আজকের কবিতার পাতা। কবিতার নাম - নদীটির মানে।
আজকের কবিতার পাতা
🙏 সকলকে স্বাগত জানাই 🙏
আজ আবার আপনাদের সামনে একটি কবিতা নিয়ে এলাম। কবিতাটির মূল বক্তব্য হল জীবনের মানে খুঁজে বার করা। আসলে জীবনের মানে খুঁজতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক পথ হাঁটতে হয়। মাঝে মাঝে আমরা তাও সঠিক গন্তব্য খুঁজে পাই না। কিন্তু জীবনে চলবার পথে প্রতিনিয়ত আমরা খুঁজে বের করতে চাই সেই জীবনের লক্ষ্যবস্তটুকু। আমরা আসলে কিসের উদ্দেশ্যে ছুটে বেড়াচ্ছি? কোন পথে চললে আমরা সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব? যেন সারা জীবনে তা ঠিক করে উঠতে পারিনা আমরা। এই কবিতাটিতে একটি গন্তব্যের কথা বলা হয়েছে। আগাগোড়া রূপকের আড়ালে মুড়ে পরিবেশন করবার চেষ্টা করেছি কবিতাটিতে। বাকিটা আপনাদের ভালোলাগার উপর নির্ভরশীল।
কবিতাটি একটি ছন্দ কবিতা। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এখানে মূলত ৪+৪+৪+২ ছন্দ নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্রাবৃত্ত এমন একটি ছন্দ যেখানে দল অনুপাতে ছন্দের মাত্রা পরিবর্তন হয়। সেক্ষেত্রে মুক্তদল এবং রুদ্ধদল ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় গোনা হয়ে থাকে। মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে শ্রদ্ধেয় প্রবোধ চন্দ্র সেন কলাবৃত্ত ছন্দ হিসেবে উল্লেখ করে গেছেন। এখন আসুন কবিতাটি পড়ানো যাক। কবিতাটি সার্বিকভাবে কেমন লাগলো নিশ্চয়ই মন্তব্য করে জানাবেন।
💐 কবিতা 💐
নদীটির মানে
কৌশিক চক্রবর্ত্তী
ঝলসিয়ে নাও তুমি নিজেকে কখনো
কারণ হিসাবে তবু দেখিওনা ঠোঁট
যদি আলো এসে পড়ে সোজা বাম বুকে
ওড়নার আশপাশে খুঁজো আরও চোট
আঘাত ফেরালে শুধু নদীপথ বেঁকে
জোয়ার ভাঁটিতে তাও নড়েনা সময়
শেষ নৌকায় তুমি তাড়াহুড়ো করে
খুঁজেছ নদীর নাম, বাকি কিছু নয়
পাটাতনে শুয়ে একা আকাশে তাকিয়ে
আপডেট করো শুধু বিপথের ডানা
যদি কেউ দিতে চায় আরও আলোবাতি
তার হাতে তুলে দিও পুরনো ঠিকানা
ভেসে থাকা সোজা নয়, সেও তুমি জানো
যতই চোখের পাশে হাঁটুক মিছিল
ঝাণ্ডা দুহাতে ধরা, পাশে নদীখাত
খুঁজেছে লুকিয়ে থাকা সঠিক কাতিল
ঝলসিয়ে নাও তবু দুচোখের পাতা
কখনও ভাঁটির জল আসেনি সেখানে
যদি শুধু পাড় খোঁজে জোয়ারের টান
চশমায় লিখে নিও নদীটির মানে।
🙏 ধন্যবাদ 🙏
(১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁক ও ৫% এবিবি চ্যারিটিকে প্রদত্ত)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
https://x.com/KausikChak1234/status/1897186323649454536?t=JE2D3-ncW5wf5d4BME5W5A&s=19
Daily tasks-
খুবই সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। এত সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
অন্তমিলের কবিতা অনেকেই লেখে কিন্তু সঠিক ছন্দ কবিতা কজন লেখে আজকালকার দিনে তা হাতে গুনে বলা যায়। আর তুমি যে সেই ছন্দ কবিতায় এত সাবলীল সে কথা বহুদিন থেকেই জানি। আর তোমার হাতে আধুনিক কবিতা অথচ ছন্দে লেখা কবিতা এত সুন্দর খোলে কি আর বলব নতুন করে। এই কবিতাটিও যথারীতি ভীষণ সুন্দর হয়েছে।