স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল
আজ--০৮ পৌষ | ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |সোমবার | শীতকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।
- আজ--০৮মপৌষ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
- সোমবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ দুপুর সবাইকে......!!
ছোটবেলা থেকেই আমরা একটা জিনিস অনেক ভালোভাবেই শিখেছি এবং জেনেছি সেটা হচ্ছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। যখন আমরা প্রাইমারি স্কুল শেষ করে যখন মাধ্যমিকে আসলাম তখন এই স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল এটা নিয়ে ভাব সম্প্রসারণ ছিল সেখান থেকে এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমরা খুব ভালোভাবে পরিচিত। স্বাস্থ্য যে সকল সুখের মূল এটা আমরা সকলেই বিশ্বাস করি কারণ শরীর যদি ভালো না থাকে তাহলে আপনি কোন কিছুতেই সুখ খুঁজে পাবেন না। হতে পারে আপনি অনেক টাকা পয়সার মালিক আপনার ধন দৌলত গাড়ি-বাড়ি সবকিছুতেই আপনি পরিপূর্ণ কিন্তু আপনার যদি শরীর ভালো না থাকে তাহলে আপনি কোন কিছুতেই সুখ খুঁজে পাবেন না এবং আপনি সুখী হবেন না। সুখী হতে হলে মনের দিক দিয়ে অনেক বেশি যত্নশীল হতে হয় শরীরের প্রতি। প্রতিটা মানুষের উচিত নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া নিজের শরীরকে সঠিক সময়ে সঠিক বিশ্রাম সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দেয়া এতে করে শরীর এবং মন দুটোই ভালো থাকবে আর শরীর এবং মন দুটোই যখন ভালো থাকবে তখন আপনি নিজের কাছে অন্যরকম এক তৃপ্তি খুঁজে পাবেন। আর এটাকেই হয়তোবা আপনি সুখ হিসেবে আখ্যায়িত করবেন। কেন আমি আপনাদের মাঝে এরকম একটা পোস্ট শেয়ার করছি সে ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাক।
গত কয়েকদিন আগে আমরা দুপুরের লাঞ্চ করতে সবাই বাসায় এসেছিলাম হাতেগোনা কয়েকজন কাজকর্মের জন্য দুপুরে লাঞ্চ করতে যাইনি তার মধ্যে আমাদের ডেপুটি ম্যানেজার স্যার একজন। সে হয়তো বা কোন একটা কারণে দুপুরে লাঞ্চ করতে বাসায় যায়নি যাই হোক আমি লাঞ্চ করে সবেমাত্র রুমে প্রবেশ করে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়েছি একটু বিশ্রাম নিবো বলে। ঠিক তখনই এক বড় ভাইয়ের ফোন আসলো এবং বলল দ্রুত তুমি ফ্যাক্টরির মেডিকেলের সামনে চলে আসো আমি তার কাছে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতেই সে বলল স্যার হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে গিয়েছে দ্রুত মেডিকেলের সামনে চলে আসো। একথা শুনে আর বেশিক্ষণ রুমে থাকেনি দ্রুতই মেডিকেলের সামনে চলে গিয়েছিলাম আর আমি যেহেতু ফ্যাক্টরির মধ্যেই থাকি মেডিকেলের তৃতীয় তলায় যার কারণে নিচতলায় যেতে আমার খুব একটা বেশি সময় লাগেনি। মেডিকেল রুমে প্রবেশ করাতেই দেখি ডিপুটি ম্যানেজার বেডে শুয়ে আছে নাকের উপরের অংশ কিছুটা কেটে গিয়েছে। সত্যি বলতে স্যারকে এরকম অবস্থায় দেখে নিজের কাছে অনেক বেশি খারাপ লাগছিল কারণ তাকে কখনোই এরকম অবস্থায় দেখিনি।
আমাকে দেখে এক বড় ভাই এসে পাশে বসলো, এরপরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এরকম ভাবে কিভাবে হল। কোথাও কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যা হয়েছে কি। মূলত আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো বা কোথাও কোন মেশিনে কাজ দেখতে গিয়েছিল আর সেই কাজ দেখতে গিয়েই হয়তোবা এরকম অবস্থা হয়েছে কারণ নাকের উপরের অংশ অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। এরপরে বড় ভাই আমাকে জানায় রুমের মধ্যে থেকে হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল। পাশে থাকা এক বড় ভাই আবার আমাকে বলল যে আমরা কয়েকজন গল্প করছিলাম হঠাৎ করেই স্যার উঠে দাঁড়াতেই মাথা ঘুরে পড়ে যায় আমরা ধরে ফেলার আগেই সে টেবিলের উপর খুব জোরে পড়ে গিয়ে নাক কেটে গিয়েছে অনেকটাই। মেডিকেলের মধ্যে থাকা ডাক্তার এবং নার্স সকলেই স্যারের যত্ন নিচ্ছিল সেবা করছিল আর আমি অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম তবে নিজের কাছে আসলেই অনেক বেশি খারাপ লাগছিল।
অনেকটা সময় সেখানে বসে থাকার পরে বড় দুই ভাই বলল তুমি কি লাঞ্চ করে এসেছ...? আমি তাদেরকে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক মন্তব্য করায় তারা বলল তুমি তাহলে এখানে থাকো আমরা লাঞ্চ করে আসি। এরপরে আমি তাদেরকে বিদায় জানিয়ে স্যারের পাশে বসে ছিলাম অনেকটা সময় ততক্ষণে তিনি ঘুমিয়ে গিয়েছে। পাশে বসে আছি আর বসে বসে ভাবছি মানুষের জীবনটা আসলেই ক্ষণিকের। যেই মানুষটার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও বসে অনেকটা সময় গল্প করে আসলাম অনেক বিষয়ে কথা বলে আসলেন তার কিছুক্ষণ পরেই এই মানুষটা আমার চোখের সামনে এরকম ভাবে শুয়ে আছে যে কিনা কোন কথাও বলছে না চুপচাপ শুয়ে আছে। এই ব্যাপারটা দেখে খুবই খারাপ লাগছিল হঠাৎ করেই চোখ খুলে সে জিজ্ঞেস করল আর সবাই কোথায়। আমি তাকে বললাম সবাই লাঞ্চ করতে গিয়েছে এরপরে সে আমাকেও বলল তুমি লাঞ্চ করে আসো আমি তাকে বললাম আমি লাঞ্চ করেই এসেছি স্যার সমস্যা নেই আপনি রেস্ট করেন। এরপরে সে আবার ঘুমিয়ে গিয়েছিল, অনেকটা সময় ঘুমানোর পরে ঘুম থেকে যখন উঠল তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এখন কেমন লাগছে। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক মন্তব্য করে বলল একটু ভালো লাগছে।
এরপরে আমি তাকে বলি, যেহেতু এখন একটু ভালো লাগছে তাহলে স্যার লাঞ্চ করে আসুন। এরপরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি স্যার সকালে খাওয়া দাওয়া করেছিলেন ঠিক মত। এটা শোনার পরে সে আমাকে বলল তোমার ম্যাডাম বাসায় নেই যার কারণে গত কয়েকদিন যাবত খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করতে পারছিনা, রান্নাবান্নাও বাসায় খুব একটা করা হচ্ছে না আর আমি রান্না তো একদমই পারি না বাহিরে হোটেলের খাবার খেয়ে আমার অবস্থায় একদমই খারাপ হয়ে গিয়েছে। আবার এমনিতে আমার ডায়াবেটিস আছে সকালে খিচুড়ি খেয়েছি যার কারণে গ্যাসের তীব্রতা এতটা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যে নিজেকে আর ধরে রাখতেই পারিনি। এরপরে আমি স্যারকে ধরে নিয়ে অফিসের ক্যান্টিনে চলে যাই। স্যারকে ক্যান্টিনে বসিয়ে দিয়ে আমি চলে আসি। এরপরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে দেখি স্যার একা একাই হেঁটে হেঁটে অফিস রুমে চলে এসেছে বুঝতেই পারছিলাম যে সে এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছে।
এরপরে স্যারের সঙ্গে বসে আবার কিছুটা সময় গল্প করছিলাম। অনেকেই স্যারকে দেখতে আসছিল। শেষ পর্যায়ে এসে স্যারের কিছু কথা আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। সে বারবার এটাই বলছিল যে মানুষের জীবন আসলে ক্ষনিকের কখন থেকে কখন কি হয়ে যায় এটা কেউ কখনোই বলতে পারে না। আমি সারাদিন ভালই ছিলাম দুপুরের পর থেকেই দেখো আমার অবস্থা কতটা খারাপ হয়ে গিয়েছে মানুষ যে কোন সময় মৃত্যুবরণ করতে পারে আর অবশ্যই আমাদের এই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আর প্রস্তুত থাকাটাই উচিত। এরকম কথা শুনে বেশ ভালোই লাগছিল তবে আমিও এটাই মনে করি মৃত্যু মানুষের কখন আসবে সেটা কেউ কখনো জানে না তাই আমাদের সবসময়ই নিজেদেরকে সেই রকম ভাবেই তৈরি থাকা উচিত। এটাই ছিল আমার আজকের সংক্ষিপ্ত পোস্ট আশা করছি আমার এই পোস্ট আপনাদের ভালো লেগেছে। সকলেই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে....!!
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্ট খুবই ভালো লেগেছে। আমার এই পোস্ট পরে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে আশা রাখি। আপনার সুন্দর মন্তব্যই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা
| বিভাগ | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| বিষয় | স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল |
| পোস্ট এর কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | [সংযুক্তি]source |
আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নেম @jibon47। আমি মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে অনেক বেশি ভালোবাসি। আব্বু আম্মু আর ছোট বোনকে নিয়েই আমার পরিবার। এই তিনজন মানুষকে কেন্দ্র করেই আমার পৃথিবী।একসাথে সবাইকে খুশি করা তো সম্ভব নয়, তারপরও আমি চেষ্টা করি পরিবারের সবাইকে খুশি রাখার। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে।আমি বর্তমানে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং লেখাপড়া করছি। আমি গান গাইতে, কবিতা লিখতে, এবং ভাই ব্রাদারের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে অনেক বেশি ভালোবাসি। সত্যি বলতে আমি প্রচন্ড রকমের অভিমানী, হতে পারে এটা আমার একটা বদ অভ্যাস। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব,"আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি।
@jibon47
VOTE @bangla.witness as witness
OR
কখন কার কি হয় কেউ বলতে পারেনা। এখন মানুষের বিভিন্ন রকমের অসুস্থতা জানো ভর করে ফেলেছে। কারো রক্ত সফলতা আবার কারোর প্রেসার অনিয়ন্ত্রণ আবার অনেকের ডায়াবেটিস। হয়তো উনিও বুঝছিলেন না হঠাৎ এমন হবেন। অনেকের মধ্য থেকে হঠাৎ করে মাথা ঘুরে যাওয়া এরপর অসুস্থ হয়ে পড়া। আসলে এগুলো কখন কিভাবে হয়ে উঠবে আমরা নিজেরাও জানিনা। তাই আমাদেরও সাবধানে থাকতে হবে। আর মাথায় রাখতে হবে সুস্থতা আমাদের সকলের জন্য বড় নেয়ামত।
আসলেই ভাই বর্তমান সময় মানুষের কখন কি হচ্ছে বা কখন কি হবে এটা কেউই বলতে পারেনা। এটাও সত্য যে সুস্থতা আমাদের সকলের জন্য আসলেই অনেক বড় একটা নেয়ামত আর এটা আমরা তখনই বুঝতে পারি যখন আমরা অসুস্থ হই। সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। আসলে মানুষের নিশ্বাসের কোন বিশ্বাস নেই। আমরা এখন ভালো আছি তবে দুই মিনিট পরে কেমন হব বুঝা মুশকিল। এমনটা শুধু আপনার স্যার নয় সবার হতে পারে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
মেশিনে কাজ করতে গিয়ে এরকম হঠাৎ করে অসুস্থ হওয়াটা সত্যি অনেক মুশকিল। আসলে কার ভেতরে কি চলছে সেটা বোঝা যায় না। সুস্থ থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সচেতন থাকতে হবে এবং আমাদের প্রত্যেকেরই নিজের প্রতি অনেক বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
আমিও মনে করি স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল। আর তাই তো সুস্থ্য দেহের মর্যাদাই আলাদা। মানুষ যতই সুস্থ্য থাকে ততই কর্মখম হয়। নিজের জন্য নতুন জীবন এবং সুন্দর জীবন তৈরি করে নিতে পারে। আর অন্য দিকে মানুষ যদি সব সময় অসুস্থ থাকে তাহলে তার কিন্তু জীবন টাই শেষ হয়ে যায়।