কবিতা আবৃত্তি/ কবি "জসিম উদ্দিন" এর কবিতা "নিমন্ত্রণ"
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আজ আপনাদের সাথে একটি কবিতা আবৃত্তি নিয়ে হাজির হলাম। আমি প্রতি সপ্তাহে চেষ্টা করি একটি করে কবিতা আবৃতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার। যদিও আপনাদের মত এত সুন্দর কবিতা আবৃতি করতে পারি না তবে চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনাদের কাছে খুব একটা খারাপ লাগবে না। আজকে আমি যে কবিতাটি আবৃতি করব সেটি হচ্ছে কবি "জসিম উদ্দিন" এর কবিতা "নিমন্ত্রণ"।
নিমন্ত্রণ
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া।
তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে, ছোট সে কাজল গাঁয়,
গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়।
সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া
দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া,
বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়,
বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়!
তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে – নরম ঘাসের পাতে
চম্বন রাখি অধরখানিতে মেজে লয়ো নিরালাতে।
তেলাকুচা – লতা গলায় পরিয়া
মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,
হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,
তোমার গায়ের রংখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।
তুমি যদি যাও আমাদের গাঁয়ে, তোমারে সঙ্গে করি
নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী।
মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া
তোর সনে দেই মিতালী করিয়া
ঢেলা কুড়িইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি,
সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি।
তুমি যদি যাও – দেখিবে সেখানে মটর লতার সনে,
সীম আর সীম – হাত বাড়াইলে মুঠি ভরে সেই খানে।
তুমি যদি যাও সে – সব কুড়ায়ে
নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে,
খাব আর যত গেঁয়ো – চাষীদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে,
হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব দুইজনে।
তুমি যদি যাও – শালুক কুড়ায়ে, খুব – খুব বড় করে,
এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে,
কারেও দেব না, তুমি যদি চাও
আচ্ছা না হয় দিয়ে দেব তাও,
মালাটিরে তুমি রাখিও কিন্তু শক্ত করিয়া ধরে,
ও পাড়ার সব দুষ্ট ছেলেরা নিতে পারে জোর করে;
সন্ধ্যা হইলে ঘরে ফিরে যাব, মা যদি বকিতে চায়,
মতলব কিছু আঁটিব যাহাতে খুশী তারে করা যায়!
লাল আলোয়ানে ঘুঁটে কুড়াইয়া
বেঁধে নিয়ে যাব মাথায় করিয়া
এত ঘুষ পেয়ে যদি বা তাহার মন না উঠিতে চায়,
বলিব – কালিকে মটরের শাক এনে দেব বহু তায়।
খুব ভোর ক’রে উঠিতে হইবে, সূয্যি উঠারও আগে,
কারেও ক’বি না, দেখিস্ পায়ের শব্দে কেহ না জাগে
রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে
ডানকিনে মাছ কিলবিল করে;
কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগে ভাগে
সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে।
ভর দুপুরেতে এক রাশ কাঁদা আর এক রাশ মাছ,
কাপড়ে জড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ।
ওরে মুখ – পোড়া ওরে বাঁদর।
গালি – ভরা মার অমনি আদর,
কতদিন আমি শুনি নারে ভাই আমার মায়ের পাছ;
যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ।
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।
ঘন কালো বন – মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়।
গাছের ছায়ায় বনের লতায়
মোর শিশুকাল লুকায়েছে হায়!
আজি সে – সব সরায়ে সরায়ে খুজিয়া লইব তায়,
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গায়।
তোরে নিয়ে যাব আমাদের গাঁয়ে ঘন-পল্লব তলে
লুকায়ে থাকিস, খুজে যেন কেহ পায় না কোনই বলে।
মেঠো কোন ফুল কুড়াইতে যেয়ে,
হারাইয়া যাস পথ নাহি পেয়ে;
অলস দেহটি মাটিতে বিছায়ে ঘুমাস সন্ধ্যা হলে,
সারা গাঁও আমি খুজিয়া ফিরিব তোরি নাম বলে বলে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
জসিম উদ্দিন আমাদের পল্লী কবি। তার লেখা কবিতাগুলো আমার খুবই ভালো লাগে। ভালোলাগা কবিতার মধ্যে নিমন্ত্রণ একটি কবিতা। আপনি কবিতাটি আপনার কন্ঠে খুবই সুন্দর ভাবে আবৃত্তি করেছেন। আপনার কন্ঠে খুবই ভালো লেগেছে। সুন্দর একটি কবিতা আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সুন্দর ও গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য। আপনার জন্য শুভকামনা অবিরাম।
নিমন্ত্রণ কবিতাটি এত সুন্দর ভাবে আবৃতি করেছেন শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম আপু। আপু আপনি কিন্তু দারুণ কবিতা আবৃতি করেন।অনেকদিন পর আপনার মিষ্টি কন্ঠে কবিতা আবৃতি শুনে ভালো লাগলো। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপু।
আমার কবিতা আবৃতি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে আমিও খুবই আনন্দিত হলাম। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
আমার প্রিয় কবিদের মধ্যে পল্লী কবি জসীমউদ্দীন অন্যতম। আপনি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতা নিমন্ত্রণ চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে আবৃত্তি করেছেন। শুনি খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে এত দুর্দান্ত কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাদের ভালোলাগা আমার কাজের সার্থকতা সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
জসীমউদ্দীনের নিমন্ত্রণ কবিতাটি দারুন ভাবে আবৃত্তি করে আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন আপু। আপনার কন্ঠে জসীমউদ্দীনের এই কবিতা আবৃত্তিটা শুনতে খুবই ভালো লাগলো আমার।
আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপু দেখছি অনেক সুন্দর করে আবৃত্তি করেছেন। কবি জসিম উদ্দিনের নিমন্ত্রণ কবিতা। আপু আমি এই প্রথম আপনার কন্ঠে আবৃত্তি শুনলাম। এরপর থেকে এমন আরও কিছু কবিতা আবৃত্তি চাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল আপু।
চেষ্টা করব আপনাদেরকে আরো কবিতা আবৃতি করে শোনানোর জন্য। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
এর আগেও আপনার কবিতা আবৃত্তি আমার সোনার ভাগ্য হয়েছিল। বেশ সুন্দর এবং চমৎকার কবিতা আবৃত্তি করেন আপনি। আজ আবার পল্লীকবি জসিম উদ্দিন' নিমন্ত্রণ কবিতাটি বেশ সুন্দর করে আবৃত্তি করেছেন। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর আবৃত্তি করার জন্য।
সুন্দর মন্তব্য করে আমাকে আরো উৎসাহিত করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা অবিরাম।
পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সমস্ত কবিতা গুলো আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। তার কবিতার মধ্যে মিশে রয়েছে বাংলার প্রাণ ভূমির অনেক চিত্র। আপনি খুব সুন্দর ভাবে আপনার কন্ঠে আবৃত্তি করেছেন বলে খুবই ভালো লাগলো আমার কাছে। জসীমউদ্দীনের কবিতাটি আবৃত্তি করে আমাদের শুনেছেন শুনে অনেক ভালো লাগলো এবং আমি অনেক খুশি হয়েছি।