একুশে ফেব্রুয়ারি।
আজ - ৮ ই,ফাল্গুন |১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
ভাষা সম্পর্কে রক্ত ক্ষয় সে ইতিহাস নিশ্চয়ই আমাদের কারোই অজানা না নয়। আমরা প্রত্যেকেই কম বেশি সে ইতিহাস হয় সম্পর্কে অবগত।
ছাত্র জীবনে থাকাকালীন সময়ে যখন ভাষা আন্দোলনের পটভূমি এবং পূর্ব ইতিহাসগুলো সম্পর্কে পাঠ্যবই লেখা লেখা থাকতো তখন সেগুলো পড়া হতো শুধুমাত্র পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য। তখন কখনো একবারের জন্য হলেও নিজের মত করে পুরানো সেই ইতিহাসগুলো সম্পর্কে জানা বা বোঝার চেষ্টা করতাম না। তবে এখন এই বয়সে এসে বুঝতে পারছি যে শুধুমাত্র পরীক্ষার পাশের জন্য নয়, ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান এর জন্য হলেও সেই রক্তক্ষয় ইতিহাস গুলোর সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন।
পূর্বের সে বহু বছর আগের ইতিহাসগুলোর পর্যালোচনা করলে মাতৃ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, অনুভূতি বেড়ে যায় যেন আরো বেশি করে।
আমরা বাঙ্গালীদের প্রত্যেকটি অধিকার আদায়ের জন্য করতে হয়েছিল লড়াই। আজ আমারা এত সাবলীলভাবে আমাদের মনে ভাব প্রকাশ করতে পারছি শুধুমাত্র এই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে আমরা শুধুমাত্র যে ভাষা ফিরে পেয়েছি তা কিন্তু নয়। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই কিন্তু বাঙালি জাতি তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হয়েছিল। নিজের ভাষা ফিরে পাওয়ার পর বাঙালিরা ধীরে ধীরে ক্রমশ নিজে দেশটিকে স্বাধীন করার দিকে ঝুকে পড়ে।
পৃথিবীর আর এমন কোন দেশে নেই যে তারা নিজের ভাষা ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছেন। একমাত্র আমরা বাঙালিরা মাতৃভাষা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে লড়াই করেছি।
বহু তরুণ তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেয়েছি এই ভাষা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বিশ্বে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এরপর থেকে সারাবিশ্বে এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ভাষা আন্দোলনের এই দিনটিতে যখন, " আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি " " আমি বাংলায় গান গাই " এই সকল গানগুলো শুনি তখন নিজের মাঝে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে।
সত্যি বলতে, প্রভাতে খালি পায়ে হেটে গিয়ে শহীদ মিনারের ফুল দেওয়া এখন আর এই বয়সে এসে হয়ে ওঠেনা। তবে শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা রয়েছে অন্তরে। তাদের এই মহৎ ত্যাগের না থাকলে কখনোই আমরা এই প্রিয় ভাষাটিকে ফিরে পেতাম না। আর তখন আমাদের মনে ভাব প্রকাশ করতে হতো অন্য ভাষায়।
ছাত্র জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল অন্যরকম। খুব ভোরবেলায় হাতে ফুল নিয়ে চলে যেতে শহীদ মিনারে। এত সকাল ফুল জোগাড় করতে পারবো না তা ভেবে রাতেই ফুল এনে রাখা হতো। বোতল কিংবা গ্লাসে করে পানিতে ফুলগুলো রেখে দিলে, বেশ তাজ থাকতো সারারাত অব্দি। আসলে ওই সময়গুলোতে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হতো ভিন্ন ভাবে এবার আনন্দের সঙ্গে।
যাই হোক ভাষা দিবসে সর্বশেষ একটি কথাই বলতে চাই মাতৃভাষার অসম্মান হয় এমন কোন কাজ আমরা কখনোই করব না। বিদেশি সাংস্কৃতি-বিদেশীর ভাষার পিছনে না ছুটে বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে আয়ত্ত করা আমাদের কর্তব্য।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR