" আপন যে জন " নাটকের রিভিউ
আজ - ১৫ই শ্রাবণ |১৪৩০ বঙ্গাব্দ, | বর্ষাকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবিঃস্ক্রিনশট এর মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলীঃ
| নাম | আপন যে জন। |
|---|---|
| পরিচালক | শাহজাহান সৌরভ । |
| অভিনয় | অপূর্ব, জাকিয়া মম, আব্দুল্লাহ রানা |
| দৈর্ঘ্য | ৪১ মিনিট। |
| ধরন | সামাজিক । |
| ভাষা | বাংলা। |
| মুক্তির তারিখ | ২৩.০৪.২০২১ইং। |
নাটকের সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতে বাবা এবং মেয়ের ছোট্ট একটি মিষ্টি সম্পর্ক দেখানো হয়। যেখানে বাবা রোজ সকালে নিজের হাতে মেয়েকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে স্কুল দিয়ে আসা সবকিছু একজন মায়ের মত করে সকল দায়িত্ব পালন করে।
"কেশোর" আর "বিথী" একমাত্র মেয়ে হচ্ছে "ক্ষণ"। তারা দুইজনেই ভালোবেসে বিয়ে করে। তবে শুরু থেকেই "বিথীর" বাবা তাদের এই বিয়ে মেনে নেয়নি। শুরু থেকেই "কেশোর" আর "বিথী" তাদের অনাগত সন্তানের নাম ঠিক করে রাখে ক্ষণ। পরবর্তীতে যখন তাদের একমাত্র সন্তান "ক্ষণ " এই পৃথিবীতে আসে তখন বিথী বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাই তার বাবা চিকিৎসার জন্য ওই ছোট্ট "ক্ষণকে" " কিশোর" এর কাছে রেখে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাই। পরবর্তীতে দেশের আইন, বাবার জেদের কারণে কোনভাবেই তাকে আর বাংলাদেশে আসতে পারেনি । সে বহুবার তার সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিল, এবং সে তার সন্তানের জন্য মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারপরও তার বাবা তাকে তার সন্তানের কাছে যেতে দেয়নি। এভাবে করে বিথী তার চিকিৎসা এবং তার বাবার জেদের কারনে প্রায় আট বছর সিঙ্গাপুরে কাটিয়ে দেয়। আর এ আট বছর পর বিথী তার সন্তানকে দেখার জন্য বাংলাদেশের এসেছে।
বিথী দেশে এসেই কেশোর এর ঠিকানা জোগাড় করে তার কাছে ছুটে যায়। কিন্তু কিশোর অভিমানে তাকে ফিরিয়ে দেয়। বহুবার বিথী বলতে চেয়েছিল এত বছর তার দেশে না আসার কারণ। কিন্তু কোনভাবেই কেশর তার এই কথাগুলো শুনতে চাই না। কেশর জানায় এ আট বছরে তার অনুউপস্থিতি তারা বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে।
এদিকে কেশর তার বাসা এবং অফিস পরিবর্তন করে ফেলে যাতে কোনভাবেই বিথী ঠিকানা জানতে না পারে। এদিকে বিথী বারবার কিশোরের কাছে ছুটে যাচ্ছে তার সন্তানকে দেখার জন্য। সে কিশোরকে অনেক অনুরোধ করে এবারের জন্য হলেও অন্তত তার সন্তানের সাথে যাতে তার দেখা করায়। কিন্তু কিশোর কোনভাবে সেটি হতে দেয় না। সে সব সময় তাকে এড়িয়ে চলে।
এরপরেই নাটকের আসল সত্যটি প্রকাশে আসে। কেশর ও তার মেয়ে ক্ষণ এর যে সম্পর্কটি এটি শুধুমাত্রই কেশরের কল্পনা। বাস্তবে আসলে এই ছোট্ট ক্ষণ এর কোন অস্তিত্বই নেই। ক্ষণ পৃথিবীতে আসার ঠিক দুই মাস বয়সেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেই। ক্ষণ জন্মের পরপরই যেহেতু ক্ষণের মা অর্থাৎ বিথীকে তার বাবা বিদেশে নিয়ে চলে গিয়েছিল তাই ক্ষণ এর সম্পর্কে বীথি এই বিষয়গুলো জানতো না। আর এই কঠিন সত্যটা কেশর বিথীকে জানাতে চাইনি বলে সব সময় তার কাছ থেকে এড়িয়ে গিয়েছে।
আসলে কেশের ও ক্ষণএর এই ক্ষণিকের জন্য পৃথিবীতে আসার এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বলে কল্পনায় সে ক্ষণ এর সাথে একটি সম্পর্ক বাঁধিয়ে নিয়েছে। ক্ষণ বেঁচে থাকলে বাবা এবং মেয়ের যেরকম একটি সম্পর্ক হতো সেরকমটা করে তার কল্পনায় সাজিয়ে নিয়েছে। সে জানে ক্ষণ পৃথিবীতে বেঁচে নেই তারপরও সে তার কল্পনায় ক্ষণকে খুঁজে পাই।
ব্যক্তিগত মতামত
ব্যক্তিগত মতামতের আলোকে বলতে গেলে নাটকটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। তবে আমি মনে করি নাটকের গল্পটি কিছুটা অগোছালো ছিল। কারন নাটকের বর্তমানে যখন পূর্বের ঘটনাগুলো দেখানো হচ্ছিল তখন নাটকের ওই সিন গুলো আসলে বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগছিল। তবে গল্পটি খুবই সুন্দর ছিল। আর গল্পে শেষের দিকে একটা টুইস্ট আছে যে জিনিসটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। নাটকের শুরু থেকে আমরা নাটকটিকে যেভাবে মনে করেছিলাম শেষে এসে গল্পটির মোর অন্যদিকে ঘুরে যায়। নাটকে শুরু থেকে বুঝার উপায় নেই শেষে এসে কি হতে চলছে । আর নাটকে অভিনয় করা অপূর্ব ও মম এর অভিনয় ছিল দারুন। সর্বশেষ নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটার কথা না বললে নয় ওইটি ছিল অসাধারণ।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আমি ভেতর থেকে নাটকের কাহিনীটা উপভোগ করছিলাম। সত্যি বলতে আমি নিজেও একজন বাবা, তাই নাটকের কাহিনীটা কেমন যেন অনুভব করছিলাম। সব ঠিক ছিল কিন্তু শেষটা কেমন যেন কষ্ট ছড়িয়ে দিলো।।।।
অপূর্বের নাটক এমনিতেই আমার বেশ ভালো লাগে। অনেক ভালো একজন অভিনেতা। আজ আপনি বেশ সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ করেছেন। যদিও আমি কয়েকবার নাটকটি দেখতে চেয়েও দেখতে পারিনি। কিন্তু আজ আপনার নাটকের রিভিউ পড়ে বেশ দেখতে মনে চাইছে। অনেক সুন্দর করে আপনার মতামতও উপস্থাপন করেছেন। আমার কাছে বেশ ভালোই লাগলো।
এভাবে শেষের দিকে কাহিনী ঘুরে যাওয়ার নাটক বেশ ভালোই লাগে।এটাই টুইস্ট নাটকের।নাটকটির কাহিনী সুন্দর হলেও আপনি বলছেন একটু অগোছালো,তারপরেও ভালো লেগেছে নাটকটি আপনার। সময় করে নাটকটি দেখার চেষ্টা করবো ।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।