"পিতা বনাম পূত্রগং"পর্বঃ-৪০//নাটক রিভিউ
আজ - ২৫ ভাদ্র| ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | শনিবার | শরৎকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- নাটক রিভিউ (পিতা বনাম পূত্রগং--৪০)
- আজ ২৫শ ভাদ্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
- শনিবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ দুপুর সবাইকে......!!
ছবিঃ- ইউটিউব থেকে স্কিনশট নেওয়া।
নাটকের কিছু তথ্য
| নাম | পিতা বনাম পূত্রগং । |
|---|---|
| পরিচালনা | সকাল আহমেদ। |
| প্রযোজক | কাজী রিটন |
| রচনা | বৃন্দাবন দাশ |
| গল্প | রমজান আলী |
| আবহ সংগীত | অধ্যায়ন ধাড়া (কলকাতা)মেহেদি হাসান তামজিদ |
| চিত্রনাট্য | শামসুল আলম লেলিন। |
| অভিনয়ে | মাসুম বাসার,আজিজুল হক,নাদিয়া আহমেদ,শাহনাজ খুশি,প্রাণ রায়,আরফান আহম্মেদ,মৌসুমি হামিদ,শিরিন আলম,ইকবাল হোসেন,আশরাফুল আর্শিষ,শেলি আহসান,সৌম,সেতু,তৌহিদুল ইসলাম তায়েব এবং চঞ্চল চৌধুরী,সহ আরও অনেকে । |
| দৈর্ঘ্য | ২০ মিনিট ০১সেকেন্ড |
| পরিবেশনায় | Maasranga TV Official |
| মুক্তির তারিখ | ২৬শ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং |
| ধরন | সামাজিক,বাংলা ড্রামা সিরিয়াল |
| পর্ব | ৪০ |
| ভাষা | বাংলা। |
| দেশ | বাংলাদেশ |
নাটকের সংক্ষিপ্ত কাহিনীঃ-
আপনারা সকলেই ইতিপূর্বে জানেন যে বাসার সাহেবের দুই ছেলের মাঝে নাদিয়াকে নিয়ে বরাবরই অনেক বেশি মারামারি তর্ক-বিতর্ক কথা কাটাকাটি চলছে। চঞ্চল চৌধুরী এবং আরফানের মাঝে নাদিয়াকে নিয়ে বরাবরই মারামারি চলে এ ব্যাপারটা আমরা অনেক আগে থেকেই জানি। কিন্তু আরফান না দিয়ে কি অনেক বেশি ভালোবাসে যার কারণে আরফান কবিরাজের কাছে গিয়ে কিছু মন্ত্র শিখে আসে মূলত সে তাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করার একটা চিন্তায় থাকে এবং সে সেটা করেও। এর পরের অংশ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে আরফান নাদিয়ার বাসার সামনে গিয়ে কিছু তাবিজ ছিটিয়ে দেয় এবং কিছু একটা বলে যার কারণে নাদিয়া রুম থেকে বের হয়ে এসে আরফানকে জড়িয়ে ধরে। এবং তাকে বলে যে তার ভাই চঞ্চল চৌধুরীর জন্য তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে এরকম কিছু একটা বলার পরে তারা দুজন বলে আমরা দুজন দুজনার আমাদের কেউ কখনো আলাদা করতে পারবে না।
এখানে এসে আরফানের মন্ত্র পড়া থেকে শুরু করে নাদিয়ার এখানে আসা পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটা আমি দু-তিনবার দেখেছি প্রত্যেকবারই এত হাসি পেয়েছে যে বলে বোঝাতে পারবো না আপনাদের। মূলত আরফান নাটকটাকে অনেক বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে তার অভিনয়ের মাধ্যমে এই ব্যাপারটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। শেষ পর্যায়ে এসে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে আরফান ঘুমের ঘরে স্বপ্ন দেখছে হাহাহা। সে পুরো ব্যাপারটাই ঘুমের ঘরে স্বপ্নতে কল্পনা করেছে এটা দেখে আমি রীতিমতো হতাশ হয়েছি আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তোবা বাস্তব।
এর পরের অংশ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেব সেজো ছেলে অর্থাৎ আরফান ঘুম থেকে উঠে তার ভাইদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে কিন্তু তার ভাইয়েরা তার এ ব্যাপারে কোনরকম পাত্তা দেয় না যার কারণে সে ভাইদের সাথে রাগারাগি করে। এর পরের অংশ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে চঞ্চল চৌধুরী এক নতুন অজানা ক্যারেক্টারের সঙ্গে কথা বলে এবং কেউ তাকে বলে যে তার ঘর বিপদ এবং সে একথা শুনে তার কাছে চলে যায়। আরেকটা অংশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী কে কারা যেন অপহরণ করছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাদের কাছে অনেক রকম ভাবেই হাত জোড় করছে এবং ক্ষমা চাইছে কিন্তু কেউ তার কথা শুনছে না তাকে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর লক্ষ করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্ন দেখছে এবং সে তার সন্তানের কাছে গিয়ে তার সন্তানের খোঁজ খবর নেই।
এর পরের অংশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেবের ছোট সন্তানের প্রেমিকা যে কিনা তাকে একটা সময় অনেক বেশি ভালবাসলে এখন তাকে দূরে ঠেলে দিতে চায় সেই মেয়েটা শাহনাজ খুশির ভাইয়ের খোঁজ করতে তার বাসায় আসে। তার বাসায় এসে শাহনাজ খুশির সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায় এবং সাহানাজ খুশি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে তাকে বলে যে আমি তার ভাইকে জন্য পোস্ট করছি সেজন্য বাসার সাহেবের ছোট সন্তানকে একটু বোঝায় সে যেন কোন উল্টাপাল্টা কাজ না করে। এ কথা বলতে বলতে সে কান্না জুড়ে দেয় তার কান্না দেখে শাহনাজ খুশি তাকে শান্ত করে।
সত্যি বলতে আমরা যাদেরকে ভালোবাসি আমরা কখনোই চাই না সেই মানুষটা কষ্টে বা দুঃখে থাকুক। তার জন্য কোনরকম কষ্ট না হয় বা সে নিজের কোন ক্ষতি না করে সেজন্য বরাবরই আমরা সেটা চাই যার কারণেই সেই মেয়েটা শাহনাজ খুশির ভাইকে খোঁজাখুঁজি করছে যাতে করে শাহনাজ খুশির ভাই তাকে একটু বোঝায়। এই ব্যাপারটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আসলে প্রিয় মানুষ কতটা কেয়ারিং হয় এই দৃশ্যটা লক্ষ্য করলে বোঝা যায়।
এর পরের অংশে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বাসার সাহেবের সন্তানেরা তাদের রুমে বসে একে অপরের সঙ্গে কথা বলছি। বাসার সাহেবের মেজো ছেলে বরাবরই একটা বাসার সাহেবের মেজো ছেলে বরাবরই একটা বাইক কেনার চিন্তাভাবনা করছে আর এই ব্যাপারটা নিয়ে তার ভাইয়েরা তার সঙ্গে অনেক রকম ভাবেই মজা নাই। যাইহোক তারা বরাবরি অনেক বেশি দুঃখের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে কারণ তারা সকলের মনের দুঃখ একটাই তারা বিয়ে করতে চায় কিন্তু তার বাবা তাদেরকে বিয়ে দিতে চায় না কোন ভাবে। আর এ ব্যাপারটা নিয়েই তারা বরাবরই ভাই ব্রাদার একত্রে বসে নানা রকম পরামর্শ করে কিন্তু তাদের পরামর্শে কোনো রকম কাজ হয় না।
এটাই ছিল আমার আজকের পিতা বনাম পুত্রগং নাটকের ৪০ তম পর্বের রিভিউ। আশা করছি এই রিভিউ আপনাদের সকলের কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে যদিও আজকে রিভিউ এর মধ্যে তেমন কোন কিছু ছিল না তবে দৃশ্যটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। যাইহোক আজ আর নয় এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে....!!!
শিক্ষণীয় দিক-
পিতা বনাম পুত্রগণ নাটকটি মূলত একদম বাস্তবতা অবলম্বনে নির্মিত করা হয়েছে। অনেক আগে গ্রাম অঞ্চলের লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে পিতা মাতারা তাদের সন্তানদেরকে বিয়ে দিতে মোটেও চাইত না। মূলত তারা বিয়ে দিতে চাইতো না কারণ তারা ভাবতে হয়তো অন্য ঘরের মেয়েরা সংসারে আসলে তারা সংসারটা নষ্ট করে দেবে বা তাদের ছেলেরা তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু ছেলেদেরকে বিয়ে না দিলে তারা যে কতটা উতোলা হয়ে পড়ে সেটা এই নাটকটা দেখলে বোঝা যায়। নাটকের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বিয়ে করার জন্য বাসার সাহেবের পাঁচ সন্তান খুবই উৎফুল্ল কিন্তু বাসার সাথে তাদেরকে বিয়ে দিচ্ছে না। মূলত এই নাটকের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, সন্তানদেরকে পর্যাপ্ত বয়সে বিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
ব্যক্তিগত মতামত-
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই সকাল আহমেদ স্যারকে এত সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। পিতা বনাম পুত্রবাগ নাটকের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি এবং শিখছি। আমার মনে হয় এটা একটা বাস্তবধর্মী নাটক যেটা কিনা বর্তমান সময়ের সঙ্গেও কিছুটা মিল রয়েছে। বর্তমান সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা কিনা সন্তানদেরকে দিয়ে দেয় না কিন্তু তার সন্তানেরা বাবা মার কাছে বলতেও পারে না যে তারা বিয়ে করবে। এটাই মূলত নাটকের মূল বিষয়বস্তু। আমি মনে করি এই নাটকটি সকল পিতা-মাতার দেখা উচিত এতে করে তারা এই নাটকের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবে।
ব্যক্তিগত রেটিং-
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্ট খুবই ভালো লেগেছে। আমার এই পোস্ট পরে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে আশা রাখি। আপনার সুন্দর মন্তব্যই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা
| বিভাগ | নাটক রিভিউ |
|---|---|
| বিষয় | পিতা বনাম পূত্রগং (৪০ তম পর্ব) |
| রিভিউ এর কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | [সংযুক্তি]source |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
বেশ সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করেছেন ভাইয়া। যদিও নাটকটি আমি দেখিনি। তবে আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম নাটকটি বেশ মজার। সময় পেলে অবশ্যই আমি নাটকটি দেখার চেষ্টা করব। এত সুন্দর নাটক রিভিউ করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
যেহেতু আপনি নাটকটি এখন পর্যন্ত দেখেন নি তাই আমি আপনাকে বলতে চাই অবশ্যই নাটকটি দেখবেন আশা করি আপনার অনেক বেশি ভালো লাগবে। এবং যথেষ্ট শিক্ষনীয় একটি নাটক। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
দেখতে দেখতে এই নাটকের চল্লিশতম পর্ব নিয়ে চলে আসলেন আপনি৷ এই নাটকের রিভিউটি দেখে খুবই ভালো লাগলো৷ এরকম সুন্দর একটি নাটক দেখতে পেরে খুবই আনন্দিত হলাম৷ আর আপনি খুবই ভালোভাবে এই নাটকের রিভিউ দিয়েছেন৷
আমি চেষ্টা করেছি নাটকটার রিভিউ আপনাদের মাঝে চমৎকারভাবে শেয়ার করার। প্রতিনিয়ত আমি সেটাই করে যাচ্ছি আমার এই নাটক রিভিউ আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম ধন্যবাদ।
ভাই আপনি আমাদের মাঝে দারুণ একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এই নাটকের বেশ কিছু পর্ব আমিও দেখেছি বেশ ভালই লাগে। ঠিক বলেছেন ভাই আপনি প্রতিটা ছেলে তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বলতে পারে না যে বিয়ে করার কথা। তবে নাটকের মূল বিষয়গুলো আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য।
বর্তমান সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে গ্রামে এমন অনেক মানুষ আছে যারা বিয়ের কথা বাবা মার কাছে বলতে পারছে না আর বাবা-মা ও তাদেরকে বিয়ে দিচ্ছে না। এই ব্যাপারটা আমার কাছে বরাবরই অনেক বেশি খারাপ লাগে এটাই না চোখের মূল বিষয়বস্তু। মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।