঘুরতে যাবো আরেকদিন পানাম নগর।এর মাঝেই আবার আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলে সেও নাকি আসবে। এরপর নামাজ শেষে এসে খাওয়া দাওয়া শেষে আমরা সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এর একটু পর আমার ওই বন্ধু টাও আসলো।আর আমরা সবাই মিলে বেরিয়ে পড়লাম সোনারগাঁও এর উদ্দেশ্যে।
অটো রিকশা নিয়ে সোজা গিয়ে নামলাম সোনারগাঁ এর গেটে।তারপর একজন গিয়ে জিজ্ঞেস করলো টিকেট কত করে।তারপরে সবার জননেতা করে টিকেট নিলাম যদিও টিকেট অনেকটা শুলভ মূল্যে মাত্র 50 টাকা ছিল।
এরপর ভিতরে ঢুকতেই চারদিকের পরিবেশটা অসাধারণ লাগলো চারদিকটা সবুজ প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা আর সবকিছুর মেইনটেইন ও দারুন। আর সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো এর ভিতরে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা খুবই ভালো কোনো উস্মৃঙ্খলতা নেই।
এরপর সবাই যে জার মত ছবি তোলা শুরু করলো।আমার।অবশ্য এসবে তেমন একটা আগ্রহ নেই আমার ভিতর তখন শুধু একটা জিনিস এই কাজ করতেছিল সেটা হলো কখন সেই জাদুঘরে ঢুকবো আর বইয়ে পড়া টেপা পুতুল আর নকশী কাথা দেখবো।
ভিতরে আবার খুব সুন্দর একটি লেক ও আছে যদিওবা লেকের পানির অবস্থা বেশ করুন কিন্তু প্রকৃতির মাঝে এমন একটা লেক বেশ ভালই,আবার অনেকে লেকে নৌকা চালাচ্ছে।
এইটা মনে হয় বিশ্রাগার তবে ডিজাইনটা বেশ অদ্ভুত আর সুন্দর ও বটে।
এইটা হলো সেই জাদুঘর। আর এটা জাদুঘরের একাংশ এই সাইড থেকে ভিউটা দারুন আসে আর এই জায়গাটাও ছবি তোলার জন্যে পারফেক্ট।
আর এটা হলো জাদুঘরের সম্মুখ ভাগ।আর শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বেশ ভিড় ছিল।যাইহোক এদিক সেদিক একটু ঘোরাঘুরি করে ঢুকে পড়লাম জাদুঘরের ভিতরে। আর ভিতরে জিনিসগুলো দেখে মনের মধ্যে বেশ দারুন একটা অনুভুতি কাজ করতেছিল। কারণ এই জিনিসগুলো সারাটা জীবন বইয়ের পাতায় পরে এসেছি কিন্তু আজ বাস্তবে দেখছি ভালো লাগারই কথা।
যাইহোক আজকে এ পর্যন্তই এবং পরবর্তীতে শেয়ার করবো জাদুঘরের ভিতরের বাকি অংশ।ততক্ষন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| অবস্থান | শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর |
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
আমি বেশ কিছু দিন আগে সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই দিন জাদুঘর বন্ধ ছিল। তারজন্য আমরা আর ভিতরে ঢুকতে পারিনি আর এত সুন্দর সৌন্দর্য দেখাও হয়নি। তবে আজ আপনার পোস্টের মাধ্যমে দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে এত সুন্দর একটি লেক দেখে অনেক ভালো লাগছে। জাদুঘরের ভিতরের দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য।
আপু আমরাও একদিন অফ ডে তে গিয়ে ঘুরে এসেছি হাহা।তবে আপু সময় থাকলে একদিন গিয়ে ঘুরে আসেন ভালই লাগবে।🖤
শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর দেখার অভিজ্ঞতার পোস্টটি দারুন লেগেছে আমার কাছে। তবে সামনের পর্ব বিশেষ আকর্ষণীয় হতে চলেছে বোঝাই যাচ্ছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ এই অসাধারণ পোস্ট ভাগ করে নেয়ার জন্য। ভেতরের সৌন্দর্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
আসলে ভাই ব্যাস্ততার কারনে শেয়ার করা হয় উঠেছে ন তবে আশা করি কাল থেকে নিয়মিত শেয়ার করতে পারবো ইনশাল্লাহ🖤
শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে এখনো যাওয়া হয়নি। কিন্তু আমার ওখানে যাওয়ার খুব ইচ্ছা আছে। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে অনেক কিছুই দেখতে পেলাম সুন্দর সুন্দর। আমি তো কয়েকদিন আগে রকি ভাইয়াকে বলেছিলাম এখানে যাওয়ার জন্য সবাই মিলে। উনিও বলেছে সময় পেলে দেখা যাবে। আজকে আপনার অভিজ্ঞতাটা আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন।
আসলে সোনারগাঁও প্রাচীন ঐতিহ্যের অতি বহন করে সোনারগাঁয়ে এমন অনেক সুন্দর সুন্দর নিদর্শন রয়েছে যেটা প্রাচীনকালের সভ্যতা কে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার মধ্যে পানামা নগর অন্যতম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ে সেরকম একটা সময় পাওয়া যায় না প্রায় প্রতিদিনই যাওয়া লাগতো আপনাদেরও দেখছি একই অবস্থা। অবশেষে শুক্রবার সময় করে সকলে মিলে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের কারুশিল্প জাদুঘর ভ্রমণ করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাদের সুন্দর মুহূর্তটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।🖤
আসলে ঠিক বলেছেন ছোটবেলায় বইয়ের মধ্যেই আমরা সোনারগাওয়ের কথাগুলো পড়েছি। তখন থেকেই যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু এখনো পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। আপনি গিয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। বিশেষ করে আপনাদের এত কাছে ছিল কিন্তু আপনারা জানতেন না। ভেতরটা সত্যিই অসাধারণ। আর আপনার লেখাগুলো পড়ে টেপা পুতুলের কথা মনে পড়ে গেল। তবে পরবর্তী পর্বে নিশ্চয়ই আরো আকর্ষণীয় কিছু দেখতে পারবো।
ইনশাল্লাহ আপু চেষ্টা করবো পরবর্তী পর্ব গুলো খুব শীঘ্রই পোস্ট করার।🙏
ছুটির দিনে সবাই মিলে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর গিয়ে ভালো করেছেন। ছুটির দিন কোথাও না গেলে ভালো লাগেনা। তাছাড়া টিকিটের দাম খুবই কম মনে হল। আপনার এক বন্ধু আসাতে তো আরও ভালো সময় কাটিয়েছেন বোঝা যাচ্ছে। যদিও আমার ওখানে যাওয়া হয় না কিন্তু আপনার ছবির মাধ্যমে কিছুটা আইডিয়া পেলাম। পরবর্তী পর্ব দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
একদম ছুটির দিনের আসল মজাটাই হলো ঘোরাঘুরি করা।😁