সব সম্মতিকে প্রশ্রয় দিতে নেই ।
আজ- ২১ ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল ।|
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
মানুষ সামাজিক জীব। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা সমাজের অনেক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে একে অপরকে বোঝা, সম্মান করা এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্মতি দেওয়া জরুরি। কিন্তু সবকিছুতেই সম্মতি জানানো কি সঠিক? আসলে না। সব সম্মতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। কারণ এতে একদিকে যেমন নিজের মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ হয়, অন্যদিকে সমাজে অন্যায় ও ভুল কাজের প্রসার ঘটে।
আমরা প্রায়ই দেখি, কেউ কেউ কেবল সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে বা ঝামেলা এড়ানোর জন্য সব বিষয়ে সম্মতি দিয়ে বসে। হয়তো সে মনে করে এতে শান্তি থাকবে, ঝগড়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে এই অযৌক্তিক সম্মতি একদিন বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ভুলকে যদি বারবার মেনে নেওয়া হয়, তবে সেটি আর ভুল থাকে না—বরং অন্যরা সেটাকে অধিকার ভেবে নেয়।
সব সম্মতিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রথম কারণ হলো নীতি ও মূল্যবোধ। আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু আদর্শ, কিছু সীমা থাকা উচিত। যদি কেউ সেই সীমার বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় এবং আমরা তাতে সম্মতি জানাই, তবে আসলে আমরা নিজেদের নীতি-আদর্শকেই ছোট করে ফেলি। ভুলকে না বলতে শেখা মানেই নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করা।
দ্বিতীয়ত, সবকিছুকে প্রশ্রয় দিলে অন্যায় বেড়ে যায়। ছোট ছোট ভুলকে যদি শুরুতেই থামানো না হয়, তবে সেটি ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হয়। যেমন, যদি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলে চুপ করে থাকি, তবে অন্যায়ের শক্তি আরও বেড়ে যায়। তাই সব বিষয়ে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলার অভ্যাস কখনও সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না।
তৃতীয়ত, নিজের সম্মান ও আত্মবিশ্বাস রক্ষা করার জন্যও সব বিষয়ে সম্মতি দেওয়া উচিত নয়। যদি সবসময় অন্যের কথায় মাথা নুইয়ে দেওয়া হয়, তবে ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে যায়। অন্যরা মনে করে, এই মানুষটিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অথচ আত্মবিশ্বাসী মানুষ জানে, কোন জায়গায় না বলতে হবে।
তবে এর মানে এই নয় যে আমাদের সবসময় বিরোধিতা করতে হবে। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে হলে অনেক সময় আপস করতে হয়, অনেক সময় নীরব থাকতে হয়। কিন্তু আপস আর আত্মসমর্পণের মধ্যে পার্থক্য আছে। আপস তখনই ভালো, যখন সেটি ন্যায়সঙ্গত ও সবার কল্যাণে আসে। কিন্তু যদি আপস অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে দেয়, তবে সেটি আর আপস নয়—বরং দুর্বলতা।
জীবনে দৃঢ় চরিত্রের মানুষরা সবসময় জানে কোথায় হ্যাঁ বলতে হবে, আর কোথায় না বলতে হবে। তারা বোঝে, সম্মতি সবসময় শান্তি আনে না, বরং সঠিক জায়গায় না বলা-ই আসল শান্তির পথ তৈরি করে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR