উৎসব—স্মৃতির মতো কোনো এক সন্ধ্যা ।
আজ -৭য় আষাঢ় | ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজকের দিনটা যেন অনেক দিন পর নিজের জীবনের গতি থেকে খানিকটা ছুটি নেওয়ার মতো ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবিনি, এমন এক দিন কাটবে যা এতটা মনে ছাপ রেখে যাবে। ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর জীবনের হিসাবনিকাশের বাইরে দাঁড়িয়ে হঠাৎই বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা হল। সিনেমার নাম ছিল “উৎসব” — নামটা শুনেই মনে হচ্ছিল এই ছবির ভেতরে কিছু অনুভূতির চোরাস্রোত আছে, যেটা পর্দা ছাড়িয়ে এসে দর্শকের ভেতরেও দোলা দেবে। আমরা কয়েকজন মিলে শহরের একটা পরিচিত হলে পৌঁছালাম। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতেই মনে হল, যেন অনেক দিন পর নিজের জন্য একটু সময় বের করতে পারলাম।
সিনেমা শুরু হল। প্রথম দৃশ্য থেকেই একটা ঘরোয়া গন্ধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নিঃশব্দ ভালোবাসা আর আবেগের রং ভেসে উঠছিল পর্দায়। মাঝেমধ্যে পর্দায় যা দেখাচ্ছিল, ঠিক তা-ই যেন আমাদের মনেও চলছিল—হয়তো কারো পরিবার, কারো অতীত সম্পর্ক, কারো নিজের অভিমান। “উৎসব” আমাদের শুধু বিনোদন দেয়নি, আমাদের ভাবিয়েছে, ছুঁয়ে গেছে, নাড়িয়ে দিয়েছে। পর্দায় চলতে থাকা গল্প যেন আমাদের চারপাশের বাস্তবতাকেই আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল।
সিনেমা শেষ হতেই আমাদের সবার মনেই ছিল এক ধরনের নিঃশব্দ প্রশান্তি। তারপর আমরা ঠিক করলাম—এবার কিছু খাওয়া-দাওয়া হোক। কোথাও বসে একটু গল্প করা, হালকা হাওয়া খাওয়া, আর নিজেরা নিজেদের মত করে কিছু সময় কাটানো—এইটুকু তো প্রাপ্য। আমরা চলে গেলাম একটা পরিচিত রেস্টুরেন্টে। টেবিলে বসতেই সেই আলগা হাসি, পুরনো স্মৃতি, আর পছন্দের খাবারের নাম নিয়ে কথোপকথন শুরু হলো। বেশিরভাগেই চাওয়া ছিল একটা—বিরিয়ানি। বিরিয়ানির প্রতি এই ভালোবাসা বোধহয় আমাদের রক্তেই মিশে আছে। ধোঁয়া ওঠা গরম বিরিয়ানি, পাত্র থেকে বের হওয়া মসলার সুবাস, আর পাশ থেকে কারো চুপি চুপি বলা—“এটা তো একদম আমার প্রিয় স্বাদ!” এসব মিলিয়ে টেবিলটা যেন শুধুই খাওয়ার জায়গা ছিল না, ছিল আবেগ ভাগাভাগির মঞ্চ।
খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আমরা অনেক ছবি তুললাম। কেউ হয়তো কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল, কেউ জানালার পাশে রোদে মুখ ঘুরিয়ে হাসছিল, কেউ আবার চুপচাপ এক কোণে বসে ছিল—সেইসব মুহূর্তই আমরা ধরে রাখলাম আমাদের ফোনে। ছবি মানে তো কেবল একটা দৃশ্য না, ছবি মানে একেকটা আবেগ, একেকটা গল্প, একেকটা ফ্রেমবন্দী অনুভূতি। আজকের ছবিগুলোও তাই শুধু স্মৃতির জিনিস নয়—এগুলো আমাদের জীবনের শান্ত কোলাহলের দলিল।
আসলে দিনটা যখন শুরু হয়েছিল, আমরা কেউই ভাবিনি এটি এমন এক পরিপূর্ণতা এনে দেবে। সিনেমা দেখে, গল্প করে, খেয়ে, হেসে, ছবি তুলে—আজকের দিনটা হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের একটা উৎসব। সিনেমার নাম যেমন ছিল “উৎসব”, তেমনি আমাদের আজকের দিনটাও হয়ে গেল জীবনের ছোট্ট কিন্তু অন্তর থেকে অনুভব করা এক উৎসব। এই দিনগুলোতেই বুঝি জীবনের আসল মানে লুকিয়ে থাকে—যেখানে কোনো জাঁকজমক নেই, তবুও হৃদয়ের বন্ধনে গাঁথা অমূল্য কিছু মুহূর্ত থাকে।
দিনের শেষে ঘরে ফিরতে ফিরতে মনে হচ্ছিল, শরীর ক্লান্ত হলেও মনটা একদম হালকা। আজকের দিনটা নিজের জন্য ছিল, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ছিল, আর এমন কিছু অনুভবের জন্য ছিল, যা দিনের পর দিন আমাদের মনের আয়নায় ঝকমকে করে রাখবে।
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
বন্ধুদের সাথে মুভি দেখে এবং খাওয়া দাওয়া করে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন ভাই। শুনেছি উৎসব মুভিটা খুব সুন্দর। তবে এখনো দেখা হয়নি আমার। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।