সরিষা দিয়ে কাঁচা আম মাখা রেসিপি
আজ - ১৬ বৈশাখ | ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | শনিবার | বসন্তকাল |
আসসালামু ওয়ালাইকুম,আমি জীবন মাহমুদ, আমার ইউজার নাম @jibon47। বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
- প্রিয় কমিউনিটি,আমার বাংলা ব্লগ
- কাঁচা আম মাখা রেসিপি
- আজ ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
- শনিবার
তো চলুন শুরু করা যাক...!
শুভ বিকেল সবাইকে......!!
কাঁচা আমবাটা খেতে কার না ভালো লাগে আপনারাই বলুন...!! বর্তমান সময়ে আমের সিজন প্রায় চলে এসেছে আর এই আমের সিজন এর সময়ে ছোট বড় সব কলেই আমবাটা খেতে অনেক বেশি পছন্দ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমবাটা খেতে আমি খুবই পছন্দ করি বিশেষ করে প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে এরকম আম বাটা খেলে নিজের কাছে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে শরীর যখন অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে আর এই ক্লান্ত শরীরে যদি একটু টক খাওয়া হয় তাহলে নিজের মধ্যে এক প্রশান্তি কাজ করে আর এই প্রশান্তির খোঁজেই আজ এরকম আম বাটা খেয়েছিলাম। সকালবেলা ফ্রেশ হয়ে বাজারে গিয়েছিলাম বাজার থেকে আসতে আসতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল সেই সাথে শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রচন্ড গরম। বাসায় এসেই ভেবেছিলাম নিজেদের গাছ থেকে আম পেড়ে খাব এসেই দেখি যে আমার ছোট বোন অলরেডি গাছ থেকে আম পেড়ে নিয়ে এসে কাঁচা আম মাখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা দেখে নিজের জিভের জল চলে আসলো আমিও তার সঙ্গে তার কাজে কিছুটা সাহায্য করে দ্রুত আম বাটা তৈরি করে ফেললাম। তাহলে চলুন এবার আমবাটা রেসিপিটি দেখে আসি।
- মরিচ
- ধুনের গুড়া
- লবণ
- সরিষা
সর্ব প্রথমে কাঁচা আমগুলো গাছ থেকে পেড়ে এনে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার পানি দিয়ে আম ধুয়ে নেওয়ার পরে এবার উপরের ছাল ছাড়াতে হবে। উপরের চামড়া ফেলে দেওয়ার পরে খুবই চমৎকার ভাবে আলাদা আলাদা ভাবে কেটে নিতে হবে। আলাদাভাবে কেটে নেওয়ার পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিতে হবে যাতে করে আমের গায়ের সঙ্গে কস লেগে না থাকে।
এরপরে খুবই চমৎকার ভাবে আমগুলো পাটায় বেটে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আনতে হবে। প্রথমে আমগুলো থোতা করে নিতে হবে। যাতে করে পরবর্তীতে বাটতে কোনোরকম সমস্যা না হয়। ঠিক উপরের চিত্রে যেরকম ভাবে দেখতে পাচ্ছেন ঠিক সে রকম ভাবেই থোতা করে নিতে হবে।
আমগুলো থোতা করে নেওয়ার পরে খুবই চমৎকারভাবে বাটতে হবে। যত বেশি বাটা হবে আমগুলো তত বেশি কুচি কুচি হয়ে যাবে। আপনারা যদি এরকম ভাবে বাটতে না চান তাহলে আরেকটি প্রক্রিয়া আছে সেটা হচ্ছে যে, আম কুচি মেশিনের সাহায্যে আরো ছোট ছোট করে নিতে পারেন তবে মেশিনের সাহায্যে ছোট ছোট করলে তেমন একটা খেতে সুস্বাদু লাগে না আমার কাছে।
এরপরে কয়েকটি মরিচ নিতে হবে অবশ্যই মরিচগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে কয়েকবার ধুয়ে নিতে হবে।
কয়েকটি মরিচ নেওয়ার পরে এবার পরিমাণ মত লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে লবণের পরিমাণ যেন বেশি না হয়ে যায়। তবে লবণের পরিমাণটা বেশি হলেও সমস্যা নেই।
এবার মরিচ এবং লবণ পাটার উপর রেখে চটকে নিতে হবে। এমন ভাবে চটকিয়ে নিতে হবে যেন মরিচ এবং লবণ একত্রে মিশে যায় খুবই ভালোভাবে মিহি করে চটকিয়ে নিতে হবে। ঠিক উপরের চিত্রের নয়।
এরপরে পরিমাণ মতো সরিষা নিতে হবে তবে সরিষা গুলো অবশ্যই পানি দিয়ে কয়েকবার ধরে নিতে হবে যাতে করে সরিষার মধ্যে কোন রকম ময়লা/মাটি না থাকে, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। এরপরে পড়বেন ন্যায় খুবই চমৎকার ভাবে সরিষা বেটে নিতে হবে।
এবার আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন উপরের চিত্রের ন্যায় প্রতিটি উপকরণ খুবই চমৎকারভাবে বেটে নিয়েছি। আপনারা চাইলে এগুলো মিহি করার জন্য মেশিন ব্যবহার করতে পারেন এতে করে আরো বেশি মিহি হবে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় এরকমভাবে বেটে নিলে খেতে আরও বেশি সুস্বাদু লাগবে।
এরপরে উপকরণ গুলোর মাঝে থোতা করা আম রেখে দিন। কিছুটা সময় রেখে দেওয়ার পরে আম থেকে পানি বের হয়ে যাবে পানিটুকু আলাদা করে ফেলুন। পানি বের করে দেওয়ার পর আমগুলো একটু শুকনো হয়ে যাবে।
এরপরে খুবই চমৎকারভাবে প্রতিটি উপকরণের সঙ্গে আম নারানারি করতে হবে। এমন ভাবে নারানারি করতে হবে যেন প্রতিটি উপকরণের সাথে আম ভালোভাবে মিশে যায়। কিছুটা সময় এই নারানারীর প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হবে।
এই নাড়ানাড়ির প্রক্রিয়া চলমান রাখার পরে ঠিক উপরের চিত্রের ন্যায় আম এবং উপকরণ একত্রে মিশে যাবে। এরপরে আমের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। যদি লবণ এবং ঝাল এর পরিমাণ ঠিক থাকে তাহলে বুঝতেই পারছেন কি করতে হবে। সবাই মিলে কাড়াকাড়ি করে খাওয়ার মাঝে অন্যরকম আনন্দ আছে, তাই যে যত বেশি কাড়াকাড়ি করে খেতে পারে,সে ততই বেশি খেতে পারবে।
সব মিলিয়ে আমি আপনাদের এটাই বলতে চাই যে যেহেতু এখন আমের সিজন চলে এসেছে। এখন অনেকেই অনেক মজাদার এবং ইউনিক ধরনের আমের রেসিপি তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করবে এটা আমরা সকলেই জানি। তবে সরিষা দিয়ে যদি এরকম ভাবে কাঁচা আম মাখা হয় তাহলে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগবে বলে আমার মনে হয়। যদি কখনো সময় হয় তাহলে অবশ্যই এরকম রেসিপি তৈরি করে খেয়ে দেখবেন, আশা করছি খেতে খুবই সুস্বাদু লাগবে।
এটাই ছিল আমার আজকের সরিষা দিয়ে আম মাখা রেসিপি। আশা করছি এই রেসিপিটি আপনাদের খুবই ভালো লেগেছে। আজ আর নয় এখানেই শেষ করছি আমার এই সংক্ষিপ্ত পোস্ট। সকলেই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবারের সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে....!!
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি আশা করিছি আপনারা সবাই আমার পোষ্ট উপভোগ করবেন এবং আপনারা সবাই আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন
| বিভাগ | মজাদার রেসিপি । |
|---|---|
| ডিভাইজ | Realme 6i |
| বিষয় | সরিষা দিয়ে কাঁচা আম মাখা রেসিপি |
| কারিগর | @jibon47 |
| অবস্থান | সংযুক্তি |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
যেহেতু আমের সৃজন চলছে তাই এখন প্রায় সব জায়গায় আম পাওয়া যাবে। আমিও আজকে আম মাখা খেয়েছি। ভীষণ ভালো লাগছে আমাকে খেতে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে। যদিও কখনো সরিষা বাটা দিয়ে খাইনি। এভাবেও একবার টেস্ট করে দেখব।
এভাবে সরিষা দিয়ে কাঁচা আম মাখা আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার রেসিপিটি দেখে লোভ সামলানো যাচ্ছে না। আপনি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ একটি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।
সরিষা দিয়ে কাঁচা আম মাখা রেসিপি দেখে তো লোভ সামলাতে পারলাম না। এভাবে তৈরি করে খেতে ভীষণ মজা লাগে। আমিও আজকে কাঁচা আম মাখা খেয়েছি। খেয়ে তো দাঁতের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছি। আপনার পোস্ট ভিজিট করে ভালো লাগলো।
এত লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করা একদম ঠিক নয় ভাইয়া😅।শেষে দেখবেন পেটে সমস্যা হয়ে গেছে। সত্যি ভাইয়া এভাবে আম মাখালে খেতে অনেক ভালো লাগে। কাঁচা আম এখন খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা আম সরিষা বাটা দিয়ে এত সুন্দর ভাবে মাখিয়েছেন দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে। দেখতে খুবই লোভনীয় লাগছে।
সরিষা দিয়ে কাঁচা আম মাখা রেসিপি দেখে সুস্বাদু মনে হচ্ছে। তাই খেতে ইচ্ছা করছে। আপনার রেসিপি পরিবেশন আমার খুবি ভালো লেগেছে।শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার আম মাখানো দেখে আমার জিভে জল চলে এলো।😋আমি আম ভর্তা খেতে খুব পছন্দ করি।কাসুন্দি দিয়ে আম মেখে খেতে দারুন লাগে।আপনার মাখানো আম বেশ লোভনীয় হয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
আমের মৌসুম আসলে কাঁচা আমের ভর্তা না খেলে ভালই লাগে না। গরমের মধ্যে আম ভর্তা খেলে প্রশান্তি লাগে। আপনি কাঁচা আম দিয়ে খুব মজার একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। ভর্তা মাখানোর পরিবেশন দেখে খুব খেতে ইচ্ছে করছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
এভাবে আম খেতে অনেক টেস্ট লাগে। এখন আমের সময় অনেকে আম ভর্তা ও অনেকে কাঁচা আম মেখে থাকছে। এরকম আম মাখা খেতে দুপুরবেলা অনেক ভালো লাগে। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে পাটায় সরিষা বেটে আম মাখা রেসিপি শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।