কিছু পাওয়ার আশায়।
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@md-razu বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ -০৪ ঠা,পৌষ | ১৪৩০বঙ্গাব্দ |মঙ্গলবার | শীতকাল|
আমি রাজু আহমেদ।আমার ইউজার নাম @md-razu।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে অভিনন্দন।
তাহলে চলুন শুরু করি
আজ আপনাদের মাঝে একটা বাস্তব কাহিনী শেয়ার করতে যাচ্ছি। ।আশাকরি আমার লেখা কাহিনীটা আপনাদের ভালো লাগবে।আবার পার্থক্য কি, আমরা সবাই মানুষ। তাহলে তারা কারা, কেন তাদের জীবন লুটপাট হয় রাস্তায় বা পাড়ার গলিতে।কেন তারা একবেলা খাবার পায় না! শীতের তীব্রতায় যন্ত্রণায় তারা কাঁদে কেন?এইসব বিবেকহীন লোকদের বল না আমাকে ভাত বা শীতের কাপড় দিতে।কেন তারা রেললাইনের একটি পরিত্যক্ত খামারে বসবাস করেও, আবর্জনার স্তূপ বা নালা থেকে সংগ্রহ করা খাবার খেয়ে তারা যে সুখের হাসি দেয় তা বড় লোকের খাবারের সমৃদ্ধ খাবার এবং বিলাসবহুল আরামের স্বার্থপর হাসির চেয়ে নিকৃষ্ট? .
কুষ্টিয়ার এক বস্তিতে ওমর আর ওমরের মা বাস করে একটা ছোট ঘরে। বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওমরের মনটা তেমন ভালো নেই । বৃষ্টির দিনে তার পুরানো স্মৃতি বেশি মনে পড়ে । ওমর বাহিরে যেতে পারছে না । কারণ , সে অসুস্থ । পেট ভরে খাবার সে অনেকদিন খায়নি ।ওমরের মা মানুষের বাসায় কাজ করে । আর ওমরের বাবা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে । ডাক্তার ওমরকে ঔষুধ খেতে বলেছে । কিন্তু তাদের ঔষধ কেনার জন্য কোন টাকা ছিল না । ওমরেট মা রাতে বাসায় ফিরে । সকালে রান্না করে ওমরের মা তার জন্য খাবার রেখে যায় । রাতে তার মা বাসায় ফিরলে একসাথে তারা ভাত খায়।
ওমর একদিন তার মাকে বললো মা আমার যে বিছানায় শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না । আমাকে ঔষুধ কিনে দিবি না ? ওর মা অনেক কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে তার জন্য ঔষুধ কিনে আনলো । ঔষুধ খেয়ে ওমর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে গেল । একদিন রাতে ওমর তার মা বাসায় আসার পর লক্ষ্য করলো তার মায়ের হাতে পোড়া দাগ । দাগ দেখে ও জিজ্ঞেস করলো মা তোর হাতে কি হয়েছে ? ওর মা বললো কই কিছু হয়নিতো । ওমরের মা তাকে কিছু বলতে চাইছিলো না । ও বললো মা তোকে বলতেই হবে ।
ও লক্ষ্য করলো মায়ের দুই চোখে পানি টলটল করছে । চোখ মুছতে মুছতে বললো যেই ম্যাডামের বাসায় আমি কাজ করি , তাকে না বলে আমি তার বাসা থেকে এক মুঠো ভাত আর এক টুকরা মাংস নিয়েছিলাম । কিন্তু বাড়ির ম্যাডাম এটা দেখে ফেলে । ম্যাডাম আমাকে অনেক মেরেছে । তিনি আমারে গরম খুন্তি দিয়ে মেরে কাজ থেকে বের করে দিয়েছে ।
মা তুই কেন ওদের খাবার আমার জন্য আনতে গিয়েছিলি । ওমরের মা বললো আমি তো আজকে তোর জন্য খাবার রান্না করে যাইনি । ভেবেছিলাম তুই সারা দিন না খেয়ে থাকবি কী করে । মা আমি কি একদিন না খেয়ে থাকলে মরে যেতাম । মা তোর অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না । মা তুই চিন্তা করিস না আমি তোকে ভালো খাবার এনে দিবো । দেখিস মা একদিন আমি অনেক বড় হবো । আমার কাজ তো চলে গেল এখন আমরা কী করে বাঁচবোরে ওমর । তুই তো ছোট তুই আর কি করতে পারবি । আর আমার হাতটাও তো পুড়ে গেছে । আচ্ছা মা কালকে আমি ডাক্তারের কাছ থেকে তোকে ঔষুধ এনে দিবো । তুই কিভাবে এনে দিবি ? আমি ডাক্তার বাবুকে অনুরোধ করলে তিনি ঔষুধ দিতেও পারেন । এভাবে মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে ওমরে রাতে ঘুমিয়ে গেলো।
ধন্যবাদ সবাইকে
>>>>>|| এখানে ক্লিক করেন ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<
💞 আল্লাহ হাফেজ 💞
VOTE @bangla.witness as witness

OR
Posted using SteemPro Mobile
তাহলে চলুন শুরু করি
আজ আপনাদের মাঝে একটা বাস্তব কাহিনী শেয়ার করতে যাচ্ছি। ।আশাকরি আমার লেখা কাহিনীটা আপনাদের ভালো লাগবে।আবার পার্থক্য কি, আমরা সবাই মানুষ। তাহলে তারা কারা, কেন তাদের জীবন লুটপাট হয় রাস্তায় বা পাড়ার গলিতে।কেন তারা একবেলা খাবার পায় না! শীতের তীব্রতায় যন্ত্রণায় তারা কাঁদে কেন?এইসব বিবেকহীন লোকদের বল না আমাকে ভাত বা শীতের কাপড় দিতে।কেন তারা রেললাইনের একটি পরিত্যক্ত খামারে বসবাস করেও, আবর্জনার স্তূপ বা নালা থেকে সংগ্রহ করা খাবার খেয়ে তারা যে সুখের হাসি দেয় তা বড় লোকের খাবারের সমৃদ্ধ খাবার এবং বিলাসবহুল আরামের স্বার্থপর হাসির চেয়ে নিকৃষ্ট? .
কুষ্টিয়ার এক বস্তিতে ওমর আর ওমরের মা বাস করে একটা ছোট ঘরে। বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওমরের মনটা তেমন ভালো নেই । বৃষ্টির দিনে তার পুরানো স্মৃতি বেশি মনে পড়ে । ওমর বাহিরে যেতে পারছে না । কারণ , সে অসুস্থ । পেট ভরে খাবার সে অনেকদিন খায়নি ।ওমরের মা মানুষের বাসায় কাজ করে । আর ওমরের বাবা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে । ডাক্তার ওমরকে ঔষুধ খেতে বলেছে । কিন্তু তাদের ঔষধ কেনার জন্য কোন টাকা ছিল না । ওমরেট মা রাতে বাসায় ফিরে । সকালে রান্না করে ওমরের মা তার জন্য খাবার রেখে যায় । রাতে তার মা বাসায় ফিরলে একসাথে তারা ভাত খায়।
ওমর একদিন তার মাকে বললো মা আমার যে বিছানায় শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না । আমাকে ঔষুধ কিনে দিবি না ? ওর মা অনেক কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে তার জন্য ঔষুধ কিনে আনলো । ঔষুধ খেয়ে ওমর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে গেল । একদিন রাতে ওমর তার মা বাসায় আসার পর লক্ষ্য করলো তার মায়ের হাতে পোড়া দাগ । দাগ দেখে ও জিজ্ঞেস করলো মা তোর হাতে কি হয়েছে ? ওর মা বললো কই কিছু হয়নিতো । ওমরের মা তাকে কিছু বলতে চাইছিলো না । ও বললো মা তোকে বলতেই হবে ।
ও লক্ষ্য করলো মায়ের দুই চোখে পানি টলটল করছে । চোখ মুছতে মুছতে বললো যেই ম্যাডামের বাসায় আমি কাজ করি , তাকে না বলে আমি তার বাসা থেকে এক মুঠো ভাত আর এক টুকরা মাংস নিয়েছিলাম । কিন্তু বাড়ির ম্যাডাম এটা দেখে ফেলে । ম্যাডাম আমাকে অনেক মেরেছে । তিনি আমারে গরম খুন্তি দিয়ে মেরে কাজ থেকে বের করে দিয়েছে ।
মা তুই কেন ওদের খাবার আমার জন্য আনতে গিয়েছিলি । ওমরের মা বললো আমি তো আজকে তোর জন্য খাবার রান্না করে যাইনি । ভেবেছিলাম তুই সারা দিন না খেয়ে থাকবি কী করে । মা আমি কি একদিন না খেয়ে থাকলে মরে যেতাম । মা তোর অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না । মা তুই চিন্তা করিস না আমি তোকে ভালো খাবার এনে দিবো । দেখিস মা একদিন আমি অনেক বড় হবো । আমার কাজ তো চলে গেল এখন আমরা কী করে বাঁচবোরে ওমর । তুই তো ছোট তুই আর কি করতে পারবি । আর আমার হাতটাও তো পুড়ে গেছে । আচ্ছা মা কালকে আমি ডাক্তারের কাছ থেকে তোকে ঔষুধ এনে দিবো । তুই কিভাবে এনে দিবি ? আমি ডাক্তার বাবুকে অনুরোধ করলে তিনি ঔষুধ দিতেও পারেন । এভাবে মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে ওমরে রাতে ঘুমিয়ে গেলো।
ধন্যবাদ সবাইকে
VOTE @bangla.witness as witness OR
আজকের ঘটনাটা পড়ে খুবই খারাপ লাগছে।আসলে আমাদের সমাজে এগুলো অহরহ ঘটছে।এরকম কত ওমর আছে আর ওমরের মায়ের মত কত অভাগী আছে যারা সন্তানের জন্য লড়াই করে যায়।বাস্তব গল্পটা মন ছুঁয়ে গেল।
ওমর ও ওমরের মায়ের কষ্টের কাহিনি পড়ে খুব খারাপ লাগছে।আসলে মানুষ কতোটা নির্দয়ভাবে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দিয়েছে। মানুষ যখন কোনকিছু চেয়ে পায় না তখন চুরি করে বাধ্য হয় কোন কোন ক্ষেত্রে।পোষ্ট টি সত্যি বেদনাদায়ক। ধন্যবাদ ভাইয়া সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লিখে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ঘটনাটি পরে খুব কষ্ট লাগলো। মা তার সন্তানের জন্য কত কিছুই না করে। বর্তমান সমাজে আমাদের নিজেদের মানসিকতার সুস্থ পরিবর্তন দরকার।
সত্যিই খুব খারাপ লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে। আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অহরহই হচ্ছে।ওমর আর ওমরের মায়ের বাস্তব এই ঘটনাটি পড়ে খুব খারাপ লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে বাস্তব ঘটনা সমৃদ্ধ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে খুব খারাপ লাগলো। এভাবে কতশত ওমর রাতে শুয়ে মায়ের সাথে সুখ দুঃখ কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে তা আমরা কেউ জানি না। মানুষ কেন এত অসহায়, তাদের এই কষ্ট দেখলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা দেখে কষ্ট পাবে আর বড় লোকরা তা উপভোগ করবে। ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।