মাকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেরাই সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম | ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁককের জন্য

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

আসসালামু আলাইকুম!
আমি ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে @kawsar


আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন, আর আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আপনাদের সুস্থতা কামনা করে আরো একটি পোস্ট নিয়ে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। তবে আজকে আমি একটু ভিন্নধর্মী একটি পোষ্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করব। তবে আমি আশা করি যে আমার এই পোস্টটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। তো চলুন আর কথা না বলে আমার পোস্টটি শুরু করি।


20210519_160406.jpg


আমাদের সবার জীবনেই অনেক ঘটনা থাকে যেগুলো আমাদের সাথে ঘটে থাকে কিছু থাকে। কষ্টের, আবার কিছু থাকে অনেক খুশি, আবার কিছু থাকে অনেক আবেগপ্রবন। তেমনি একটি আমার জীবনের ঘটনা আছে এই ঘটনাটা আসলে আমার কাছে অনেক খুবই ভাল লেগেছে। যদিও এই ঘটনায় আমার অনেক কষ্টের সময় আছে। কিন্তু তবুও আমি এই দিনটিকে খুবই উপভোগ করেছিলাম। কেননা আমরা যখনই আপনজনদের কাছে যাওয়ার জন্য রেডি হই তখন কিন্তু আমাদের খুবই ভালো লাগে। তখন আমাদের রাস্তায় যতই কষ্ট হোক না কেন তবু আমরা সেই সময়টাকে অনেক বেশি উপভোগ করি। সে জার্নি টা যদি হয় সন্তান, মা, বাবা, ভাই বোন এবং স্ত্রীর কাছে তাহলে কিন্তু সেটা আরো বেশি ভালো লাগে।


যদিও আমি এখন চাকরিজীবী নয়। কিন্তু আমি ২০২১ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবী ছিলাম। ২০১৯ সালে এই ঘটনা। যখন আমি চাকরি করতাম তখন আমার ফ্যামিলি আমার বাড়িতে ছিলো আমার মা-বাবার সাথেই আমার ছেলে এবং স্ত্রী থাকতো। তো আমি তখন একটি ম্যাচে থাকতাম সে সেখানে সেই ব্যাচেলার বাসায় আমার ছোট ভাই এবং আমি একই সাথে থাকতাম। তো আমরা যদি কখনো বাড়ি যেতাম তখন একই সাথে যেতাম, আবার বাড়ি থেকে আসলে একই সাথে অনেক সময় আসা হত।


20200926_115036.jpg


হঠাৎ একদিন আমি অফিস থেকে এসে দেখলাম যে আমার ছোট ভাই তার ব্যাগ গোছাচ্ছে যে বাড়ি যাবে। তো আমাকে বলছে যে বাড়ি যাবা, আমি বাড়িতে যাবা। তো আমি অবাক হলাম যে সে এখন কেন বাড়ি যাবে? কারণ তখন ঈদ, কোরবানি কিছুই ছিল না।তো তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম যে কেন বাড়ি যাবা আর সে তো অনেক মজার মানুষ মজা করতে পারে। সে জন্যই আমি তাকে বললাম যে মজা করছ না তো, বাড়ি যাবা কেন কিন্তু সে খুবই সিরিয়াস ভাবে বলল চলো বাড়ি যাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে এই হাফ মাসে তুমি টাকা পাবা কোথায়। আর বাড়ি যাবা কি দিয়ে। আমার রাখা কিছু টাকা ছিল, সেটা দেখে ফেলেছিল আর তখন বলেছিল যে ওইখানে যে টাকা আছে সেই টাকা দিয়েই আমরা বাড়ি যাবো। আমরা আসলে ২ ভাই আমি বড় এবং আমার ভাই ছোট।


তাই সে যখন বললো তার কথা আমি ফেলতে পারলাম না। বললাম আচ্ছা যাও, কিন্তু আমি যেতে চেয়েছিলাম না। আবার ভাবলাম আমরা যেহেতু দুই ভাই ঢাকায় থাকি। যদি কোন একজন বাড়িতে যাই তাহলে মা অনেক কষ্ট পায়, আর যদি আমরা দুজন একসাথে যেতাম তাহলে মা খুবই খুশি হতো। সেই জন্যই আমি ভাবলাম যে আমিও যাই। এই জন্যই আমরা বাসা থেকে রাত আটটার সময় রওনা দিলাম। আমরা যেহেতু উত্তরা থাকতাম তাই রাত আটটার সময় রওনা দিয়ে তো সদরঘাটে কখনোই যেতে পারবো না। আর যেতে পারলেও লঞ্চ পাবো না। সেজন্যই আমরা লঞ্চের চিন্তা না করে আমরা মাওয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য রহনা দিলাম।


20210519_162451.jpg


এরপর বাসা থেকে আমরা প্রায় আটটার সময় যেহেতু রওনা দিয়েছি। আমাদের মাওয়া পৌঁছাতে অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল। কারণ ঢাকায় যে জ্যাম থাকে সেটা তো আমরা সবাই কমবেশি জানি। তো আমাদের প্রায় ১১ টার সময় মাওয়া পৌঁছাই। আর সেখানে গিয়ে তো লাস্ট একটা ফেরি ছিল। শেষ ফেরি তাই অনেক ভিড় ছিল। আমরা যে উঠে কোথাও বসে থাকবো এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না। সেজন্য ফেরিতে সেই জন্য আমরা বাসের ছাদে বসে ছিলাম।


আমরা যেই বাসের ছাদে উঠে ছিলাম সেখানে আমরা দুই ঘণ্টা অবস্থান করার পরে জানতে পেরেছিলাম -যে আজকে আর ফেরি ছাড়বে না। কেননা নদীতে অনেক কুয়াশা ছিল যে কারণে ফেরি চলতে পারবে না। তো এরপর আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। আমরা সেখান থেকে নেমে নিচে নেমে আসলাম এবং আমরা বিভিন্ন মাছের দোকানে হাঁটাচলা করলাম এবং আমরা কয়েকবারই ইলিশ মাছ খেলাম। সবাই তো জানেন যে মাওয়া ঘাটে ইলিশ মাছ থাকে, সেটা খুবই খেতে সুস্বাদু হয়। সেটাই আমরা কয়েকবার খেলাম। আর এভাবেই রাতটা পাড় করে দিলাম।


20210519_160354.jpg

20200814_174723.jpg


এর পরে সকাল যখন ৭:৩০ বাজে তখন আমরা একটি লঞ্চে করে ওপারে গেলাম। আসলে আমরা বাড়িতে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলাম। আমরা কিন্তু বাড়িতে জানাইনি যে আমরা বাড়িতে যাব। তা আসলে আমরা নিজেরাই সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম কেনোনা আমরা রাত এগারোটার সময় মাওয়া ঘাটে এসে পরেদিন সকাল ৭ঃ৩০ পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। রাতটা আমাদের কেমন কেটেছে সেটা আসলে আমরাই জানি।আমরা দীর্ঘ আট ঘন্টা মাওয়া ঘাটে ছিলাম। আসলে এই সময়টা খুবই কষ্টের ছিল। এরপরে আমরা পরের দিন ৭:৩০ এ যখন লঞ্চ করে ওপরে গেলাম তখন ও আমাদেরকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। আজ আর সেগুলো শেয়ার করব না। তাহলে পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাবে। আগামীকালকে আমি এর পরবর্তী পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। আশা করি সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন ভালো থাকবেন।


আজ এ পর্যন্তই সকলের সুস্থতা কামনা করে এখানেই শেষ করছি।


ফটোগ্রাফার@kawsar
ডিভাইসস্যামসাং এ১০
অবস্থানhttps://w3w.co/irony.watch.shopping



image.png


ধন্যবাদ সবাইকে পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।
@kawsar

Sort:  

আপনার ভাগ্য খুবই খারাপ রে ভাই। এ জন্য আগেই সব কিছু যেনে শুনে যাওয়া উচিত।

ভাবিয়া করি ও কাজ করিয়া ভাবিও না।

 4 years ago 

জি ভাই ঠিক বলেছেন

 4 years ago 

অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বেশ ভালো ছিল । ভালো লেগেছে মুহূর্তটা আমার । শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য ।

 4 years ago 

খুবই ভালো লাগলো ভাই। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার জন্য ও শুভকামনা রইল ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64684.13
ETH 1913.44
USDT 1.00
SBD 0.37