৯১ এর জলোচ্ছ্বাস।steemCreated with Sketch.

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

আজ - ৯ই, কার্তিক |১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল |


আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।




ship-g1e66e3640_1920.jpg
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।

এই কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে সত্যিই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল দিন কাল। গরম তো ছিলই তার সাথে ছিল অধিক লোডশেডিং। কিছুদিন যাবত এই লোডশেডিং এর অত্যাচার থেকে কিছুটা রেহাই পেলেও পুনরায় আবার শুরু হয়েছে সে অত্যাচার। আর এই অত্যাচারের মাত্রাটা বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায় আরও কয়েকগুণ হারে। তবে সবথেকে ভালো লাগার একটি দিক হচ্ছে গতকাল থেকেই পরিবেশটা একদম ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ, এবং উত্তরা বাতাসে গা শিরশির করে ওঠার মতো একটি ওয়েদার বিরাজ করছে।

আজকের সত্যিই ওয়েদার টা খুব সুন্দর। গতকাল রাত থেকেই যে বৃষ্টি পড়া শুরু করেছে এখনো পর্যন্ত ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। এবং পরিবেশটা একদম শীতল হয়ে আছে। আর এই শীতল পরিবেশের জন্য সকালের ঘুমটা ও হয়েছে বেশ ভালো। এই ওয়েদারে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে কিন্তু সত্যি অসম্ভব ভালো লাগে । যারা আমার মত একটু ঘুমপ্রেমি কিংবা অলস প্রকৃতির তাদের জন্য এই আবহাওয়া টি একদমই উপযুক্ত। তবে যারা কর্ম ব্যস্ততার জন্য বাহিরে বের হতে হয় তাদের জন্য খুবই অস্বস্তিকর একটি ওয়েদার এটি। কাঁচা ঘুম চোখে নিয়ে কর্মে ছুটে চলা এবং রাস্তাঘাট ভিজে এবং পিচ্ছিলতাই যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে যদি ছুটির দিনে এমন একটি ওয়েদার বিরাজ করে তাহলে সেটিও কর্মব্যস্ত সেই সকল মানুষদের জন্য একটি উপভোগ্য দিন হয়ে উঠতে পারে।


hurricane-gc5343dbf6_1280.jpg
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।

যাই হোক, আমাদের জন্য ওয়েদারটি উপভোগ্য হলেও সকলের জন্য সেটি নয়। কথায় আছে না- কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ। এখানেও বিষয়টা ঠিক এমনই। সমুদ্র উপকূলীয় মানুষদের জন্য এই ওয়েদার টা সত্যিই খুব বিপদজনক। ইতিমধ্যেই উপকূলীয় মানুষদের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছেন। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর গভীর নিম্নচাপ এর ফলে সৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ ক্রমশ এগিয়ে আসছে আরো উত্তরে। যতদিন না এই ঘূর্ণিঝড় যাচ্ছে কিংবা ঘনীভূত হচ্ছে ততদিন এরকম একটি ওয়েদার বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আকাশটা একদম গম্ভীর হয়ে আছে। ঝড় ওঠার আগে যেমন একটি পরিবেশ বিরাজ করে থাকে থাকে ঠিক তেমনটি হয়ে আছে আজ। নিস্তব্ধ নীরব হয়ে আছে সবকিছু। বুঝাই যাচ্ছে শান্ত পরিবেশ যেকোনো সময় অশান্ত হয়ে যেতে পারে।

আজ হঠাৎ করে অনেক বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। যদি ও আমার জন্মের আগের সেসব ঘটনা। তবে পরিবার এবং সকলের কাছে ঘটনাটির মর্মাহতের কথা এত করে শুনেছি যে ঘটনাটির কথা কখনো ভুলতে পারবো না। যাই হোক বলছিলাম ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের সব থেকে বড় ঘূর্ণিঝড়ের কথা। এই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে কত অঞ্চলে এবং এলাকা যে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। আমাদের গ্রামটা উপকূলীয় এবং সাগরের মধ্যবর্তী একটি অঞ্চল হওয়ায় সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওখানে। আমার অনেক কাছের আত্মীয়-স্বজনের প্রাণ হারায় ওই জলোচ্ছ্বাসের কারণে। আমার দাদী, বড় আম্মু, আন্টি এছাড়া অনেক আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী এই জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারায়। এমনকি মারা যাওয়া সে সব আত্মীয়-স্বজনের নিথর দেহ গুলো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকের।

ওই ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বেঁচে ফেরা মানুষগুলো যখন ওই সময়গুলোর কথা বর্ণনা করে তখন আমার চোখের সামনে যেন ভেসে ওঠে ওই মর্মান্তিক দৃশ্য গুলো। আর ৯১ এর জলোচ্ছ্বাস টি হয় রাতের দিকে যার কারনে সব থেকে বেশি বিপদজনক হয়ে উঠেছে। দুঃস্বপ্নের মতো অন্ধকার রাতটি যখন কেটে ভোর হয় তখন সকলে হাহাকার করতে থাকে তার কাছের মানুষগুলোর জন্য। সকলেই প্রাণপণে খুঁজতে থাকে তার পরিবারের মানুষগুলোদের। কেউ পায় আর কেউ পায় না। হয়তো আমরা থাকলেও আমাদের ওই সময় বেঁচে ফেরা আর হতো না। এতটাই ভয়ঙ্কর এবং শক্তিশালী ছিল ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসটি।

আমার এক আত্মীয় আছে যিনি ওই বন্যাই তার ৫ সন্তানকে হারায়। আর সেই শোক আজ এত বছর পরেও সে কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া অনেক মর্মান্তিক সকল ঘটনার সাক্ষী ওই ঘূর্ণিঝড়। আমি যদিও আপনাদের সাথে খুব সুন্দর ভাবে কথাগুলোর বর্ণনা করতে পারছি না কিন্তু ওই সময়ের ভয়াবহতার অবস্থা গুলো নিশ্চয়ই আপনারা উপলব্ধি করতে পারছেন।প্রকৃতি কতটা শক্তিশালী এবং আমরা প্রকৃতির কাছে কতটা অসহায়। তা প্রকৃতির এসকল দুর্যোগগুলো মাধ্যমে আমরা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারি।

তো আজ এই পর্যন্ত এখানেই শেষ করছি আমরা আজকে আলোচনা। সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 4 years ago 

সত্যি ভাই সেই ভয়াবহতা স্মরণ করলে গা শিউরে ওঠ। কি বিভবর্ষ রাত ছিল সেই জলোচ্ছ্বাসের। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি চলতি এই জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড় সকলকে নিরাপদ রেখে ভালই ভালই চলে যায়। উপকূলীয় মানুষগুলো যেন নিরাপদে থাকে ।এই প্রত্যাশায় আপনাকে দীপাবলীর শুভেচ্ছা।

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



 4 years ago 

প্রথমেই আপনার হারানো স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করি।খুবই কষ্ট পেলাম আপনার আত্মীয় হারানোর কথা জেনে। এজন্যই বলে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ।আজ সকাল থেকেই টিভি তে কক্সবাজারের অবস্থা দেখছিলাম আর সেখানকার লোকজনের নিরাপত্তা কামনা করছিলাম ঈশ্বরের কাছে।আশা করি ঈশ্বর সবাইকে রক্ষা করবেন।

 4 years ago 

ঘূর্ণিঝড়ের কথা শুনলেই ভয় লাগে যেটা আমাদের জন্য অনেক বিপদজনক। বিশেষ করে সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য বেশি বিপদজনক ।এই নিম্নচাপে আমিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি কারণ আমার পরীক্ষা চলছে লোডশেডিং এর কারণে লেখাপড়ার বিঘ্নিত হচ্ছে সত্যি এটা কষ্টদায়ক ছিল ভাই। তাছাড়া 1991 সালে ঘূর্ণিঝড়ের কথা স্মরণ করলে অনেক কষ্ট লাগে অনেক মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। যাইহোক, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ধন্যবাদ ভাই।

 4 years ago 

ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস এর কথা শুনলেই মনের মধ্যে আলাদা রকম একটি ভয়ভীতি কাজ করে।। কেননা উপকূলীয় অঞ্চলে এমনভাবে আঘাত হানার কথা শুনছি এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।।

আপনার পোষ্টটি পড়ে ৯১ এর জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে মোটামুটি অনেক তথ্য জানতে পারলাম।। আপনার হারানো আত্মীয়র জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল সৃষ্টিকর্তা যেন পরপারে তাকে অনেক ভালো রাখে।।

আজ দুদিন ধরেই অনেক মানসিক টেনশন এর মধ্যে আছি বাংলাদেশের এই বৈরী আবহাওয়া নিয়ে।। কেননা আমার ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে যাদের বাড়ি খুলনাতে।।

 4 years ago 

ভাইয়া আপনার মত আমারও কিন্তু এই আবহাওয়া বেশ পছন্দ। তবে আমিও কিন্তু ঘুম প্রিয় মানুষ। যদিও এই দিনে যারা অলস না তারাও অলস হয়ে পড়ে। বাহিরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ার দৃশ্যটি অসাধারণ লাগে। আপনার স্বজন হারানোর কথা শুনে খুবই খারাপ লাগলো। 91 এর বন্যা আমরা দেখিনি কিন্তু অনেক শুনেছি আমার আব্বু আম্মু দাদা দাদুর কাছ থেকে😑😑😑। যখন শুনি কথাগুলো তখন মনে হয় যেন আমি এই মর্মান্তিক ঘটনা গুলো কাছ থেকে দেখছি।

 4 years ago 

আমাদের মত আরাম প্রিয় মানুষদের হয়তো এই ওয়েদার খুবই ভালো লাগছে। তবে যারা কর্মব্যস্ত মানুষ তাদেরকে এই ওয়েদারের মাঝেও বাইরে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে যারা উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করছে তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। হয়তো কোন বড় ধরনের দুর্যোগ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আপনার আত্মীয় ভয়াবহ দুর্যোগে তার সন্তানদেরকে হারিয়েছে জেনে সত্যি খারাপ লাগলো। আসলে দুর্যোগ যেমন ভিটেমাটি সবকিছু তছনছ করে দেয় তেমনি প্রিয় মানুষগুলোকেউ কেড়ে নেয়।

 4 years ago 

আসলে ভাই 91 বন্যার সময় আমারও একটু একটু মনে আছে আমার বয়স তখন ছিল আট নয় বছর। আমরা তখন চট্টগ্রামে থাকতাম। ৯১ বন্যার ঠিক কয়েকদিন আগেই আমরা তো বাড়িতে গিয়েছিলাম আর ঠিক ওই মুহূর্তেই বন্যা হয়। আমার বাবা তখন চট্টগ্রামে ছিল কিন্তু সে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল। আপনার আত্মীয়-স্বজনের কথা শুনে আসলে খুব খারাপ লাগছে। তাদের সকলেরই আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আসলে ভাই আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি এরকম হলে আসলেই কষ্ট হওয়ারই কথা।

Hi @moh.arif,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.

Come and visit Italy Community

 4 years ago 

ঠিক তাই ভাইয়া, কারো পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ। সর্বশেষ দেখা নিউজ এ দেখলাম উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। আর এদিকে আমি এমন ওয়েদার পেয়ে ঘুমিয়ে কাটালাম সারাদিন। ৯১ এর বন্যার কথা অনেক শুনেছি আম্মুর কাছে। আপনার স্বজন হারানোর কথা শুনে খুবই খারাপ লাগছে ভাইয়া। তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দোয়া করি যেন এই সিত্রাং খুব আঘাত না হানে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64311.78
ETH 1873.24
USDT 1.00
SBD 0.36