যেভাবে তুমি কাউকে চাও, সেভাবেই সেও তোমাকে চাইতে হবে — তাহলেই জীবনের পূর্ণতা
আজ -১৭ য় আষাঢ় | ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আমরা অনেক সময় এমন কাউকে ভালোবাসি, যাকে আমরা যতটা চাই, সে আমাদের ততটা চায় না। আমরা তার জন্য সময় রাখি, খোঁজ নিই, প্রতিটা ছোট ছোট ব্যাপারে গুরুত্ব দিই, কিন্তু সে হয়তো আমাদের খেয়ালই করে না। অথচ তার একটা ছোট মেসেজ, একটা হাসি, একটা 'তুমি কেমন আছো' আমাদের পুরো দিনের মন ভালো করে দেয়।
কিন্তু ভেবে দেখো, তুমি যেভাবে তাকে চাও, যদি সে তোমাকে না চায়, তাহলে তুমি কি একা একাই একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারো? হয়তো কিছুদিন পারবে। নিজের ভালোবাসা দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু এক সময় মনে হবে, তুমি একা লড়ছো। তুমি চাও, তুমি দিচ্ছো, তুমি সহ্য করছো, কিন্তু তুমি যা পাও তার মধ্যে ভালোবাসা নেই, সম্মান নেই, গুরুত্ব নেই।
তখন ভিতরটা খালি খালি লাগে। মনে হয়, আমি কেন এত দিচ্ছি, আর সে কিছুই দেয় না? আমি কি কম গুরুত্বপূর্ণ? আমি কি কোনো ভুল করেছি? তখনই শুরু হয় আত্মবিশ্বাসের ভাঙন। কিন্তু আসলে সমস্যাটা তোমার নয়। সমস্যাটা হলো, সে তোমাকে যেভাবে দেখা উচিত, সেভাবে দেখে না। তুমি ওকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে রেখেছো, অথচ সে তোমাকে হয়তো এক কোণে রেখেছে, সময় থাকলে মনে পড়ে, না থাকলে ভুলে যায়।
এই না-পাওয়ার জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। কারণ আমরা সবসময় ভাবি, আমি যেভাবে ওকে চাই, ও যদি একটু সেভাবে চাইত, তাহলে জীবনটা কত সুন্দর হতো। যদি সে একটু সময় দিত, একটু গুরুত্ব দিত, একটু খেয়াল রাখত, তাহলে আমার এই ভালোবাসাটাও কত স্বস্তিতে থাকত।
ভালোবাসা একতরফা হলে সেটার ভার অনেক বেশি হয়ে যায়। তখন সেটা ভালোবাসা না থেকে কষ্টের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আর কষ্টের জিনিস কেউ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে পারে না। একটা সময় ক্লান্তি এসে যায়।
তখন মানুষ বদলে যেতে শুরু করে। চুপচাপ হয়ে যায়, হাসা কমে যায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তার ভেতরের সবটুকু উচ্ছ্বাস, যত্ন, অনুভব — সব একরকম মরে যেতে থাকে। অথচ সে মানুষটা আগে অনেক প্রাণবন্ত ছিল, হাসতো, ভালোবাসতো, স্বপ্ন দেখতো।
এইরকম বদলে যাওয়া মানুষগুলো আমাদের চারপাশে অনেক আছে। কেউ অফিসে সহকর্মীর মুখে হাসি হারিয়ে ফেলেছে, কেউ বাসায় প্রিয়জনের চোখে আগ্রহ দেখতে পায় না, কেউ সারা দিন অপেক্ষা করে থেকেও সন্ধ্যায় একটা ফোন পায় না। অথচ তারা সবাই কাউকে ভালোবেসেছিল।
ভালোবাসা মানে শুধু বলা না, ভালোবাসা মানে বোঝা। যেভাবে তুমি কাউকে চাও, সেভাবে যদি সে তোমাকে না চায়, তাহলে সেই ভালোবাসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমরা এমন একজনকে চাই, যে আমাদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকবে, ব্যস্ততার মধ্যেও একটু সময় বের করবে, আমাদের মনের কথা শুনবে, বুঝবে।
জীবনের পূর্ণতা তখনই আসে, যখন দুজন মানুষ একে অপরকে সমানভাবে চায়। সেখানে একতরফা আশা নেই, একতরফা অপেক্ষা নেই। সেখানে কেউ কারো ওপর ভরসা করে আরেকজনকে কষ্ট দেয় না। বরং দুজনই দুজনকে আগলে রাখে, খেয়াল রাখে, সময় দেয়।
আমরা অনেক সময় ভাবি, আমি যদি আরও একটু চেষ্টা করি, তাহলে সে হয়তো একদিন আমায় বুঝবে। সেই আশায় বছরের পর বছর কেটে যায়। কিন্তু যার চোখেই তুমি গুরুত্বপূর্ণ নও, তার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবে না, যত ভালোবাসাই দাও না কেন।
ভুলে যেও না, তুমি নিজেও কারো জন্য অনেক দামি হতে পারো। তুমি যেভাবে কাউকে মন থেকে চাইছো, ঠিক সেভাবে কেউ তোমাকেও চাইতে পারে। কিন্তু সে মানুষটা কখনোই সেই লোক না, যে তোমার প্রতি উদাসীন, তোমার কথা মনে রাখে না, তোমার কষ্ট বোঝে না।
তাকে পাওয়ার চেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলাটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। ভালোবাসা দিতে দিতে যদি একসময় নিজেকে খুঁজে না পাও, তাহলে সেই ভালোবাসা তোমার ক্ষতি করছে।
তাই নিজেকে ভালোবাসো। নিজের গুরুত্ব বোঝো। মনে রেখো, কেউ যদি তোমাকে যেভাবে তুমি চাও, সেভাবে না চায়, তাহলে সেটা তোমার অপূর্ণতা নয়, সেটা তার অক্ষমতা।
তুমি এমন একজনকে পাওয়ার যোগ্য, যে তোমাকে গুরুত্ব দেবে, সময় দেবে, চোখে চোখ রেখে বলবে — আমি চাই, তুমি আমার জীবনে থাকো।
জীবনে সেই পূর্ণতা তখনই আসে, যখন ভালোবাসাটা দুজনের মধ্যেই সমান থাকে। তখন আর বোঝা থাকে না, ভুল বোঝাবুঝি থাকে না, অপেক্ষা থাকে না। শুধু থাকে শান্তি, নির্ভরতা, আর একটা মনের বন্ধুত্ব, যেখানে তুমি নিজে হও, তাকেও আপন করে পাও।
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
আমরা যাকে চাই তাকে মন থেকে চাই। কিন্তু সে যদি কখনো মন থেকে না চায় তাহলে কখনোই একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে না। ভাই আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। একদম বাস্তবতা থেকে লিখেছেন আপনি।