সেও আমাকে ভালোবেসেছিলো, কিন্তু আমার থেকে কম
আজ- ১৮ ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আমরা কেন শুধু একে অপরের দোষ খুঁজি? মানুষের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—অন্যের ভুল দ্রুত চোখে পড়া। আমরা প্রায়ই দেখি, একজন মানুষ শত ভালো কাজ করলেও সেগুলো খুব একটা গুরুত্ব পায় না। কিন্তু সে যদি একটি ছোট্ট ভুল করে, তবে সেটিই হয়ে যায় সবার আলোচনার মূল বিষয়। পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে কিংবা সমাজে আমরা যেন দোষ খোঁজার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছি। প্রশ্ন হলো—আমরা কেন এমনটা করি? কেন আমরা সবসময় একে অপরের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত থাকি? এর একটি বড় কারণ হলো অহংকার।
আমরা চাই নিজেকে সবার চেয়ে ভালো, সঠিক এবং যোগ্য প্রমাণ করতে। অন্যের ভুল খুঁজে বের করে আমরা যেন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চাই। এতে আমাদের মনে হয়—আমি নিখুঁত, আমি অন্যদের চেয়ে ভালো। অথচ সত্য হলো, এই অভ্যাস আমাদের ভেতরের দুর্বলতা ঢাকার একটি উপায় মাত্র। অন্যকে ছোট করার চেষ্টা কখনো কাউকে বড় করে তোলে না, বরং এটি আমাদের চরিত্রকে ছোট করে ফেলে। দ্বিতীয় কারণ হলো ঈর্ষা। সমাজে বা চারপাশে যখন দেখি কেউ ভালো কিছু করছে, সাফল্য অর্জন করছে, তখন অনেকেই সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে না। বরং তারা চেষ্টা করে তার ছোটখাটো ত্রুটি খুঁজে বের করতে, যেন তার অর্জনকে ছোট করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ভালো কোনো কাজ করে, আমরা হয়তো বলি—“হ্যাঁ, করেছে ঠিকই, কিন্তু এখানে ভুল করেছে।” এই ধরনের মন্তব্য আসলে আমাদের ঈর্ষা থেকেই জন্ম নেয়। ঈর্ষা শুধু সম্পর্ক নষ্টই করে না, বরং আমাদের ভেতরকার শান্তিকেও কেড়ে নেয়। তৃতীয় কারণ হতে পারে অভ্যাস। আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখি না কিভাবে প্রশংসা করতে হয়। বরং সমালোচনা করা যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। ফলে অন্যের ভালো কাজকে প্রশংসা না করে আমরা সবসময় তার দুর্বলতা খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং এই অভ্যাস আমাদের ভেতরে নেতিবাচকতা বাড়ায়। চতুর্থ কারণ হলো অজ্ঞতা। জ্ঞানী মানুষ সবসময় অন্যের গুণ দেখতে জানে।
তারা বুঝতে পারে, ভালো কাজের প্রশংসা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু অজ্ঞ বা সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষ শুধু দোষ খুঁজে বেড়ায়। কারণ তার ভেতরে ইতিবাচক কিছু নেই। তাই সে মনে করে, অন্যকে ছোট করলে হয়তো নিজে বড় হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা কখনো হয় না। অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানোর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে। পরিবারে যদি স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ভুলই শুধু খুঁজে বেড়ায়, তবে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও তাই—প্রশংসার বদলে যদি সমালোচনাই বেশি হয়, তবে বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের যদি আমরা সবসময় দোষ ধরি, তবে তারাও একসময় আমাদের থেকে দূরে সরে যাবে।
এভাবে দোষ খুঁজতে খুঁজতে আমরা আসলে নিজেদের চারপাশে দেয়াল তৈরি করি। মানুষ আমাদের থেকে দূরে চলে যায়, কারণ কেউই সবসময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে চায় না। অথচ একটু প্রশংসা, একটু উৎসাহ অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। জীবনকে সুন্দর করতে হলে আমাদের গুণ খোঁজার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দোষ খুঁজে পাওয়া খুব সহজ, কিন্তু গুণ খুঁজে পাওয়া সত্যিকার অর্থে ইতিবাচক মানুষের কাজ। একজন মানুষ হয়তো অনেক ভুল করে, কিন্তু তার ভেতরে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ভালো আছে। সেই ভালো দিকটিই যদি আমরা খুঁজে বের করি এবং প্রশংসা করি, তবে সে আরও ভালো হতে উৎসাহিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ছাত্র হয়তো পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। আমরা যদি শুধু তার ব্যর্থতা নিয়েই কথা বলি, তবে সে ভেঙে পড়বে।
কিন্তু যদি বলি—“তুমি পড়াশোনায় চেষ্টা করেছো, পরের বার আরও ভালো হবে”—তাহলে সে নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। ঠিক তেমনি কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর ভালো কাজকে যদি আমরা প্রশংসা করি, তবে সে আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। আমাদের সবার ভেতরেই দোষ খোঁজার প্রবণতা আছে। কিন্তু এটিকে কমানোর জন্য আমাদের চর্চা করতে হবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির। প্রতিদিন অন্তত একজনের ভালো কাজ খুঁজে বের করে প্রশংসা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলাবে। আমরা বুঝতে পারব, প্রশংসা দিয়ে মানুষকে জয় করা যায়, কিন্তু দোষ খুঁজে মানুষকে কখনো কাছে টানা যায় না। উপসংহার হলো—আমরা কেন শুধু একে অপরের দোষ খুঁজি? কারণ আমাদের ভেতরে অহংকার, ঈর্ষা, অভ্যাস আর অজ্ঞতা কাজ করে। কিন্তু চাইলে আমরা এই অভ্যাস বদলাতে পারি। আসুন, আজ থেকে চেষ্টা করি অন্যের ভালো দিকগুলো দেখতে। প্রশংসা করি, উৎসাহ দিই, ইতিবাচকতা ছড়াই। কারণ দোষ নয়, প্রশংসাই মানুষকে বদলায়, সম্পর্ককে শক্ত করে, সমাজকে সুন্দর করে তোলে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR