মধ্যবিত্ত।
আজ - ৩১শে ভাদ্র |১৪৩০ বঙ্গাব্দ, | শরৎকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
সমাজের সবথেকে কঠিন বাস্তব চিত্রের সাক্ষী হয় কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো। সমাজে তিন শ্রেণির মানুষের বসবাস উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। কিন্তু এই তিন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সবথেকে বেশি শোষিত হয় এবং লাঞ্ছিত হয় কিন্তু মধ্যবিত্ত মানুষগুলো।
নিম্ন শ্রেণীর মানুষগুলো নিঃসন্দেহে অনেক অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করে। তবে তাদের সমাজের প্রতি কোন দায়ভার থাকে না এবং তারা সমাজের উচ্চ শ্রেণীর থেকে তারা অনেকটাই সাহায্য কিংবা সহযোগিতা পেয়ে থাকে। এবং ওই শ্রেণি মানুষগুলোকে সকলে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে। তবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষগুলোর কিন্তু সেই সুযোগটা থাকে না তারা সমাজের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে অনেক কিছুই করতে পারে না। তাদের পেটে খিদে রেখেও মুখে হাসি রাখতে হয়। সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়।
তারাই সবথেকে বেশি শোষিত এবং বাস্তব চিত্রের সাক্ষী হয়। জীবনটা যে এতটা সহজ নয় তারা একমাত্র ভালো বুঝে। একজন মধ্যবিত্তরা কিন্তু কখনোই নিম্ন শ্রেণীর কাজ করতে পারে না। কেননা তাদের সমাজে তাদের একটা অবস্থান আছে তাদেরও একটি পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন আছে। ফলে তারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে না। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সমাজটা অনেকটা কাটার মত, তারা না পারে সমাজের মানুষগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আর না পারে সমাজ থেকে বেরিয়ে কোন কাজ করতে। আমাদের দেশে কিন্তু ৭০ শতাংশ উপরে মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাতারে পড়ে।
কিছু বছর আগের করোনা সময় সেই সকল পরিস্থিতির কথা আমাদের নিশ্চয়ই কারোরই অজানা নয় । ওই পরিস্থিতির সময় সব থেকে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়েছিল কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারাই। বেশিরভাগ পরিবারকেই তাদের প্রাণের শহর ছেড়ে পাড়ি জামাতে হয়েছে নিজ নিজ গ্রাম বাড়িতে। কেননা ওই সময়ের বাস্তব চিত্র এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে মানুষ আসুখে নই বরং না খেয়েই মরতে হতো। কারন ওই সময় অনেক অনেক মানুষের চাকরি হারা হয়েছে। তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথটাও হারিয়েছে অনেকেই। তাই শুধু মাত্র জীবন হাতে নিয়ে তারা পারি জমিয়েছে নিজ গ্রামে। নিশ্চিত সম্ভবনার মাঝে দিয়ে দিন কাটিয়েছে তারা। শুধুমাত্র এই পরিস্থিতিতেই মধ্যবিত্তরা এমন সমস্যা সম্মুখীন হয় তা কিন্তু নয় প্রতিটা পদে পদে প্রতিটি ক্ষেত্রে যে কোন দুর্যোগে এই মানুষগুলো সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একজন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাবা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার পুরো পরিবারটাকে এক হাতে সামলায়। ছেলে মেয়েদের সব সময় সব আবদার পূরণ করতে পারে না। ফলে অনেক কিছুই অপর্ণ থেকে যায়। আর এই অপর্ণাতাটাই এক সময় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। কেনা দিন শেষে কিন্তু একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই মানুষের মতো মানুষ হয়।
যাইহোক, আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী দিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে আল্লাহাফেজ।
আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠা আসা একজন। আমি জানি সমাজে এই মধ্যবিত্তরা কতটা মানসম্মান বজায় রেখে, মুখ চাপা দিয়ে কত কিছু সহ্য করে। না পারে কাউকে বলতে, না পারে সইতে। তবে মধ্যবিত্তদের জীবনের শেষটা ভালো হয়। সাফল্যের জয়গান বেশি মধ্যবিত্ত থেকে উঠে আসা ছেলে মেয়েদের বেশি হয়।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
সত্যিই ভাইয়া মধ্যবিত্তদের বেঁচে থাকা খুব কঠিন।মধ্যবিত্তরা চাইলেই কিছু করতে পারে না।করোনার সময় মধ্যবিত্ত অনেকেই বেঁচে থাকার তাগিদে শহর থেকে গ্রামে চলে গেছেন।নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য বেঁচে থাকা যতো সহজ মধ্যবিত্তদের জন্য ততোটা সহজ আসলে নয়।খুব মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।
বাহ্! দারুণ লিখেছেন তো ভাই। আসলেই আমাদের সমাজে মধ্যবিত্তরা অনেক কষ্ট করে বেঁচে থাকে। প্রতিনিয়ত নিজের মনের সাথেই নিজেকে যুদ্ধ করতে হয়। কারণ চাইলেই যেকোনো কিছু করা যায় না। কারণ মধ্যবিত্তদের আত্মসম্মানবোধ সবচেয়ে বেশি। আর সেই আত্মসম্মানবোধ এর কারণেই তারা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি টপিক নিয়ে পোস্ট শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া মধ্যবিত্ত মানুষই দুইদিকের চাপা কলে পিষে যায়। কারণ তারা না পারে কারো কাছে সাহায্য চাইতে, না পারে মন মত চলতে। কারণ তাদের প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে করতে হয়তোবা শখ বা সৌখিনতা পূরণ করার সাধ্য হয়ে উঠে না। সমাজে বসবাস করতে মধ্যবিত্তরা অনেক বেশি কষ্ট করে। যেটা নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা কেউ করেনা। যদিও তারা কষ্ট করে জীবন যাপন করে তবে মধ্যবিত্তের মতো মানসিক অশান্তিতে থাকে না বেশি। দারুন লিখেছেন ভাইয়া ভালো লাগলো পোস্টটা পড়ে।
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
আমিও কিন্তু মাঝে মাঝে এই কথা গুলো ভাবী। আমার মনে হয় নিম্নবিত্ত মানুষগুলো চাইলেই কিন্তু অন্যের কাছে হাত পাততে পারে। আর মধ্যবিত্ত মানুষ গুলো তো আর সেটা পারে না। তাদের আত্মসম্মান তো বাধা হয়ে দাড়ায়। দারুন লিখেছেন ভাইয়া।
পেটে ক্ষুধা লুকিয়ে রেখে মুখে হাসি যাদের মুখে তাদের নামে হচ্ছে মধ্যবিত্ত। আসলে মধ্যবিত্ত মানুষদের গল্প গুলো একেবারেই আলাদা। হয়তো কখনো কারো কাছে হাত পাততে পারে না। কিন্তু নিজের প্রয়োজনের তাগিদে পাগলের মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায়। হয়তো মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না। কিংবা তাদের খবর কেউ রাখে না। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো সত্যি দারুন ছিল।
আসলেই ভাই করোনার সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো মধ্যবিত্ত পরিবার। আসলে একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেই জানে মধ্যবিত্ত হয়ে থাকাটা কতটা কঠিন। সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
ভাইয়া খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে ব্লগটি সাজিয়েছেন। শুধু করোনা নয় বর্তমানে টিসিবি পন্যের লাইনে দাড়ালেও সেই চিত্রটা দেখা যায়। নিম্ন বিত্তরা দাড়ালে কোন সমস্যা নাই। যখন মধ্যবিত্তরা দাড়ায় তখন মানুষ কেমন যেন অন্য নজরে দেখে। আর পরিচিত কেউ দেখার ভয়ে মাথা নিচু করে রাখে অথবা খিদায় কষ্ট করলেই লাইনে দাড়াতে চায় না। এটাই হলো মধ্যবিত্ত। ধন্যবাদ।