কলকাতার স্ট্রিট ফুড।
আজ - ১৪ই, বৈশাখ |১৪৩০ বঙ্গাব্দ, | গ্রীষ্ম-কাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
কেমন আছেন সকলে? নিশ্চয়ই ভালো। কিছুদিন যাবত ওয়েদারটা কিছুটা শীতল থাকলেও বর্তমানে সে আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষায় এ তাপমাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। নাকি এবারের গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভাঙবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। যদিও কিছুদিন আগে যে হারে গরম পড়েছিল এই গরমের মাত্রাটা বিভিন্ন অঞ্চলের বিগত কয়েক যুগের ও বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে । তবে এটা সত্য যে গরম যত বাড়বে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তত বৃদ্ধি পাবে। প্রকৃতির প্রকৃতির নিয়মে চলছে সেই সাথে আমাদের ও প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
যাইহোক অন্য সব কথা বাদ দিয়ে এবার মূল কথায় আসি। আপনাদের সাথে আজকে কলকাতারকিছু স্ট্রিট ফুড শেয়ার করব। এবার কলকাতা ভ্রমণ আমরা খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গিয়েছিলাম এবং হাতে খুব কম সময় পেয়ে ছিলাম ঘুরাঘুরির জন্য। তবুও এর মাঝে কলকাতার কিছু স্ট্রিট ফুড ট্রাই করেছিলাম আমরা। আসলে স্ট্রিটফুর্ডের মাধ্যমে কোন একটা অঞ্চলের খাবারের ঐতিহ্যের সম্বন্ধে জানা যায়। কারণ স্ট্রিট ফুড হলো এমন খাবার যেটা ধনী গরিব কোন ভেদাভেদ থাকেনা সকলে এটি খেতে পছন্দ করে। আর মোটামুটি কম দামের মধ্যে এসব খাবার গুলো হয়ে থাকে। তবে চলেন শুরু করি..
যখন আমরা নির্মল্ল ভাইকে কলকাতার স্ট্রিট ফুড সম্বন্ধে বললাম। উনি আমাদেরকে ধর্মতলার ডেকার্স লেন এ নিয়ে যান। এটা নাকি বেশ বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড এর জন্য। ওখানে আমরা বেশ কয়েকটি স্ট্রিট ফুড খেয়েছি। প্রথমেই আমরা ওই গলির শুরুর দিকে যে দোকানটি ছিল, ওখান থেকে বেশ কয়েকটা আইটেম ট্রাই করি। তার মধ্যে ছিল : ফ্রাইড রাইস সাথে চিলি চিকেন , চাওমিন সাথে চিলি চিকেন, চিকেন ফ্রাই। শুরুতে এই তিনটে আইটেম ট্রাই করি। তার মধ্যে আমি এবং নির্মল্ল ভাই ফ্রাইড রাইসের সাথে চিলি চিকেন নিয়েছিলাম। আর সুমন ভাই ও হাফিজ ভাই চাওমিন এর সাথে চিলি চিকেন নিয়েছিলেন। ফ্রাইড রাইস গুলো অনেক গরম ছিল, সাথে চিলি চিকেন ও, যার কারণে খেতে বেশ ঘাম ঝরছিল । আর পরিমাণে এত বেশি ছিল যে, পুরোটা আমি শেষ করতে পারিনি।
ওখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলাম। অফিসের অনেক লোক দুপুরে লাঞ্চের জন্য ওখানে আসেন খেতে। তবে একটা বেশি আশ্চর্য যে খাবারের দাম অত্যন্ত কমের মধ্যে। আমাদের এখানে ঢাকা-চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুড হলেও দাম অনেক বেশি থাকে। কিন্তু ওখানে অনেক সস্তা। যেমন আমরা যে পরিমাণ চিকেন ফ্রাই খেয়েছিলাম ওটা বাংলাদেশে প্রতি পিস এর দাম কম না হলেও ৮০ টাকা করে হবে। কিন্তু এখানে প্রতি পিস ৩০ কি ৪০ রুপি ছিল। তবে আমার ওই দোকানের খাবার গুলোর মধ্যে চিকেন ফ্রাইটাই বেশ ভালো লেগেছিল।
এরপর আমরা ওই গলিতেই আরেকটি ঐতিহ্যবাহী খাবার দোকানে গিয়েছিলাম। সবাই যেটাকে চিত্তবাবুর দোকান নামে চেনে। ওখানে একটি খাবার খেয়েছিলাম চিকেন স্ট্রু আর টোস্ট। ওটাতে চিকেনের একটি রোস্ট ছিল সাথে ঝোল ছিল। যেটা পাউরুটি টোস্ট দিয়ে খেতে বেশ মজা লাগছিল। এই আইটেমটা নাকি অনেক পুরানো এবং ঐতিহ্যবাহী একটি আইটেম। মোটামুটি সবার কাছেই পরিচিত নাম। এটা খেয়ে বেশ খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম ওখানে। নতুন নতুন অনেক খাবারও দেখেছিলাম। কিন্তু সবগুলা ট্রাই করা হয়ে ওঠেনি কারণ সময় অনেক কম ছিল আমাদের হাতে। আর শুরুতে ভারি খাবার খেয়ে পেট লোডে ছিল।
এটাই ছিল কলকাতার স্টেট ফুডের আজকের পোস্ট।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আশা করি ভাইয়া ভালো আছেন? খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও কলকাতার মুহূর্তগুলো খুব চমৎকার ভাবে কাটিয়েছেন। কলকাতার স্ট্রিট ফুড খাওয়ার অনুভূতি সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন । আপনার স্ট্রিট ফুড খাওয়ার অনুভূতি পড়ে ভালো লাগলো। চিকেন রোস্ট পাউরুটি টোস্ট দিয়ে খেতে বেশ মজা লাগছিল শুনে ভালো লাগলো। এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাহ্ বাহ্ বাহ্ । চকলেট বয়, লাভার বয়, রোমান্টিক বয় আর স্টিমিট পুলিশ সবাই মিলে দেখছি বেশ সস্তায় ধর্মতলার ডেকার্স লেন এর স্ট্রিট ফুড খেয়ে নিলেন। তবে স্ট্রিট ফুডের মজাই কিন্তু আলাদা। আপনারা তো দেখলাম খুব মজা করে চিকেন আর চাউমিন খেলেন। তবে ঢাকায় হলে এত কম দামে খেতে পারতেন না কিন্তু।
হুম এটা ঠিই ঢাকা বা চট্রগ্রাম হলে, এই দাম কল্পনা ও করা যেত না।
কলকাতার স্ট্রিট ফুড তো বেশ লোভনীয়ই লাগছে।অবশ্য আমাদের দেখেও এখন স্ট্রিট ফুডে খুব মজার মজার আইটেম ই পাওয়া যায়। টেস্ট করে দেখা হয়নি যদিও।আপনারা তো বেশ ভালোই মজা করে খেয়েছেন,ভাল লাগলো দেখে।শেয়ার করে দেখার সুযোগ করে দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাইয়া কলকাতার স্ট্রিট ফুড হিসেবে ফ্রাইড রাইস এবং চিলি চিকেন এর কালারটা দেখতে কিন্তু খুবই সুন্দর লাগছে। কালার দেখে বোঝা যাচ্ছে যে খাবারটি খুবই সুস্বাদু ছিল। আর চিত্তবাবুর দোকানের খাবারটি মনে হচ্ছে এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার। ভাইয়া নিশ্চয় এ ধরনের খাবারগুলো খেয়ে খুবই তৃপ্তি পেয়েছিলেন। কলকাতার স্ট্রিট ফুডের সাথে আমাদের পরিচিত করানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
কলকাতার বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুড খাওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী আইটেমও খেয়েছেন। খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মনে হচ্ছে খেতে ইয়াম্মি লেগেছে। আমার তো ভিতরে থাকা চিকেন মোমো গুলো দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। কারণ চিকেন মোমো আমার খুব পছন্দ। তবে চিকেন ফ্রাই এর দাম শুনে অবাক হলাম। আমাদের দেশের তুলনায় দাম অনেক কম। আসলে স্ট্রিট ফুড খেতে মাঝে মধ্যে খুব ভালো লাগে। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাই সেই স্বাদের ছিলো খাবারগুলো সত্যি, যদিও আমরা চাউমিনটা একটু বেশী খেয়েছিলাম হা হা হা।
স্ট্রিট ফুড খাবারটা দেখতে অনেক লোভনীয় লাগছে। ইন্ডিয়াতে গিয়ে কলকাতার অনেক ধরনের খাবারে স্বাদ ই দেখছি আচ্ছাদন করে এসেছেন ভাই। চিত্ত বাবুর দোকানের ঐতিহ্যবাহী খাবার চিকেন স্ট্রু আর টোস্ট খেয়েছেন। খাবার গুলো দেখে তো খেতে ইচ্ছা করছে আমার। সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।