স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া মজার একটি গল্প।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

হ্যালো..!!
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@md-razu বাংলাদেশের নাগরিক।

আজ -২৫ শে,বৈশাখ| ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |বুধবার|গ্রীষ্মকাল|



আমি রাজু আহমেদ।আমার ইউজার নাম @md-razu।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে অভিনন্দন।

তাহলে চলুন শুরু করি


স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া মজার একটি গল্প শেয়ার করব। সবার জীবনেই স্কুলের মজার ঘটনা থাকে। আমাদের সাথেও খুবই সুন্দর একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পুরনো স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।


Red Abstract Income Money YouTube Thumbnail_20240508_074214_0000.png


ক্যানভা অ্যাপ দিয়ে বানানো।


প্রিয় বিদ্যালয়।
device:redmi note 10
What's 3 Word Location:
https://w3w.co/renewals.shortlived.mastering


আমি আজ আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠ নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। আমি ২০১১ সালে আমাদের ধোকড়াকোল মাধ্যম বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। আমি এই প্রিয় বিদ্যাপীঠে এসএসসি শেষ করেছি। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার স্কুলের সাথে। সেই স্মৃতি বিজড়িত কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করব। ক্লাস পঞ্চম শ্রেণি থেকে পিএসসি পরীক্ষা পাস করার পর ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। নিজের গ্রামের স্কুল হওয়ায় অনেক সুবিধা ভোগ করেছি। প্রথম দিন যখন ভর্তি হতে যায় তখন পঞ্চম শ্রেণীর প্রায় সব বন্ধু একসাথে গিয়েছিলাম। আমাদের টার্গেট ছিল নিজের এলাকায় স্কুল আমরা অনেক ভালো ভাবে চলাফেরা করবো। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে আমাদের বই বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা সবাই একসাথে লাইনে দাঁড়িয়ে বই নেয়ার জন্য অপেক্ষা করি। অন্যান্য স্কুল থেকে অনেক পোলাপান আমাদের সাথে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু আমরা লাইনের প্রথমে ছিলাম কারণ সবার বলছি যে তোরা সবাই পিছনে যাবি। আমার যে বন্ধুগুলো ছিল সবাই আমাদের কথামতো চলাফেরা করতো।


1704856580121-01.jpeg


কারণ পঞ্চম শ্রেণীতে আমরা কিছু বন্ধু ক্লাস টপার ছিলাম লেখাপড়াও মোটামুটি একটু ভালো পারতাম। এজন্য সবাই আমাদের কথার বিরুদ্ধে কোন সময় যেত না। বই নেওয়ার পর আমরা সবাই বাসায় চলে আসি। তারপরের দিন ক্লাস শুরু হয় আমার একটা নানা ছিল স্কুলের অংক টিচার। সে প্রথম দিন এসে সবার পরিচয় পর্ব শেষ করতে থাকে। যখন আমার পরিচয় দেওয়ার সময় আসে তখন বলল ও নাতি ছেলে তুমি বস তোমার পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকাকালীন একটা মজার ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আমরা যারা সবাই একসাথে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়েছি তারা একদিকে বসার প্লান করি। অন্য স্কুল থেকে আসা কয়েকজন আমাদের বেঞ্চে বসলে আমার কিছু বন্ধু তাদের মেরে বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে দেয়। ভয়তে তারা কিছু বলতেও পারছে না। আবার শিক্ষকের কাছে বিচার দেবে সেটাও পারছে না। আমার বন্ধু মজনু ও শাহীন তাদের আগেই বলে দিয়েছিল টিচারের কাছে বিচার দিলে তোদের আবার মাইর হবে। তবে আমরা স্কুলে খুবই কম যেতাম। স্কুলে না গিয়ে যখন বৃষ্টি হতো স্কুলের মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলতাম। পরবর্তীতে টিচার জিজ্ঞেস করলে বলতাম স্কুল ভালো লাগেনা। অবশ্য তখন নতুন ভর্তি হয়েছি হয়তোবা সেজন্য আমাদের তেমন কিছু বলতেও পারত না। একদিন স্কুলে এক বন্ধু বাড়ি থেকে অনেকগুলো বাদাম নিয়ে এসেছে। এই বাদাম নিয়ে তুলকালাম সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। কে আগে নিবে সেটা নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে করতে প্রায় সব বাদাম মাটিতে পড়ে যায় এবং আমরা কেউ খেতে পারি না। স্কুলে খেলাধুলা থেকে শুরু করে যত দুষ্টামি সব আমরা একসাথে করতাম। তবে এখন স্কুলের লাইফটা খুব মিস করি। যদি আবার বন্ধুদের সাথে স্কুলে তাদের কাঁধ মিলিয়ে যেতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো হতো।


1704856547606-01.jpeg


ষষ্ঠ শ্রেণীতে যখন পরীক্ষা হয়। আমরা একটা গাইড বই পাশে রেখে দিয়েছিলাম পরবর্তীতে গাইড বই দেখে ইংলিশ সেকেন্ড পেপার সব প্রশ্নের আনসার করি। সবাই একসাথে বসায় তেমন কোনো সন্দেহ করেছিল না স্যার। তবে একটা মজার বিষয় গাইড বই দেখে লিখলেও ফাস্ট হতে পেরেছিলাম না আমাদের মধ্যে কেউই। হয়তো আমাদের চেয়ে কেউ ভালো কিছু লিখেছিল এজন্য আমরা ফার্স্ট হতে পারি নাই। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রাইভেট পড়ে তারপর বাসায় এসে গোসল খাওয়া-দাওয়া করে ব্যাগ কাঁধে সবাই একসাথে শাড়িবদ্ধভাবে স্কুলে যাওয়ার যে একটা ফিলিংস সেটা কোন সময় ভোলার মতো না।


1704877207374-01.jpeg


স্কুলে গিয়ে আমরা অনেক দুষ্টামি করতাম। পিটি প্যারেডের সময় সবাই পিছনে দাঁড়িয়ে পিটি প্যারেড না করে শুধু দুষ্টামি করতাম। বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে আমরা সবাই খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতাম। অবশ্যই শুধু আমি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম আর বাকি সবাই প্রতিটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রায় সবগুলো পুরস্কার আমরাই রেখে দিতাম। ক্রিয়া প্রতিযোগিতার পর যখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো তখন সামনের বেঞ্চগুলোতে আমরা একসাথে বসতাম। যদি সামনের বেঞ্চ গুলোতে অন্য কেউ বসতো তাহলে তাদের উঠিয়ে আমরা নিজেরা বসতাম। কারণ নিজের গ্রামে স্কুল অন্য কেউ তো কিছু বলার সাহস পেত না তখন। এভাবেই দুষ্টামির সাথে সাথে আমাদের ষষ্ঠ শ্রেণীর ক্লাস শেষ করে ফেলি।


1704877225621-01.jpeg


তিনি আমার মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। জনাব আবুল স্যার ছিলেন একজন খুবই দয়ালু এবং সহানুভূতিশীল মানুষ। তিনি সবসময় আমাদেরকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তিনি আমাদেরকে পড়াশোনায় ভাল করতে উৎসাহিত করতেন। তিনি আমাদেরকে সঠিক নৈতিকতাও শিক্ষা দিতেন। এবং ক্লাসের পড়া মুখস্ত করতে নানা কৌশলে মজার ছলে অনুপ্রাণিত করতেন।আবুল স্যারের শিক্ষার কারণে আমি আজ যে মানুষ হয়েছি তার জন্য তার কাছে চির কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে যে সমস্ত মূল্যবোধ শিক্ষা দিয়েছেন, তা আমাকে আজও পথ চলতে সাহায্য করে। আমি তাকে আমার জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মনে করি, এবং মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করি।



আমার পরিচয়

IMG-20240308-WA0014.jpg

আমি মো: রাজু আহমেদ, আমি একজন ছাত্র। আমি বর্তমানে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া করছি। আমি একজন ভ্রমণ প্রিয় মানুষ। প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াতে ভীষণ পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করতে, রান্না করতে, বই পড়তে, কবিতা পড়তে, খেলাধুলা করতে খুবই পছন্দ করি।স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ করতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।


ধন্যবাদ সবাইকে


standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 2 years ago 

স্কুল জীবনের ঘটনা গুলো মনে পড়লে খুবই ভালো লাগে আবার খারাপ লাগে। কেননা অনেকদিন হলো তাদের সাথে দেখা হয়নি সেভাবে সবাই মিলে এ কোথায় অনেক মজা করেছি। আজকে আপনার স্কুল জীবনের ঘটে যাওয়া মজার গল্পটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। সত্যি বলতে গেলে কি প্রতিটি স্কুল এই সবার পছন্দের একজন শিক্ষক থাকে। আপনার কি স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া এরকম মজার একটি গল্প পড়ে খুবই ভালো লাগলো ধন্যবাদ ভাইয়া।

 2 years ago 

আসলেই স্কুল জীবনের বন্ধুদের অনেক মিস করি। তাদের সাথে কাটানো দুষ্টামি প্রতিটা মুহূর্ত আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। দোয়া করি যে যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক সুস্থ থাকুক।

 2 years ago 

আসলে সত্যি বলতে ক্লাস ফোর ফাইভ এ আমিও ক্লাস টোপার ছিলাম 🤭 আর আপনার মত আমার উপরেও কেউ কথা বলার তেমন একটা সাহস পেত না। আপনি পোষ্টের মাধ্যমে আপনার ছোটবেলার কিছু দুষ্টামির মুহূর্ত গুলো শেয়ার করেছেন যেগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো, এই ধরনের স্মৃতি পড়তে , পড়তে ছোটবেলায় যেন হারিয়ে যায় 🙂

 2 years ago 

আমিও যখন পোস্টটা লিখতে ছিলাম তখন মনটা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কারণ পুরনো স্মৃতি মনে পড়াতে সবার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে পড়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মতামত প্রকাশ করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 63535.81
ETH 1711.19
USDT 1.00
SBD 0.42