চাকরিজীবন মানেই বুঝি ব্যস্ততার শুরু?

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আজ -১৩ আষাঢ় | ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল |


আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।



সকালে অ্যালার্ম বাজার আগেই কখনো কখনো চোখ খুলে যায়। মনে হয়, এখনও সময় আছে ঘুমানোর, কিন্তু মাথার ভিতর তখন থেকেই চলতে থাকে নানা হিসেব—আজ অফিসে কী কী করতে হবে, কোন প্রজেক্টের ডেডলাইন আজ, বসের মুড কেমন থাকবে, লাঞ্চ ব্রেকে ব্যাংকে যেতে পারবো কিনা। একটা চাপা দুশ্চিন্তা যেন ঘুম ভেঙেই বুকের ভেতর বসে যায়।

চাকরিজীবন আসলে জীবনের একটা নতুন অধ্যায়, যেটা অনেকেই খুব গর্ব নিয়ে শুরু করে, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই গর্বের নিচে চাপা পড়ে যায় ক্লান্তি, অভিমান আর নিঃশব্দ চাপ। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে সময় দেওয়ার সুযোগ থাকে না, মুখে গুঁজে নেওয়া নাস্তা, ট্রাফিকের জ্যামে হাঁসফাঁস করে অফিসে পৌঁছানো—এই তো দিনের শুরু।

অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আরেক দৌড়। ইনবক্স ভর্তি মেইল, বসের তাড়া, ক্লায়েন্টের কল, সহকর্মীর মুড সামলানো, আর নিজেদের ইচ্ছেগুলোকে গিলে ফেলা—এটাই যেন প্রতিদিনের চেনা চিত্র। কেউ বলে না, “তুমি কেমন আছো?” কারণ সবাই ব্যস্ত, সবাই দৌড়াচ্ছে নিজের মতো করে। আর এই দৌড়ে মাঝে মাঝে নিজের অবস্থানটা হারিয়ে ফেলি।

একসময় যেসব জিনিস আনন্দ দিত—ছাদে গিয়ে কিছুক্ষণ আকাশ দেখা, প্রিয় গান শোনা, কিংবা পুরোনো কোনো বন্ধুকে ফোন করা—এসবের জায়গায় এখন ঢুকে পড়েছে ফাইল, মিটিং আর ‘রিমাইন্ডার’। এমনকি নিজের জন্মদিনেও হয়তো অফিসে বসে রিপোর্ট জমা দিচ্ছি, আর অন্যদিকে চোখে জল আসছে, কারণ মায়ের ফোনটা ধরতে পারিনি সময়মতো।

চাকরিজীবন আমাদের অনেক কিছু শেখায়, কিন্তু তার চেয়েও বেশি কিছু কেড়ে নেয়। কেড়ে নেয় নিঃশ্বাস ফেলার সময়, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, শখের বই পড়া কিংবা এক কাপ চায়ের সঙ্গে বিকেলের রোদ উপভোগ করার সেই সহজাত আনন্দ।

তবুও আমরা চলি। এই ব্যস্ততাকে জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলি। কারণ আমরা জানি, থামলেই সব পিছিয়ে যাবে। আমরা দায়িত্ব নিই, সংসার চালাই, স্বপ্নের জন্য লড়ি—আর তার জন্য এই ব্যস্ততাকে মেনে নিই। হয়তো সেটাই বাস্তবতা, হয়তো সেটাই পরিণত মানুষ হওয়ার নাম।

তবে এই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মাঝে মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেটা হৃদয়ে হালকা বাতাস হয়ে ছুঁয়ে যায়। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছোট ভাইয়ের একটা মেসেজ—“ভাই, তুমি আসবে তো?” কিংবা বউয়ের হাসিমুখে দরজা খোলা, মায়ের হাতে গরম চায়ের কাপ—এই ছোট্ট ছোট্ট মুহূর্তগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

চাকরিজীবন মানেই কেবল রুটিনে বন্দি থাকা নয়—এটা আসলে নিজের ভেতরের স্বপ্নগুলোকে বাস্তব করার এক লড়াই। ব্যস্ততা থাকবেই, ক্লান্তি আসবেই, কিন্তু মাঝেমাঝে নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে—"তুমি যন্ত্র নও, তুমি মানুষ। তুমি নিজের জন্যও বাঁচতে পারো।"

তাই কখনো কখনো একটু থামা দরকার। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা গভীর নিঃশ্বাস নেওয়া দরকার। দরকার নিজের ভিতরটা জিজ্ঞেস করা—আমি কেমন আছি?

কারণ চাকরি আমাদের জীবন চালায় ঠিকই, কিন্তু জীবনটা আমাদের। সেটা ভালোবাসা, অনুভব আর একটু শান্তির জন্যও তৈরি।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Posted using SteemPro

Sort:  
 last year 

চাকরিজীবন মানেই শুধু ব্যস্ততা নয় বরং আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব সবাইকে এক প্রকার ত্যাগ করার মত। চাকরি জীবনে প্রবেশ করলে জীবনের অন্যান্য আনন্দ সব ভুলে যেতে হয়। চাকরি মানেই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়া।

 last year 

চাকরি জীবনটা আসলেই খুব ব্যস্ততার সাথে কাটে। আর সেই ব্যস্ততার কারণে আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছুই মিস হয়ে যায়। তবুও সবকিছু মানিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। কারণ জীবনে তো সংগ্রাম করতেই হয়। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 59276.76
USDT 1.00
ETH 1542.59
SBD 0.42