বোকাকে কখনও সৎ উপদেশ দিতে যেও না ।
১০ই কার্তিক, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , হেমন্তকাল ।
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
জীবনের পথে আমরা সবাই কখনও না কখনও এমন কিছু মানুষের মুখোমুখি হই যারা সত্য কথা বা সৎ উপদেশ শুনতে চায় না। তাদের মনে অহংকার, ভুল ধারণা বা নিজের প্রতি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এমনভাবে কাজ করে যে তারা সত্য কথা শুনলেই বিরক্ত হয়ে যায়। আসলে বোকারা কখনও সৎ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না, কারণ তারা নিজেদের ভুল বুঝতে চায় না, বরং সব সময় ভাবে তারা-ই ঠিক। তাই বলা হয়, বোকাকে কখনও সৎ উপদেশ দিতে যেও না, কারণ সেই উপদেশ তার কাছে মূল্যহীন।
একজন বুদ্ধিমান মানুষ যখন ভুল করে, তখন সে সেটা উপলব্ধি করতে পারে। সে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখে। কিন্তু একজন বোকা মানুষ কখনও তার ভুল মানতে চায় না। তুমি যতই ভালো উদ্দেশ্যে তাকে কিছু বোঝাতে চাও না কেন, সে সেটাকে অপমান বা তুচ্ছতা হিসেবে নেবে। সে ভাববে তুমি তাকে ছোট করছো বা তার জ্ঞানকে অস্বীকার করছো। ফলে তোমার কথার মানে না বোঝে, বরং তোমার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে।
বোকাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা সব সময় নিজেদের সঠিক ভাবতে ভালোবাসে। তাদের অহংকার এতটাই প্রবল যে তারা অন্যের কথা শোনার ধৈর্য রাখে না। তারা পরামর্শ শুনে না, বরং নিজের অজ্ঞানতাকে জ্ঞান বলে চালিয়ে যায়। এই কারণে, যত বেশি তুমি তাকে সত্য বোঝাতে চাও, তত বেশি সে তোমার বিরুদ্ধে চলে যায়।
জীবনে অনেক সময় দেখা যায়, কেউ যখন ভুল পথে যায়, আমরা চাই তাকে সঠিক পথে ফেরাতে। আমরা ভাবি কিছু সৎ উপদেশ দিলে সে হয়তো পরিবর্তন হবে। কিন্তু যদি সে বোকার মতো আচরণ করে, তাহলে তোমার কথা তার কানে পৌঁছায় না। বরং সে রাগ করে, অভিমান করে, বা তোমাকে দূরে ঠেলে দেয়। তখন তোমার পরিশ্রম, সময় আর কথার মূল্য কিছুই থাকে না।
বোকাদের মন একরকম বন্ধ দরজার মতো, সেখানে যুক্তির আলো প্রবেশ করতে পারে না। তারা শুধু নিজেদের ভাবনাকেই সত্য মনে করে। এমন মানুষের সঙ্গে তর্ক করা মানে নিজের শক্তি নষ্ট করা। তাই জ্ঞানীরা বলেন, বোকাদের সঙ্গে বিতর্কে জয়ী হওয়া অসম্ভব, কারণ তারা কখনও যুক্তির জবাব দেয় না, দেয় আবেগের প্রতিক্রিয়া।
সৎ উপদেশ মানে এমন কথা, যা মানুষকে সত্য জানায়, ভালো পথে নিয়ে যায়। কিন্তু বোকা মানুষ সত্য শুনতে চায় না, কারণ সত্য তার অহংকারে আঘাত করে। সে চায় প্রশংসা, তোষামোদ, আর মিথ্যা আশ্বাস। তুমি যদি তাকে সৎভাবে তার ভুল বোঝাও, সে ভাববে তুমি তার শত্রু। অথচ তুমি যদি তার ভুলের সঙ্গে সম্মতি দাও, তখনই সে তোমাকে প্রিয় বন্ধু ভাববে। এই মানসিকতা-ই প্রমাণ করে সে কতটা অজ্ঞ।
বুদ্ধিমান মানুষ জানে কখন কথা বলতে হয় আর কখন চুপ থাকতে হয়। সব জায়গায় উপদেশ দেওয়া উচিত নয়, কারণ সবাই শুনতে প্রস্তুত থাকে না। কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। বোকা মানুষকে উপদেশ না দিয়ে তার ভুল থেকেই শিখতে দেওয়াই উত্তম, কারণ অভিজ্ঞতার শিক্ষা কারও বলা কথার চেয়ে অনেক গভীর হয়।
শেষমেশ বলা যায়, সব মানুষকে শিক্ষা দেওয়া যায় না। কারও কাছে উপদেশ মূল্যবান, আবার কারও কাছে সেটাই বিরক্তিকর। বোকা মানুষ কখনও সৎ কথা বুঝতে পারে না, কারণ তার মনে অন্ধকার বেশি আর বোধ কম। তাই সৎ উপদেশের আগে মানুষটি বুঝতে পারা জরুরি সে সত্য শুনতে প্রস্তুত কি না। না হলে তোমার উপদেশ তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তাই জেনে রেখো, বোকাকে কখনও সৎ উপদেশ দিতে যেও না, কারণ তাতে সে যেমন বদলাবে না, তেমনি তোমার মনের শান্তিও হারিয়ে যাবে। কখনও কখনও নীরব থাকা আর নিজের জ্ঞান নিজের মধ্যে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ সব কান সত্য শুনতে তৈরি হয় না।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
একেবারে যথার্থ বলেছেন ভাই। এই কথাটির সাথে আমি পুরোপুরি একমত পোষণ করছি। কারণ এই কথার প্রমাণ আমি অনেকবার পেয়েছি। আসলেই বোকাকে কখনো সৎ উপদেশ দেওয়া ঠিক না। নয়তোবা বোকাদের চোখে আমরা খারাপ হয়ে যেতে পারি। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।