মানুষ কেন কষ্ট পায়?
আজ- ১৬ ই আশ্বিন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
মানুষের জীবনে সুখ যেমন অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি কষ্টও তার ছায়ার মতো সবসময় পাশে থাকে। কেউই কষ্ট ছাড়া জীবন কাটাতে পারে না। প্রশ্ন হলো—মানুষ কেন কষ্ট পায়? এর উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, কষ্টের কারণ অনেক রকম হতে পারে। কখনো বাহ্যিক, কখনো অন্তর্গত, আবার কখনো নিজের দোষেই আমরা কষ্টকে ডেকে আনি।
প্রথমত, অতিরিক্ত প্রত্যাশা মানুষের কষ্টের সবচেয়ে বড় কারণ। আমরা প্রায়ই অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। যেমন—বন্ধু সবসময় পাশে থাকবে, প্রিয়জন সবসময় আমাদের বুঝবে, পরিবারের সবাই আমাদের মতো ভাববে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না। আর যখন প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন মনে জন্ম নেয় হতাশা আর কষ্ট। যত বেশি প্রত্যাশা, তত বেশি কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা।
দ্বিতীয়ত, আসক্তি কষ্টের একটি প্রধান উৎস। মানুষ যাকে বা যেটাকে ভালোবাসে, সেটির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ে। সেটা হতে পারে মানুষ, সম্পর্ক, বস্তু কিংবা কোনো স্বপ্ন। কিন্তু জীবনে সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কখনো মানুষ দূরে সরে যায়, কখনো প্রিয় জিনিস ভেঙে যায়, কখনো স্বপ্ন পূরণ হয় না। তখন সেই আসক্তিই আমাদের গভীর কষ্ট দেয়।
তৃতীয়ত, তুলনা করার অভ্যাস মানুষকে অস্থির করে তোলে। আমরা প্রায়ই অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের ব্যর্থতা মেলাতে যাই। দেখি—কেউ ভালো চাকরি পেয়েছে, কেউ অনেক অর্থ-সম্পদ অর্জন করেছে, কারও সুখী পরিবার আছে। আর তখন মনে হয় আমরা পিছিয়ে আছি। এই তুলনা আমাদের ভেতরে হীনমন্যতা তৈরি করে, যা থেকে জন্ম নেয় কষ্ট। অথচ আমরা যদি বুঝতে পারতাম, প্রত্যেক মানুষের পথ আলাদা, তবে হয়তো এই কষ্ট অনেকটা কমে যেত।
চতুর্থত, অতীত আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই অতীতের ভুল বা ব্যর্থতা নিয়ে সবসময় অনুশোচনায় ভোগে। আবার অনেকে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে। ফলে তারা বর্তমানকে উপভোগ করতে পারে না। যখন বর্তমানের আনন্দ হারিয়ে যায়, তখন জীবনে কষ্টই প্রধান হয়ে ওঠে।
পঞ্চমত, ভুল বোঝাবুঝি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন মানুষের কষ্টের বড় উৎস। কাছের মানুষ যদি আমাদের বোঝে না, ভালোবাসার সম্পর্কে যদি অভিমান জমে যায়, কিংবা বিশ্বাস ভেঙে যায়, তবে সেই মানসিক আঘাত গভীর কষ্টে পরিণত হয়। ভালোবাসা আর সম্পর্ক মানুষকে সুখী করে, আবার সেটিই যখন ভেঙে যায় তখন মানুষকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
ষষ্ঠত, অতৃপ্তি বা লোভও কষ্টের আরেকটি কারণ। আমরা প্রায়ই যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না। যত পাই, ততই আরও বেশি চাই। ফলে কখনোই মন ভরে না। এই অতৃপ্ত মন সবসময় নতুন কিছু চায়, আর তা না পেলে মনে কষ্ট জমে। অথচ যদি আমরা কৃতজ্ঞ হতে শিখি, তবে এই কষ্ট অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, কষ্ট সবসময় নেতিবাচক নয়। অনেক সময় কষ্টই মানুষকে শক্ত করে তোলে। যেমন—পরীক্ষায় ব্যর্থতা হয়তো মুহূর্তের জন্য কষ্ট দেয়, কিন্তু সেই কষ্টই মানুষকে আরও পরিশ্রম করতে শেখায়। সম্পর্কের ভাঙন হয়তো গভীর আঘাত দেয়, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হতে শেখায়। কষ্ট আমাদের নতুন শিক্ষা দেয়, আমাদের পরিণত করে তোলে।
কষ্ট ছাড়া সুখের মূল্যও বোঝা যায় না। যদি কখনো দুঃখ না পেতাম, তবে সুখের মুহূর্তগুলো এত মধুর লাগত না। কষ্টই আমাদের শেখায় কীভাবে হাসতে হয়, কীভাবে ভালোবাসতে হয়, আর কীভাবে জীবনকে মূল্য দিতে হয়।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
মানুষের হোক কিংবা অন্যগুলো কোন প্রাণীর হোক জীব বলতে যারাই আছে প্রত্যেকেরই কষ্ট রয়েছে তবে মানুষের কষ্ট বেশি হয় এর মূল কারণ হলো এরা আবেগপ্রবণ বেশি। যাদের জীবনে অধিক পরিমাণে আবেগ রয়েছে তারা অধিক পরিমাণে কষ্ট পেয়ে থাকে আবেগ শূন্য মানুষ কষ্ট হলেও কিছুটা কমের অংশ থাকে।