দিনে দিনে কমে যাচ্ছে মানুষের মূল্যবোধ। বাড়ছে হানাহানি। জেনারেল রাইটিং।
দিনে দিনে কমে যাচ্ছে মানুষের মূল্যবোধ। বাড়ছে হানাহানি।
মানুষের মানসিকতা ধীরে ধীরে তলানিতে চলে যাচ্ছে এবং আজকাল মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেড়ে চলেছে, এটি একটি গভীর চিন্তার বিষয়। সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মানবসমাজের মানসিক পরিবর্তন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মানুষ যতই সভ্যতা অর্জন করছে, ততই তার মানসিকতার মধ্যে এক অদ্ভুত অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সমাজের কল্যাণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বর্তমানে মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সমাজে সহিংসতার দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলিতে সহিংসতা, অপরাধ এবং নিষ্ঠুরতা নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা হচ্ছে। এর ফলে মানুষ এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়, যা তাদের মানসিকতা প্রভাবিত করে। অনেকে এসব সহিংসতাকে "রোমাঞ্চকর" কিংবা "মজাদার" বলে মনে করতে শুরু করে, যা এক ধরনের মানসিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও এই হিংস্রতা বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করছে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। পরিবারে একে অপরের প্রতি আগ্রহ এবং সহানুভূতির অভাব দেখা যাচ্ছে। এই মানসিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে একে অপরের প্রতি সহিংসতা ও হিংস্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক চাপ এবং জীবনের প্রতি হতাশা মানুষকে অস্থির করে তুলছে। দিন দিন মানুষের জীবনযাত্রার মান কমছে এবং অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়, যা কখনো কখনো সহিংসতার রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে, সামাজিক অবিচার, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারও মানুষকে ক্রমশ হিংস্র করে তুলছে। বিশেষ করে যখন তারা মনে করে যে তাদের অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে, তখন তারা নিজেকে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
মানুষের মানসিকতার এই অবক্ষয়কে সামাল দিতে হলে আমাদের সমাজের ভিতরে গভীর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শিক্ষার মাধ্যমে, মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবং সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে আমরা মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারি। হিংস্রতার বদলে শান্তি এবং সহমর্মিতা আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত।
এছাড়া, সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচিত মানুষের জন্য নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ খোলামেলা এবং সহায়ক মনোভাবের সাথে একে অপরের পাশে থাকতে পারে। সর্বোপরি, আমাদের নিজেদের আচরণ এবং মনোভাবের প্রতি সচেতন হতে হবে, কারণ আমাদের ছোট্ট পরিবর্তনই বৃহৎ সমাজ পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে।
আসলে মানুষ দিনে দিনে যত শিক্ষিত হচ্ছে তত যেন তার মধ্যে অশিক্ষার পরিমাণও বাড়তে থাকছে। নিজেকে একাকিত্বে বেঁধে নেওয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস থেকে মানুষ যত তাড়াতাড়ি না বেরিয়ে আসবে তত সমাজের অবক্ষয় আরো মানব জীবনকে গ্রাস করে নেবে। আমরা আসলে এক ভয়ংকর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। যে সময়ে আমরা নিজেরাই নিজেকে চিনতে পারিনা। মানুষে মানুষে হানাহানি বন্ধ না হলে আমরা খুব তাড়াতাড়ি অবক্ষয়ের একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাব।
এই সমস্ত বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা আবার মানবিক সমাজে ফিরতে পারি, যেখানে হিংসা এবং অস্থিরতা কমবে এবং মানুষের মানসিকতা উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
🙏 ধন্যবাদ 🙏
(১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
https://x.com/KausikChak1234/status/1906352175225376833?t=gh5GpglJ-6f1_7gmO3F7KQ&s=19
https://x.com/KausikChak1234/status/1906317815545807294?t=NGonqq1PpjFOMyWx5XCyng&s=19
https://x.com/KausikChak1234/status/1906319552373473541?t=ye5bRbzetosmoex_3FBpcA&s=19
https://x.com/KausikChak1234/status/1906319853667184798?t=6RDralJO5XpPUWDnmtvk-g&s=19